মাকসুদ আহম্মদ, বিশেষ প্রতিবেদক»
চট্টগ্রামের কুমিরার গুপ্তছড়া ঘাটে আগন্তুকদের আনাগোনা বেড়েছে। ২০১৭ সালের ১৮ আগষ্টে মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গাদের উপর বর্বর নির্যাতন চালায় মিয়ানমারের সেনা সদস্যরা। এর পর থেকে প্রতিদিনই অচেনাদের ভীড় জমে গুপ্তছড়া ঘাটে। সম্পতি ভাসানচর থেকে নৌকায় ভাটিয়ারী ও কুমিরার আশপাশ এলাকায় রোহিঙ্গাদের অবস্থানের অভিযোগ পাওয়া গেছে স্থানীয়দের মাঝে। ইতোমধ্যে রোহিঙ্গারা সন্দ্বীপে স্পীড বোটে যাওয়া আসা করছে এমন তথ্য রয়েছে বোটের চালকদের কাছে। চট্টগ্রামের ভাষার সঙ্গে মিল থাকায় এদের চিনতে কষ্ট হচ্ছে স্থানীয়দের।
চট্টগ্রাম থেকে সন্দ্বীপগামী এই ঘাটে রোহিঙ্গাদের অবস্থান নিয়ে শঙ্কিত এলাকাবাসী। ঘন্টার পর ঘন্টা রেহিঙ্গা তরুণরা পর্যটকের বেশে এই ঘাটে অবস্থান নিয়ে নিজেদের ভাষায় কথোপকথনে ব্যস্ত থাকছে। ফলে স্থানীয়দের সন্দেহের তীর রোহিঙ্গাদের দিকে। উল্লেখ্য, কুমিরা, বারবকুন্ড ও সন্দ্বীপে চট্টগ্রামের মানুষের বসবাস আছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ এদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হলে এরা বাংলা ভাষা বোঝেনা এমন একটা ভাব দেখাচ্ছে। ফলে সন্দেহের মাত্রা দানা বাঁধছে এরা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী কি না বা সন্দ্বীপে পাড়ি জমানোর চেষ্টা করছে কি না। তবে সীতাকুন্ড থানা পুলিশের কোন টিম সেখানে না থাকায় এদের প্রতি সন্দেহ থাকলেও আইনের কাছে সোপর্দ করা যাচ্ছে না।
অভিযোগ রয়েছে, ভোর সকাল থেকেই রেহিঙ্গাদের আনাগোনায় কুমিরা ও আশপাশ এলাকার মানুষের মধ্যে সন্দেহ সৃষ্টি হচ্ছে। কারণ এরা দল বেঁধে বেঁধে ঘাটের রেলিংয়ের উপর বসে আড্ডা মারে ঘন্টার পর ঘন্টা। আবার অনেক সময় ঘাটে পায়চারী করছে। এরা যে ভাষায় কথা বলে তা আবার কুমিরা ও বাড়বকুন্ড এলাকার মানুষের সঙ্গে মিলছে না। ফলে তারা কি নিয়ে বা কোন বিষয়ে কথা বলছে তা বুঝতে পারছেন না স্থানীয়রা। আবার এসব তরুণরা পোশাক পরিচ্ছদেও খুবই স্মার্ট। ফলে স্থানীয়দের সন্দেহটা অনেক বেশী। কুমিরা ও বাড়বকুন্ড এলাকার পাহাড়ে কিছু নতুন মুখের সন্ধান মিলছে। তারা পাহাড়েই বসবাস করছে।

সীতাকুন্ড থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মীরসরাই ও সীতাকুন্ড উপজেলার পাহাড়ী কিছু অংশে উপজাতীয়দের বসবাস রয়েছে। এরা সাধারনত পাহাড়ের ঢালেই বসবাস করে পাহাড়েই তারা তাদের জীবিকা নির্বাহ করে। এরা কুমিরা ঘাট দিয়ে স›দ্বীপে যাতায়ত করে। তবে ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের বিষয়ে সরকার ও প্রশাসন সচেষ্ট রয়েছে। এছাড়াও এ বিষয়ে পুলিশ প্রশাসনের বৈঠকও হয়েছে। যাহাতে কোন রোহিঙ্গাকে পাহাড়ে আবাসস্থলে থাকার ব্যবস্থা না করে। কুমিরা-গুপ্তছড়া ঘাটে রোহিঙ্গাদের অবস্থান থাকার কথা নয়। এ ব্যাপারে আমরা সচেষ্ট আছি। কোন ভাবেই যেন রোহিঙ্গারা এলাকায় অবস্থান নিতে না পারে সে বিষয়ে একাধিক টিম কাজ করছে।
বাংলাধারা/এফএস/এফএস










