রিয়াদুল ইসলাম রিয়াদ, বাঁশখালী»
ইফতেখার হোসাইন দুলাল। পেশায় একজন সার্ভেয়ার। এই পেশার পাশাপাশি শখের কৃষিতেও যুক্ত তিনি। শখের বসে তার ৮ বিঘা জমিতে গড়ে তুলেছেন থাই পেয়ারা, বিদেশী খেজুর, বরই, লেবু, আখ, মাল্টা সহ বিশাল এক সমন্বিত ফলের বাগান। নানা ধরনের ফলের গাছ দিয়ে সাজিয়েছেন তার এই বাগান। শখের বসে করা তার এই বাগান এখন বাণিজ্যিকভাবে ও সফল। তার করা বাগানের সাফল্য দেখে এলাকার চারদিকে গড়ে ওঠছে কয়েকশ থাই পেয়ারার বাগান। এলাকার তরুণরাও জড়িয়ে পড়ছে শখের এই বাগান পেশায়।
ইতিমধ্যে দুলাল তার শখের বাগান থেকে থাই পেয়ারা সহ নানা ফল বিক্রি করে বাগানের খরচ বাদ দিয়ে বাণিজ্যিকভাবে প্রায় ৪-৫ লাখ টাকা আয়েও করে ফেলেছেন। ২০১৮ সালে শুরু করা শখের এই বাগানে তিনি ছাড়াও এখন তার বাগানে প্রতিদিন কাজ করে সংসার চালাচ্ছেন অসংখ্য কৃষক।
চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বৈলছড়ি ইউনিয়নের প্রত্যন্ত গ্রামের ছেলে দুলাল তার শখের ফল বাগান করে পরে তা বাণিজ্যিকভাবে সাফল্য অর্জন করায় লোখ-মুখে ছড়িয়ে পরছে তার স্বনাম।

ইফতেখার হোসাইন দুলাল বলেন, আমি ২০১৮ সালের শেষের দিকে শখের বসে এ থাই পেয়ারা চাষ শুরু করি। চারা রোপনের ৭ মাস পরেই তার পেয়ারা গাছে ফল আসে। বাগানের প্রতিটি থাই পেয়ারার ওজন ৪০০ থেকে ৫০০ গ্রাম।প্রতিটি গাছে কমপক্ষে ২৫ কেজি পেয়ারা পাওয়া যায়। যা খেতে খুব সুস্বাদু। প্রতি কেজি পেয়ারার পাইকারি দর ৬০ থেকে ৭০ টাকা। এছাড়া খুচরা ৮০ টাকা থেকে ১০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। নিয়মিত পরিচর্যা করে চাষ করলে প্রতিটি থাই গাছ থেকে এক হাজার টাকার অধিক লাভবান হওয়া যায়। তার বাগানে এখন সব মিলিয়ে ১ হাজার ফলের গাছ রয়েছে এবং প্রতিটিতেই ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতি ব্যবহার করে বিষমুক্ত থাই পেয়ারা চাষ হচ্ছে। এরই মধ্যে থাই পেয়ারা সহ বিভিন্ন ফলের ১ হাজার কলম চারা করা হয়েছে। প্রতিনিয়তই বাগান দেখার জন্য বিভিন্ন এলাকার চাষিরা আসেন এবং তারা পরামর্শও দেন।
পেয়ারা চাষ সম্পর্কে তিনি বলেন, পেয়ারা চাষ ও ভালো ফল কিভাবে পাওয়া যায় তা দেখতে বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে বাগান পরিদর্শন করতাম দেখলাম পেয়ারা চাষের জন্য মাটিটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বেলে-দোঁয়াশ মাটিতে পেয়ারার ভালো ফলন পাওয়া যায়। তাছাড়া পেয়ারা চাষের জন্য মূলত গাছের পরিচর্যার দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। কাটিং, পেয়ারা ব্যাগিং করলে ভালো হয়। বর্তমানে আমার ১০ বিঘার ফল বাগানের মধ্যে ৪ বিঘা জমিতে পেয়ারা, অন্য ৪ বিঘা জমিতে বিভিন্ন জাতের বরই, মালটা, খেজুর গাছসহ বিভিন্ন ফলের গাছ রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, পেয়ারা কাটিং এবং ব্যগিং করেছি। যাতে করে গাছে ফুল ও ফল বেশি আসে। পেয়ারা গাছে নতুন কুশিতে কুশিতে ফল আসে। আর ব্যাগিং করলে বিষমুক্ত ফল উৎপাদন করা যায়। এই থাই পেয়ারা চাষ খুবই লাভজনক।
একই এলাকার কৃষক মতিউর রহমান মতি জানান, তার এই শখের পেয়ারা বাগান দেখে আমিও দেড় বিঘা জমিতে পেয়ারা বাগান করেছি। আশা করছি, আমারও ভালো পেয়ারার ফলন হবে।

দুলালের মতো পেয়ারা চাষ করে বেশ সাফল্য পেঁয়েছেন ঐ এলাকার জসিম। তিনি ২ বিঘা জমিতে পেয়ারা চাষ করেছেন। গাছ লাগানোর আট মাসের মাথায় ফল এসেছে। বছরে দুইবার তার জমিতে ফল আসে। এবং গত দুই বছরে তার বাগান থেকে ২লক্ষ টাকার পেয়ারা বিক্রি হয়েছে বলে জানান তিনি।
বাঁশখালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু ছালেক জানান, পেয়ারা চাষ খুবই লাভজনক। বাণিজ্যিকভাবে এ পেয়ারা চাষ করলে সহজে সাফল্য পাওয়া যায়। যার কারনে উপজেলায় বিভিন্ন জায়গায় এই পেয়ারা চাষ হচ্ছে। বর্তমানে আমরা বাঁশখালীর বিভিন্ন অঞ্চলে কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে দেশজ ফল উৎপাদন বাড়াতে নিয়মিত কাজও করে যাচ্ছি। দুলাল আমার দেখা একজন কৃষি প্রেমিক। তার করা শখের বাগান দেখা দেখিতে অনেকেই বাণিজ্যিক ভাবে পেয়ারা চাষ করেছেন। উপজেলা কৃষি অফিস নিয়মিত কৃষক ও তরুণ কৃষি উদ্যোক্তাদের ফল বাগানের ওপর প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দিচ্ছে বলেও জানান তিনি।
বাংলাধারা/এফএস/এফএস












