কক্সবাজার প্রতিনিধি»
কক্সবাজারের দরিয়ানগরে স্কুল, মসজিদ ও চকরিয়ায় জমি দখলের অভিযোগে রাজারবাগী পীরের বিরুদ্ধে মানববন্ধন, বিক্ষোভ সমাবেশ ও সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভোক্তভূগীরা। রবিবার (২৪ অক্টোবর) জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করে ‘দরিয়ানগর বড়ছড়ার বাসিন্দারা। আর দুপুরে কক্সবাজার প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে চকরিয়ার ফাঁসিয়াখালী অচিতার বিল সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতি লিমিটেড নামে একটি সংগঠন।
মানববন্ধন ও সমাবেশে বক্তারা বলেন, গত একযুগের বেশি সময় ধরে দরিয়ানগরবাসি রাজারবাগী পীর গ্রæপের হাতে জিম্মি পড়েছে। এ গ্রæপটি ধর্মকে বিকৃত, উগ্রবাদ, সমাজে গুজব তৈরির মাধ্যমে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে যাচ্ছে। রাজারবাগীরা গ্রামের মসজিদে প্রতিদিনই কোরআন সুন্নাহ বিরোধী, মনগড়া, ধর্মীয় সহিঞ্চতাবিরোধী ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করে যাচ্ছে।
বক্তারা আরো বলেন, রাজারবাগীরা দরিয়ানগরে আস্তানা গাড়ার পর এক একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত গ্রামের জামে মসজিদটিও দখল করে নিজেদের নামে নামকরণ করেছেন। সম্প্রতি দরিয়ানগর বড়ছড়া খালের গতিপথ পরিবর্তন করে প্রায় কোটি টাকার সরকারি ভূমি জবরদখল করেছে। গ্রামের স্কুল ও মসজিদ দখল করে নেয়ার পর থেকে এই গ্রামের শিক্ষিত সমাজ তাদের মূল্য হারিয়েছে। হারিয়েছে কথা বলার অধিকারও। তাদের বিরুদ্ধে কেউ কথা বললে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে দেয়া হয়।

সাংবাদিক ও গবেষক আহমদ গিয়াসের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ‘কক্সবাজার সোসাইটি’র সভাপতি কমরেড গিয়াসউদ্দিন, ‘আমরা কক্সবাজারবাসী’র সাধারণ সম্পাদক নাজিমউদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক মহসীন শেখ, বায়তুন নুর জামে মসজিদের খতিব মাওলানা ফরিদুল আলম, বায়তুল মা’মুর জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা আনোয়ার সাকী, কলাতলীর সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আবদুল্লাহ মিঠু, স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা মোহাম্মদ ইসমাইল, সমাজকর্মী লায়লা বেগম, দরিয়ানগর যুব সমাজের সভাপতি মাহবুব আলম, যুবনেতা মোশাররফ হোসেন পারভেজ এবং এলাকার ভূক্তভোগী আওয়ামীলীগ নেতা আমির হোসেন ও তার কন্যা জান্নাতুল ফেরদৌস হ্যাপী প্রমূখ।
মানববন্ধন শেষে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও পরিবেশ অধিদপ্তর বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করেন এলাকাবাসী।
এদিকে, দুপুরে কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সম্মেলন কক্ষে চকরিয়ার ফাঁসিয়াখালী অচিতার বিল সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতি লিমিটেডের ব্যানারে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বায়োবৃদ্ধ জিন্নাত আলী।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘স্থানীয় চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা গিয়াস উদ্দিন রাজারবাগি পীরের সহচর আনিচুর রহমানসহ মিলে উচিতার বিল মৌজায় প্রায় ২-৩শ’ পরিবারকে মিথ্যা মামলা দিয়ে জোর করে ১৫০ একর জমি দখল করে রেখেছে। যেখানে তারা ব্রিক ফিল্ডও বানিয়েছে। এখনো তাদের অপচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। গ্রামের বাসিন্দাদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন জায়গায় গণহারে মামলা দায়ের বিরুদ্ধে প্রতিকার চেয়েছেন তারা।
লিখিত বক্তব্যে জিন্নাত আলী অভিযোগ করেন-সাম্প্রতিক সময়ে লামা উপজেলা সাব-রেজিঃ অফিস ও বান্দরবান জেলা রেজিষ্ট্রার অফিসের নাম ব্যবহার করে ২০টি জাল দলিল সৃষ্টির চাঞ্চ্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। এই অপকর্মের সাথে জড়িত ডুলাহাজারার মোসলেম উদ্দিন, মুজিবুল হক, বশির, বনফুর বাজারের লুতফুর রহমান ও মাস্টার বদরুদ্দোজা। সংবাদ সম্মেলনে অচিতার বিল সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতি লিমিটেড ও উপকুলীয় কৃষি সমবায় সমিতি লিমিটেড ৩০ জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাধারা/এফএস/এফএস












