২৬ মার্চ ২০২৬

ট্রলারে ইঞ্জিন ও গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ; দগ্ধ ১৪ জেলে

জেলা প্রতিনিধি, কক্সবাজার»

কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় সাগরে মাছ ধরা শেষে কুলে ফেরা এক ট্রলারে ইঞ্জিন ব্লাস্ট হয়ে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ১৪ জেলে অগ্নিদ্বগ্ধ হয়েছে। দগ্ধদের মাঝে ৮জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ শনিবার (৩০ অক্টোবর) দিনগত রাত সাড়ে ১০টার দিকে বঙ্গোপসাগরের কুতুবদিয়া উপজেলার দক্ষিণ ধূরুং ইউনিয়নের অলিপাড়া পয়েন্টে এ ঘটনা ঘটেছে।

তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে দক্ষিণ ধুরুং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন আল আজাদ প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, দুর্ঘটনা কবলিত ট্রলারটির মালিক মো. আনসার হোসেন কুতুবদিয়ার দক্ষিণ ধূরুং ইউনিয়নের অলিপাড়া এলাকার বাসিন্দা। আহতদের চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

আহতদের শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ পুড়ে গেছে। এদের মাঝে সাইফুল (২২) ৮১শতাংশ, ফরিদুল (৪৩) ৬৪শতাংশ, নুরুল হোসাইন (৩৫) ৫৫শতাংশ, মিনহাজ (১৪) ৪৮শতাংশ, দিলসাদ (২০) ৪৭শতাংশ, সাদ্দাম (২৫) ১১শতাংশ, মামুন (২৪) ১৪ শতাংশ ও জিসাদ (১৭) ৪৭শতাংশ হারে পুড়ে গেছে বলে দাবি করেছেন কুতুবদিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বরত আরএমও ডা. রেজাউল হাসান। এদের চমেক হাসপাতালে রেফার করা হলেও বাকিদের প্রথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয় বলে জানিয়েছেন তিনি।  

ট্রলার মাঝি মামুনের বরাত দিয়ে কোম্পানি আনসার হোসেন জানান, ২২ জন মাঝিমাল্লা নিয়ে অবরোধের পর মাছ ধরতে সাগরে যায় তার মালিকানাধীন ফিশিং ট্রলারটি। মাছ নিয়ে শনিবার ফেরার পথে ঘাটের কাছে পৌঁছে ফিশিং বোটের ইঞ্জিন ব্লাস্ট হয়ে ৩টি গ্যাস সিলিন্ডারে আগুন লাগে। পরে আগুন লেগে যায় তেলের ১০টি ব্যারেলেও। এক সময় পুরো বোটে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। দীর্ঘ আড়াই ঘন্টায় আগুন পুড়ে যায় নৌকার সব জিনিসপত্র। এতে জেলেদের শরীরেও আগুন লেগে গেলে আগুন থেকে বাঁচতে পানিতে লাফিয়ে পড়ে জেলেরা।

কুতুবদিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ওমর হায়দার খান বলেন, খবর পেয়েছি বিপদগ্রস্ত জেলেদের অন্য ট্রলারের জেলেরা উদ্ধার করে কুতুবদিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে। পরে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক বেশ কয়েকজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। 

দক্ষিণ ধূরুং ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড মেম্বার নুরুল আবছার বলেন, ক্ষতিগ্রস্থ ফিশিং বোটের মালিক আনসার মিস্ত্রি আমার আপন ভাই। আগুনে পুড়ে ফিশিং বোট, মালামাল ও আহরিত মাছসহ কমপক্ষে দেড়কোটি টাকার ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে। পাশাপাশি  চমেকে পাঠানো আটজনের মাঝে চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

বাংলাধারা/এফএস/এফএস

আরও পড়ুন