মাকসুদ আহম্মদ, বিশেষ প্রতিবেদক»
এলাকা ভিত্তিক খুনের ঘটনায় পুলিশের তদন্তে উদ্ভব হচ্ছে কিশোর গ্যাং । কিন্তু গ্রেফতার হচ্ছে না ভয়ঙ্কর এই গ্যাংয়ের সদস্যরা। অভিযোগ রয়েছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) ১৬টি থানা এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের অবস্থান রয়েছে পুলিশের বিভিন্ন সময়ের তদন্ত অনুযায়ী। এরা অল্প অর্থের বিনিময়ে হত্যাকান্ডে ব্যবহার হচ্ছে। কিন্তু এ ধরনের তালিকা প্রকাশ করতেও নারাজ পুলিশ। তবে এসব কিশোর গ্যাংয়ের তালিকা প্রকাশ করা হলে এলাকাভিত্তিক ইভটিজিং ও হয়রানির মাত্রা কমে যেত এমন মন্তব্য অভিভাবকদের।
পুলিশ এ ধরনের তথ্য তদন্তের মাধ্যমে উদঘাটন করছে। তবে যারা কিশোর গ্যাংয়ের তালিকায় রয়েছে তারা থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। এদিকে, এসব কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা এলাকার ‘বড়ভাই’ খ্যাতদের হাইস্পীড মোটর সাইকেলে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। মেয়েদের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে দাড়িয়ে ইভটিজিং করলেও পুলিশেরে কারনেই নীরবে সহ্য করতে হচ্ছে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীকেই।
এদিকে, সিএমপি’র ১৬ থানার তালিকায় গড়ে ১৫/২০ জন কিশোর গ্যাংয়ের আওতায় থাকা সন্ত্রাসী রয়েছে। এসব সদস্যরা দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছে পুলিশের সামনে দিয়ে। অপরাধ না করায় পুলিশ তাদের ধরছেনা নাকি তালিকার তথ্য সঠিক নয় তা এখন প্রশ্নবিদ্ধ। কারন ভুক্তভোগীরা থানায় অভিযোগ করার পরও তদন্ত করতে নারাজ পুলিশ। এদিকে, বিভিন্ন সরকারী প্রতিষ্ঠানে কিশোর গ্যাংয়ের ব্যবহার হচ্ছে এমন অভিযোগ সরবরাহকারীদের।
কারন চট্টগ্রামের বিভিন্ন সরকারী দফতরে টেন্ডারবাজিসহ সরবরাহকারীদের নাজেহাল করতে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের ব্যবহার করছে এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী। থানায় জিডি হলে পুলিশ আদালতের অনুমতি নিয়ে প্রসিকিউশন মামলা দায়ের করলেও তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে গড়িমশি করছে। আবার সংশ্লিষ্ট থানার ওসি ‘বড়ভাই’দের ফোনে ম্যানেজ হয়ে যাচ্ছে এমন অভিযোগেরও অন্ত নেই।
এ ব্যাপারে সিএমপির এক উর্দ্ধতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হত্যার ঘটনা ঘটলেও পুলিশ আইনের বাইরে যেতে পারে না। কিশোর অপরাধী বা গ্যাং থাকলেও এরা বড়ভাইদের নামে চলে। থানায় ধরে আনলেই রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে পার পেতে চায়। আবার রাজনৈতিক নেতারাও প্রভাব খাটায় তাদের কর্মী বলে অপতৎপরতা চালায়। কিন্তু আইনের চোখে অপরাধী হলেও লিখিত অভিযোগ বা জিডি না থাকলে এদের আইনের আওতায় আনা যাচ্ছে না। আবার আইনের পূর্ণাঙ্গ আশ্রয় পায়না বলেই অভিভাবকরা এদের বিরুদ্ধে থানা পর্যন্ত আসেন না। ফলে অপরাধীরা আবারও চাঙ্গা অবস্থানে থেকে অপরাধের মাত্রা আরো বাড়িয়ে দেয়।
আরো অভিযোগ রয়েছে, সিএমপির আওতায় থাকা ৬২ বর্গ কিলোমিটারে প্রায় ৮০ লাখ মানুষের বসবাস। ১৬টি থানা এলাকার মানুষ এখন আর নিজেদের নিরাপদ ভাবছেন না। নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন সাধারন মানুষ পরিবার পরিজন নিয়ে। অনেকটা আতঙ্কেই কাটাচ্ছে জনজীবন। পরিবারের কর্তা সকালে ঘর থেকে বেরিয়ে যেমন নিরাপত্তা নিয়ে ভোগেন তেমনি পরিবারের অন্য সদস্য বিশেষ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়–য়াদের নিয়েও টেনশানের শেষ নেই। মোবাইলের এই যুগে সোস্যাল মিডিয়ায় ঝড় তোলা কোন স্ট্যাটাস নিয়ে শুরু হয়ে যাচ্ছে কেলেঙ্কারী। সব কেলেঙ্কারীর মূলে চলে এসেছে তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে হত্যাকান্ডের মত ঘটনা। আরো অভিযোগ রয়েছে, পরিবারের স্কুল কলেজ পড়–য়া মেয়েটিকে টার্গেট করে যখন কোন বখাটে গ্যাংয়ের সদস্য টিজ করে তখন থানায় গিয়েও ঠাঁই পাওয়া যাচ্ছে না। তথা অভিযোগ করতে পারেছন না অবিভাবকরা।
এদিকে, পুলিশ অপরাধীর বাবা, মা ও ঠিকানা ছাড়া অভিযোগ আমলে নিতে নারাজ। অথচ পুলিশের কাজ তদন্ত করে বের করা অপরাধীর পিতৃ পরিচয়। ফলে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পর্যন্ত মাথা নিচু করে যাওয়া ছাড়া কোন গতি নেই অন্যথায় পড়ালেখা বন্ধ। কারন ক্ষতিগ্রস্থের জন্য পুলিশী নিরাপত্তা মিলছে না আইনের ধারায়। আইনের দোহাই দিয়ে পুলিশ স্বাক্ষী বিহীনি জিডি রেকর্ড করতে রাজি হচ্ছে না। আবার জিডির পর পুলিশ বখাটেদের বিরুদ্ধে নোটিস ইস্যু না করায় কিশোর গ্যাংয়ের বখাটেরাও পার পেয়ে যাচ্ছে। এদিকে, নাগরিকের নিরাপত্তার শেষ আশ্রয়স্থল যেন বখাটেদের পক্ষে কাজ করছে এমন ধারনা ভুক্তভোগীদের। পুলিশ আইন মানতে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে সাধারন মানুষ, নিরাপত্তাহীনতায় কাটছে নগরবাসির প্রতিটি মূহুর্ত।
বাংলাধারা/এফএস/এফএস












