২৬ মার্চ ২০২৬

মাটিরাঙ্গাতে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন বিষয়ে দিনব্যাপি কর্মশালা

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি»

পার্বত্য খাগড়াছড়ি জেলার মাটিরাঙ্গা উপজেলা পরিচালন উন্নয়ন প্রকল্প (ইউজিডিপি) এর সক্ষমতা বৃদ্ধিমুলক উন্নয়ন উপ-প্রকল্পের আওতায় বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন বিষয়ে কাজী, ইমাম, অভিবাবক জনপ্রতিনিধি ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের  বাল্যবিবাহ নিরোধে দিন ব্যাপি প্রশিক্ষন কর্মাশালা অনুষ্টিত।

রোববার (৩১অক্টোবর)  সকাল  ১১ টার দিকে মাটিরাঙ্গা উপজেলা পরিষদের অডিটোরিয়ামে মাটিরাঙ্গা উপজেলা পরিষদ ও উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিচালন কমিটি জাইকার সার্বিক সহযোগিতায়  দিন ব্যাপি প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধন করেন মাটিরাঙ্গা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম।

মাটিরাঙ্গা উপজেলা পরিচালন কমিটি ও জাপান ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি জাইকার উপজেলা সমন্বয়ক রুনি চাকমার সঞ্চালনায় প্রশিক্ষন কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন মাটিরাঙ্গা উপজেলা সহকারি কমিশনার(ভূমি) ও মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (অ.দা)মো:হেদায়েত উল্ল্যাহ।

এসময় মাটিরাঙ্গা থানার ইন্সুপেক্টর তদন্ত  মো. আমজাদ হোসেন, মাটিরাঙ্গা উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মো. ওবায়দুল হক সবুজ বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন।

সভাপতির বক্তব্যেয়ে, মাটিরাঙ্গা উপজেলা সহকারি কমিশনার(ভূমি) ও মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (অ.দা) মো:হেদায়েত উল্ল্যাহ বলেন, নারী শিক্ষার অগ্রগতি ব্যাহত হওয়া ছাড়াও বাল্য বিবাহের কারনে মাতৃমৃত্যুর ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে৷অনেক সময় তাকে নানা শারীরিক ও মানষিক জটিলতার মুখোমুখি হতে হয়৷ অপ্রাপ্তবয়স্ক মা প্রতিবন্ধী শিশু জন্মদান করতে পারে৷ এছাড়া এতে গর্ভপাতের ঝুঁকিও বৃদ্ধি পায়৷ বাল্য বিবাহের ফলে বিবাহ বিচ্ছেদের আশংকা তৈরী হওয়া ছাড়াও নানা পারিবারিক অশান্তি দেখা দেয়।

তিনি আরো বলেন, বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন-২০১৭ এ আইনে ২২টি ধারা আছে। তন্মধ্যে ১৯ ধারা বিশেষ শর্ত–সম্পর্কিত। বাল্যবিবাহ হলেই এর জন্য শাস্তির বিধান রয়েছে। জন্ম নিবন্ধন সনদ ব্যতীত কোন অবস্তুায়ই নিকাহ রেজিষ্টার যেন বিবাহ নিবন্ধন না করেন, সেরূপ আইন প্রণয়ন করা যেতে পারে৷ প্রতিটি ইউনিয়নে বাল্য বিবাহ প্রতিরোধ কমিটি গঠন করা যেতে পারে৷ নবম ও দশম শ্রেনীর পাঠ্য বইতে এ বিষয়টি অর্ন্তভুক্ত করা হলে এর সুফল পাওয়া যাবে৷ জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে বেসরকারী সংস্থাগুলোও উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে পারে৷

প্রধান অতিথি’র  বক্তব্যে মাটিরাঙ্গা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো:রফিকুল ইসলাম   বলেন, ‘বাল্য বিবাহ একটি সামাজিক ব্যাধিতে রুপনিয়ে   একে প্রতিহত করুন, এর বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলুন বাল্য বিবাহ বন্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা উচিত। বাংলাদেশে বাল্য বিবাহ একটি মারাত্মক সমস্যা৷

তিনি আরো বলেন, ইউনিসেফের শিশু ও নারী বিষয়ক প্রতিবেদনে অনুসারে বাংলাদেশের ৬৪% নারীর বিয়ে হয় ১৮ বছরের আগে৷ বাল্য বিবাহ নিরোধ আইন অনুসারে ছেলেদের বিবাহের বয়স নুন্যতম একুশ এবং মেয়েদের বয়স আঠারো হওয়া বাধ্যতামূলক৷ অশিক্ষা, দারিদ্র, নিরাপত্তাহীনতা ও সামাজিক নানা কুসংস্কারের কারনে এ আইনের তোয়াক্কা না করে বাল্য বিবাহ হয়ে আসছে৷তাই সবাই সচেতন হলে বাল্যবিবাহ নিরোধ সম্ভব বলে জানান মাটিরাঙ্গা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো:রফিকুল ইসলামন। প্রশিক্ষণ কর্মশালায় ইমাম ,কাজী ,অভিবাবক ,জনপ্রতিনিধি ও সুশীল সমাজের ৯০জন প্রশিক্ষনার্থী অংশগ্রহন করেন।

বাংলাধারা/এফএস/এফএস

আরও পড়ুন