বাংলাধারা প্রতিবেদক»
চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে আগামী ১১ নভেম্বর ১৬ ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।ইতিমধ্যে দলীয় ১৬ টি ইউনিটে নির্ধারণ করা হয়েছে আওয়ামী লীগ মনোনীত চূড়ান্ত প্রার্থীর তালিকা।এছাড়া শেষ দিনে বিশাল বহর নিয়ে নৌকার প্রার্থীরা জমা দিয়েছেন মনোনয়ন।
মিরসরাইয়ের ১৬ ইউনিয়নের মধ্যে চেয়ারম্যান পদে ৯ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী থাকলেও বাকি ৭ ইউনিয়নে রয়েছে দলের একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।অনেক ইউনিয়নে রয়েছে একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী।
উপজেলার যেসব ইউনিয়নে নৌকা মনোনীত প্রার্থী এবং বিদ্রোহী প্রার্থী নেই তাদের মধ্যে ১নং করেরহাট ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান ও চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক এনায়েত হোসেন নয়ন, ৪নং ধুম ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল খায়ের মো. জাহাঙ্গীর, ৫নং ওসমানপুর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান মো. মুফিজুল হক, ৬নং ইচাখালী ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান মো. নুরুল মোস্তফা, ৭নং কাটাছরা ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান মো. রেজাউল করিম চৌধুরী, ১১নং মঘাদিয়া ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গীর হোসাঈন মাষ্টার, ১৩নং ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান কবির আহম্মদ নিজামী, ১৪নং ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী এবং ১৬নং ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান মো. কামরুল হায়দার চৌধুরী।এই ৯ জন নির্বাচিত হতে পারেন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়।
বাকি ৭ টি ইউনিয়নে ৭ জন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে লড়তে মনোয়নয়নপত্র জমা দিয়েছেন ১২ জন।২নং হিঙ্গুলী ইউনিয়নে নৌকা মনোনীত প্রার্থী সোনা মিয়া।এছাড়া বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে আছেন পিন্টু নামে একজন আওয়ামী লীগ নেতা।৩নং জোরারগঞ্জে নৌকা মনোনীত প্রার্থী রেজাউল করিম মাষ্টার তবে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে আছেন দলের দু:সময়ের আরেক নেতা নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া।যিনি পালন দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করেছেন জোরারগঞ্জ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব।এছাড়া বর্তমানে দায়িত্বে আছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য হিসেবে।৮ নং দূর্গাপুর ইউনিয়ন থেকে আওয়ামী মনোনীত প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান আবু সুফিয়ান বিপ্লব।স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচন করবেন অনির্বান চৌধুরী রাজীব। ৯নং মিরসরাই (সদর) ইউনিয়ন থেকে নৌকার প্রার্থী শামসুল আলম দিদার,তবে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে আছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল্লাহ দিদার,ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. খায়রুল বশার ফারুক এবং মো. আজিম উদ্দিন। ১০ মিঠানালা ইউনিয়ন থেকে নৌকার মাঝি হলেন বর্তমান চেয়ারম্যান এম এ কাশেম।বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে আছেন সাবেক চেয়ারম্যান এস এম তাহের ভূইঁয়া।তবে নানা অভিযোগ রয়েছে ওই বিদ্রোহী প্রার্থীর বিরুদ্ধে।রয়েছ দূর্নীতিসহ নানা অপকর্মে জড়িত থাকার অভিযোগ।এছাড়া এই ইউনিয়নে জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী নুর হোসেন।রয়েছেন শেখ মইনুল হোসেন আরো এক বিদ্রোহী প্রার্থী। ১২নং খৈয়াছড়া থেকে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মাহফুজুল হক জুনু, জাতীয় পার্টি থেকে নুরুন নবী,বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করবেন বর্তমান চেয়ারম্যান জাহেদ ইকবাল চৌধুরী, তাছাড়া ১৫নং ওয়াহেদপুর ইউনিয়ন থেকে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান ফজলুল কবির ফিরোজ,স্বতন্ত্র প্রার্থী হয় লড়বেন মোহাম্মদ আলাউদ্দিন।
মিরসরাই ১৬ ইউনিয়নে পরিষদ থেকে মোট ২৮জন চেয়ারম্যান প্রার্থীর মধ্যে ১৬জন আওয়ামী লীগ মনোনীত এবং ১২ জন বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন। এগুলোর বেশ কয়েকটিতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর ছড়াছড়ি। ক্ষমাতাসীন দলের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছেন এসব বিদ্রোহী প্রার্থী। অনেক দৌঁড়ঝাপের পর দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে তারা ‘স্বতন্ত্র’ প্রার্থী হয়ে প্রতিদ্বন্ধিতায় নেমেছেন।এছাড়া উপজেলার ১৬ ইউনিয়ন পরিষদে সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে ১১১জন ও সাধারণ সদস্য পদে ৪৫১জন প্রার্থী তাদের মনোনয়ন জমা দিয়েছেন।
বিদ্রোহী প্রার্থীদের ব্যাপারে চট্টগ্রাম উত্তরজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ আতাউর রহমান বাংলাধারাকে বলেন,মনোনয়ন প্রত্যাহারের দিনক্ষণ এখনো বাকি আছে।আমরা চেষ্টা করছি উপজেলা আওয়ামী লীগের মাধ্যমে বিদ্রোহী প্রার্থীদের সাথে যোগসাজশ করতে যাতে দলের বিরুদ্ধাচরণ না করে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন।তিনি আরো বলেন,আমরা বঙ্গবন্ধুর আর্দশ নিয়ে রাজনীতি করি,আমরা দেশরত্ন শেখ হাসিনার কর্মী।কেউ শেখ হাসিনার কর্মী হয়ে থাকলে নৌকার বিরুদ্ধাচরণ করতে পারে না।
মিরসরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী বাংলাধারাকে বলেন,দলের বাইরে গিয়ে কেউ কোনো সংগঠন পরিপন্থী কাজ করলে এবং নৌকার বিরুদ্ধাচরণ করলে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এছাড়া তিনি বিদ্রোহীদের মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নৌকার পক্ষে কাজ করার আহ্বান জানান।
বাংলাধারা/এফএস/এফএস












