১৫ মার্চ ২০২৬

রোহিঙ্গাদের মোবাইলে বায়োমেট্রিক সিম

মাকসুদ আহম্মদ, বিশেষ প্রতিবেদক»

বায়োমেট্রিক নিবন্ধনের নামে রাস্তার মোড়ে মোড়ে মোবাইল অপারেটরদের প্রতিনিধি। সাধারন মানুষকে বিপদের দিকে ঠেলে দিচ্ছে এসব অপারেটরের লোকজন। এরা মোবাইল সিম রেজিস্ট্রেশনের নামে একাধিকবার ফিঙ্গার স্ক্যান করা হচ্ছে। এদিকে সফটওয়্যারে এনআইডি নাম্বারও অর্ন্তভূক্তি দিয়ে তা অস্বীকার করছে ক্রেতার কাছে। বিভিন্ন এলাকার আনাচে কানাচে মোবাইলের সিম বিক্রির নামে এ ধরনের ঘটনা ঘটানো হচ্ছে ইচ্ছাকৃত। সিম কিনতে বিভিন্ন আকর্ষর্ণীয় অফার দিয়ে ব্যস্ততম সড়কের মোড়ে, বাস স্ট্যান্ডে ও কলেজের সামনে বিশেষ করে নারী ও শিক্ষার্থীদের টার্গেট করছে এসব প্রতারকরা। ক্রেতাদের বোকা বানিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে ফিঙ্গার স্ক্যান ও এনআইডি নম্বর।

প্রত্যক্ষভাবে দেখা গেছে, নগরীর একেখান মোড়, অলংকার মোড়, জিইসি মোড়, নিউ মার্কেট মোড়, চকবাজার মোড়, সিইপিজেড মোড়, মুরাদপুর মোড়, কর্ণেল হাট বাজার, আগ্রবাদের বাদামতলী মোড়সহ শহরের আনাচে কানাচে প্রায় ২০০টি পয়েন্টে মোবাইল অপারেটর নিয়োজিত ডিলার বা এজেন্টের লোকজন ব্যানার ফেস্টুন লাগিয়ে ও হাঁকডাক দিয়ে সিম বিক্রয় করছে। অনেকটা ১০০ টাকার সিম ৯০ টাকার টকটাইমসহ একবারে নামমাত্র মূল্যে সিম। আবার ২০ টাকার সিমের সঙ্গে ৩৯ টাকাসহ নানা অফার দিয়ে সিম বিক্রিতে উদ্ভূদ্ধ করছে।

মোবাইল অপারেটরের লোগো সম্বলিত মগ বা হেডফোন দিয়েও প্রতারণায় নেমেছে অপারেটরদের নিয়োজিত ডিলার বা এজেন্টের লোকজন। তবে বায়োমেট্রিক রেজিস্ট্রেনের নামে পুরাতন ভোটার আইডি ও নতুন স্মার্ট কার্ডের নাম্বার সফটওয়্যার দিয়ে বার বার নিয়েই এ ধরনের প্রতারণা করছে।

অভিযোগ উঠেছে, এসব প্রতারকরা রোহিঙ্গাদের কাছে বিক্রি করছে এসব সিম। অথচ এসব সিম থেকে কোন অপরাধ সংগঠিত হলে প্রথম দফায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিটিআরসি এনআইডির ধারককেই মামলায় ঢুকিয়ে দিবে। তবুও কর্তৃপক্ষ যাচাই করে দেখে না মোবাইল অপারেটরের টার্গেটের কারনেই এমন অপরাধ সংগঠিত হচ্ছে। অনেকের অভিযোগ, প্রভাবশালী এসব অপারেটরদের আইনের আওতায় আনতে চায় না আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

অভিযোগ উঠেছে, মোবাইল অপারেটররা ডিলার বা এজেন্টদেরকে অতিরিক্ত সিম বিক্রির টার্গেট দিয়ে এমন কর্মকান্ড ঘটাচ্ছে। সরকারী নিয়মানুযায়ী প্রতিজন কমপক্ষে ২০ সিম রেজিস্ট্রেশন করতে পারবে। এই টার্গেটের কারনেই ডিলার ও এজেন্টরা ছোট ছোট ডেক্স দিয়ে বিভিন্ন রাস্তার মোড়ে  ও ব্যস্ততম স্থানে প্রতিনিধি বসিয়ে শিক্ষার্থী, নারী ও পথচারীদের আকর্ষর্ণীয় অফার দিচ্ছে। প্রতারণার মাধ্যমে উৎসুক ক্রেতাদের ফিঙ্গার স্ক্যান ও ভোটার আইডির নাম্বার নিচ্ছে। এ ক্ষেত্রে চতুর সিম বিক্রেতা আগতদের একাধিকবার ফিঙ্গার স্ক্যান করা ও ট্যাবের সফটওয়্যারে বার বার এনআইডি নাম্বার অর্ন্তভুক্তি দিয়ে বিপদের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।   

আরো অভিযোগ রয়েছে প্রতারণার মাধ্যমে গ্রাহকের ফিঙ্গার স্ক্যান, এনআইডি বায়োমেট্রিক নিবন্ধনের নামে একাধিকবার নিয়ে সিম একটিভেট করেছে গ্রেফতারকৃত চারজন। এসব সিম রোহিঙ্গাসহ এনআইডি বিহীনদের কাছে বিক্রি করে আসছিল চক্রটি। 

এ ব্যাপারে বাকলিয়া পুলিশ জানিয়েছে, বাকলিয়া থানা এলাকায় বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ২০১৯ সালের ১০ সেপ্টেম্বর ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাদেরকে গ্রেফতারের পর বেশ কয়েকজন অভিযোগ করেছে তাদের প্রত্যেকের কাছ থেকে ত্রিশটিরও বেশি সিমের জন্য ফিঙ্গার স্ক্যান নিয়েছে। তবে এসব সিম বিক্রেতাদের টার্গেট পূরণ করতেই অপরাধে জড়িয়েছে এই চার সিম বিক্রেতা। মূলত মোবাইল অপারেটররাই সিমের ডিলার, এজেন্ট ও প্রতিনিধির কাছে মাসিক বিক্রির একটি টার্গেট দেয়ার কারনেই এ ধরনের অপরাধ হচ্ছে। গ্রেফতারকৃতরাই প্রতারণার মাধ্যমে সিম বিক্রি করছে। কারন তারা সিম বিক্রির টার্গেট পূরন করছে।  ২০১৯ সালের ১০ সেপ্টেম্বর বাকলিয়া থানা এলাকা থেকে গ্রেফতারকৃতরা হল, জাবেদ ইকবাল, ফেরদৌস সরোয়ার রবিন, মিশু আহমেদ ও মিনহাজুল ইসলাম। তবে রবিনই অন্যদের সহযোগী হিসেবে ব্যবহার করেছে। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে তিনটি এন্ড্রয়েড মোবাইল, দেড়শ সিম ও ফিঙ্গার স্ক্যানার। পুলিশের কাছে রবিন স্বীকার করেছে সে রবি আজিয়াটার লোকাল এজেন্ট।

বাংলাধারা/এফএস/এফএস

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও

সর্বশেষ