১৮ মার্চ ২০২৬

কিশোরীর আপত্তিকর ভিডিও ছড়ানোর ভয় দেখিয়ে ধর্ষণ করা বন্ধুসহ কথিত প্রেমিক গ্রেফতার

জেলা প্রতিনিধি, কক্সবাজার»

ছয় মাসের প্রেম। কিশোরী মনে জমেছে প্রেমিকের প্রতি অগাধ বিশ্বাস। তাই বেড়ানোর অফার পেয়ে পরিবারকে ফাঁকি দিয়ে প্রেমিকের সাথে ঘুরতে যায় কিশোরী। এ সুযোগে কিশোরীকে হোটেলে তুলে একসাথে মেলামেশার ক্ষণগুলো গোপনে ভিডিও ধারণ করে রাখে সুযোগ সন্ধানী প্রেমিক। সেটাই কিশোরীর জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়। ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানোর ভয় দেখিয়ে আরো একজনকে নিয়ে বারে বারে বিছানা সঙ্গী হতে বাধ্য করতো কথিত প্রেমিক ও তার বিবাহিত বন্ধুটি। মানসিক ও শারীরিক যাতনা সইতে না পেরে মায়ের সহযোগিতায় অবশেষে আইনের জালে আটকা পড়েছে কথিত প্রেমিক রূপি প্রতারক ও তার বন্ধু। 

কক্সবাজারের মহেশখালীর কালারমারছড়া ইউনিয়নের অফিসপাড়া থেকে বৃহস্পতিবার (২৮ অক্টোবর) ভোররাতে তাদের গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন, অফিসপাড়ার মো. রফিকের ছেলে মো. আলমগীর (২২) ও মোহাম্মদ শাহ ঘোনার মোহাম্মদ হোছাইনের ছেলে মো. আনোয়ার (২৬)।

মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল হাই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে ভুক্তভোগীর বরাতে জানান, উপজেলার কালারমারছড়ার মোহাম্মদ শাহ ঘোনার দরিদ্র পরিবারের এক কিশোরীর (১৫) সঙ্গে ছয় মাস আগে পার্শবর্তী অফিসপাড়ার মো. আলমগীরের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। প্রেমের সম্পর্কের সুবাদে ভ্রমণের কথা বলে কথিত প্রেমিক আলমগীর ওই কিশোরীকে গত ১১ অক্টোবর চকরিয়া উপজেলার বদরখালীর বাজারে একটি আবাসিক হোটেলে নিয়ে যায়। সেখানে তারা রাতযাপন করেন এবং শারীরিক সম্পর্কে মিলিত হন। সেদিনের অন্তরঙ্গ মুহুর্তের দৃশ্য কিশোরীর অজান্তে মোবাইল ফোনে ধারন করে রাখেন আলমগীর।

পুলিশ জানায়, ঘটনার কয়েকদিন পর সেদিনের ভিডিও চিত্রটি আলমগীরের কথিত বন্ধু মো. আনোয়ারকে দেখায়। সেই ভিডিওটি আনোয়ারও সংরক্ষণ করে রাখে। পরে ওই কিশোরীকে ভিডিও চিত্রের ভয় দিয়ে কুপ্রস্তাব দেয় আনোয়ার। প্রস্তাবে রাজি না হলে ভিডিওটি ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দেন। এক পর্যায়ে লোকলজ্জার ভয়ে কিশোরী মেয়েটি রাজি হয়ে যায়। এভাবে যখন ইচ্ছে কিশোরীকে বাগে এনে একাধিকবার ধর্ষণ করেন দুজনেই। 

পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তার দু’জনের মানসিক ও শারীরিক চাপ সইতে না পেরে একপর্যায়ে মেয়েটি অসুস্থ হয়ে পড়ে। পুরো ঘটনা তার মাকে খুলে বলেন।

সর্বশেষ গত ২৬ অক্টোবর মহেশখালী থানায় মেয়েটির মা বাদী হয়ে ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন সংশোধনী ও ২০১২ সালের পর্ণোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে কথিত প্রেমিক আলমগীর ও আনোয়ারের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা দায়ের করেন। 
মহেশখালী থানার ওসি মো. আব্দুল হাই বলেন, ধর্ষণের শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা মৃত্যুদন্ড এটা এখনো অনেকেই জানেন না। কিশোরীর সাথে ঘটা বিষয়টি খুবই গুরুত্ব সহকারে দেখছি আমরা। আমাদের চাওয়া সবার মেয়েরা যেনো সুরক্ষিত থাকে। গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। 

ওসি আরো বলেন, অভিভাবকদের আরো সচেতন হওয়া দরকার। সন্তানদের সাথে বন্ধুর মতো আচরণ করে তাদের সবকিছু জেনে নিতে হবে। বিশেষ করে মেয়েদের সবকিছু নজরে রেখে তাদের বিপদগামীতা থেকে রক্ষার চেষ্টা করা উচিত। অপরাধ দমনে সামাজিক ভাবেও সবার কঠোর অবস্থান দরকার। প্রয়োজনে পুলিশের সহযোগিতা নেয়ার পরামর্শ দেন ওসি।

বাংলাধারা/এফএস/এফএস

আরও পড়ুন