১৮ মার্চ ২০২৬

কক্সবাজারের ২১ ইউনিয়নে মনোনয়ন পত্র জমা দিলেন এক হাজার ৩২৫ প্রার্থী

জেলা প্রতিনিধি, কক্সবাজার»

সারাদেশে দ্বিতীয় দফা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তুমুল হাওয়ার ধারাবাহিকতায় কক্সবাজারেও চলছে নির্বাচনের আমেজ। জেলার ২১ ইউনিয়নে ১১ নভেম্বর ভোট গ্রহণ হবে। রবিবার (১৭ অক্টোবর) ২১ ইউনিয়নে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিনে  এক হাজার ৩২৫ জন প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। ২১ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত কয়েকটি ইউনিয়নের একক প্রার্থীর বাইরেও বাকি সবকটি ইউনিয়নে দলের একাধিক নেতা বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

ক্ষমতাসীন দলের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছেন এসব বিদ্রোহী প্রার্থী। অনেকে দৌঁড়ঝাপের পর দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে তারা ‘স্বতন্ত্র’ প্রার্থী হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন। উপজেলার নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন রোববার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত নির্বাচন কার্যালয়ে উৎসবমুখর পরিবেশ ছিলো।

জেলা নির্বাচন অফিসের তথ্যমতে, ৩ উপজেলার ২১ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ১৪১ জন, মহিলা সদস্য পদে ২৩৫ জন এবং সাধারণ সদস্য পদে ৯৪৯ জন প্রার্থী শেষদিনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। জমাকৃত মনোনয়নপত্র বাছাই অনুষ্ঠিত হবে ২১ অক্টোবর । 

সূত্র মতে, দলীয় প্রতিকে এবং দলীয় একক প্রার্থী দিয়ে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামীলীগ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও অনেক ইউনিয়নে একাধিক প্রার্থী হওয়ায় শেষমেশ একতরফা নির্বাচন থেকে রক্ষা পেয়েছে এবারের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। তবে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গেলে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে কঠিন সিদ্ধান্ত নেয়া হবে এমনটাই ঘোষনা আছে কেন্দ্রে থেকে। উৎসবমুখর পরিবেশে প্রার্থীরা মনোনয়ন জমা দিয়ে প্রমান করেছে নির্বাচনের আমেজ এখনো ফুরিয়ে যায়নি।

জেলা নির্বাচন অফিসার মো. শাহাদাত হোসেন জানান, ১৭ অক্টোবর ৩ উপজেলার এক হাজার ৩২৫ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে সদরে ভারুয়াখালীতে ৬ জন চেয়ারম্যান, ১২ জন মহিলা মেম্বার, ৫২ জন সাধারন সদস্য। চৌফলদন্ডীতে চেয়ারম্যান ৭ জন মহিলা ১৮ জন, পুরুষ ৩৭ জন। ঝিলংজায় চেয়ারম্যান পদে ৬ জন, মহিলা ৭ জন, পুরুষ ৪২ জন। খুরুস্কুলে চেয়ারম্যান ৪ জন, মহিলা ১৫ জন, পুরুষ ৫৩ জন। পিএমখালীতে চেয়ারম্যান পদে ৭ জন, মহিলা ১৪ জন, পুরুষ ৪২ জন।  রামু উপজেলার চাকমারকুলে চেয়ারম্যান ৮ জন, মহিলা ৭, পুরুষ ৩০ জন। 

রামুর ফতেখারকুলে চেয়ারম্যান পদে ৪ জন, মহিলা ৭ জন, পুরুষ ৩৭ জন। র্গজনিয়া চেয়ারম্যান পদে ৮ জন, মহিলা মেম্বার ১২ জন, সাধারণ সদস্য ৪৪ জন। ঈদগড় চেয়ারম্যান ৭ জন, মহিলা ৯ জন, পুরুষ ৩৬ জন। জোয়ারিয়ানালা চেয়ারম্যান ৬ জন, মহিলা ১২ জন, পুরুষ ৪৪জন। কচ্চপিয়া চেয়ারম্যান ৭জন, মহিলা ৮ জন, পুরুষ ৩২ জন। খুনিয়াপালং চেয়ারম্যান পদে ১০ জন, মহিলা ১৩ , পুরুষ ৪৩ জন। কাউয়ারখোপ চেয়ারম্যান প্রার্থী ৮ জন, মহিলা মেম্বার ১১ জন, পুরুষ ৪০ জন। রশিদনগরে চেয়ারম্যান প্রার্থী ৪ জন, মহিলা ১১ জন, পুরুষ ৩৯ জন। রাজারকুলে চেয়ারম্যান প্রার্থী ১০ জন, মহিলা ১৩ জন পুরুষ ৪৩ জন। দক্ষিণ মিঠাছড়িতে চেয়ারম্যান পদে ৯ জন ,মহিলা ৯ জন পুরুষ মেম্বার ৪২ জন। 

উখিয়ার হলদিয়াপালং এ চেয়ারম্যান পদে ৯ জন, মহিলা মেম্বার পদে ১৪ জন এবং পুরুষ মেম্বার পদে রেকর্ড ৭১ জন। জালিয়াপালং এ চেয়ারম্যান পদে ১১ জন, মহিলা ১৪ জন, পুরুষ ৫১ জন। রাজাপালং এ চেয়ারম্যান পদে ৪ জন, মহিলা ৮ জন, পুরুষ মেম্বার ৬২ জন। রত্নাপালং এ চেয়ারম্যান পদে ৫জন, মহিলা ৮ জন, পুরুষ মেম্বার পদে ৪৭ জন। পালংখালীতে চেয়ারম্যান পদে ৭ জন, মহিলা সদস্য ১৩ জন এবং পুরুষ সদস্য পদে ৬৮ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। মোট ৩ পদে ১৩২৫ জন প্রার্থীর মধ্যে চেয়ারম্যান পদে ১৪১ জন, সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে ২৩৫ জন এবং সাধারণ সদস্য পদে ৯৪৯ জন প্রার্থী গতকাল তাদের মনোনয়নপত্র স্ব স্ব রিটার্নিং অফিসার বরাবরে জমা করেছেন।

সদরের পিএমখালী, ঝিলংজা এবং ভারুয়াখালী ইউনিয়নের রিটার্নিং অফিসার সদরের নির্বাচন কর্মকর্তা শিমুল শর্মা জানান, যেভাবে প্রার্থীরা উৎফুল্ল মনে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন শেষ পর্যন্ত প্রার্থীরা যাতে আচরনবিধি মেনে চলে এবং পরিচ্ছন্ন ও গ্রহনযোগ্য ভোটে প্রশাসনকে সহায়তা করে তাহলে এটি একটি উৎসব হবে। সকল প্রার্থী ভোটার এবং সংশ্লিষ্টরা যেন আচরণবিধি মেনে চলে, কোন ধরনের মন্দ পরিবেশ সৃষ্টি না করে সেদিকে প্রার্থীদের সজাগ দৃষ্টি রাখার অনুরোধ জানান এ কর্মকর্তা।

বাংলাধারা/এফএস/এফএস

আরও পড়ুন