বাংলাধারা প্রতিবেদক»
ইউনিয়ন নির্বাচনের আগে এলাকার রাস্তাঘাট উন্নয়নের কথা দিলেও নির্বাচনের পর সেই উন্নয়নের বরাদ্ধ আনতে এলাকাবাসীর কাছ থেকে রীতিমতো ফর্দ বানিয়ে টাকা নেন নোয়াখালীর এক চেয়ারম্যান।
নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ি উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে এমনই অভিযোগ তুলছেন সোনাপুরের বিভিন্ন এলাকার নাগরিকরা।
জানা গেছে, যাতায়াত দূর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে চেয়ারম্যানের চাহিদা অনুযায়ী টাকা দিয়েও ভাগ্য বদলায়নি নাগরিকদের। মেয়াদের শেষ প্রান্তে এসে সেসব বিষয় নিয়ে এবার প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন নাগরিকরা। একজন অভিযোগ তোলার পর দেখা গেল সব এলাকাতেই প্রকল্প দেয়ার জন্য স্থানীয়দের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন চেয়ারম্যান। তবে এসব অভিযোগ নাকোচ করে দিচ্ছেন চেয়ারম্যান।
রাস্তার বরাদ্ধ এনে দেয়ার কথা দিলেও রাস্তার বরাদ্ধ না পাওয়ায় রহিম নামে এক ব্যক্তির সাথে আলমগীর হোসেন চেয়ারম্যানের একটি ফোনালাপে চেয়ারম্যানের সাথে রহিমকে রাস্তার বরাদ্দ পেতে টাকা দিয়েও বরাদ্দ না পাওয়া নিয়ে কথা বলতে শুনা যায়। রহিমের ক্ষোভের প্রেক্ষিতে চেয়ারম্যান দ্রুত সময়ে রাস্তার বরাদ্দ আসবে বলে কথাও দেন।
ফোনালাপে রহিম নামে এক ব্যক্তি নিজের পরিচয় দিয়ে ৫ বছর আগে সোনাপুর ৮ নম্বর ওয়ার্ডে মোমিন মেম্বারের বাড়ির পাশের একটা সড়কের বরাদ্দের জন্য চেয়ারম্যানকে টাকা দেয়ার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে রাস্তার বরাদ্দের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চান। উত্তরে চেয়ারম্যানকে বলতে শুনা যায়, আমি রাস্তা আনতে এমপির ডিও লেটার দিয়ে দিসি, স্টিমিট করাই ফেলছি। এটা মনে করেন ডিসেম্বর অথবা জানুয়ারিতে হয়ে যাবে। আমি এখন ঢাকা যাইতেছি।
এসময় রহিম চেয়ারম্যানকে বলেন, ‘আপনিতো সকালে বলছেন আপনি ঢাকা। এখন আবার বলতেছেন ঢাকার পথে রওনা দিছেন।’ উত্তরে চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমি ঢাকার পথে রওনা দিসিলাম তখন আবার অডিট অফিসার চলে আসায় আমার লেট হই গেছে। এখন আপনারা যদি কোন কথা বলতে চান, এটা যদি না মানেন তাহলে আমি আসি সামনা সামনি কথা বলবো।’
টাকা দেয়ার পরেও কাজ না হওয়ায় স্থানীয়রা রহিমকে ভুল বুঝছে জানিয়ে রহিম সেসময় চেয়ারম্যানকে বলেন, ‘এখন শুনেন কথা বলবেন বলতে লোকজনতো আমার মাথা খাই ফেলাইতেছে। আজকে ৫ বছর শেষ এখন আবার নির্বাচন চলে আসছে, আপনি যে আবার ক্ষমতায় আসবেন এটার কি কোন গ্যারান্টি আছে নাকি। এই যে আমার টাকাতো আপনার কাছে ফাসি রইছে। এখন সবাইতো আমারে এটার জন্য বলতেছে আমি চিটিং মিথ্যা কথা বলতেছি।’
উত্তরে চেয়ারম্যান বলেন, ‘আচ্ছা আপনি শুনেন আমি ঢাকা থেকে এলে লিটন ভাইকে নিয়ে আরও কে কে আছে নিয়ে আমার সাথে দেখা কইরেন। আমি কথা বলবো। আপনারা যেভাবে বলবেন সেভাবে হবে।’
শুধু রহিমই নয় গত ৫ বছরে সোনাপুর ইউনিয়নের প্রায় সকল ওয়ার্ডের বরাদ্ধ আনতে এভাবে স্থানীয়দের কাছ থেকে টাকা নেয়ার অভিযোগ উঠছে আলমগীর চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে।
পিচ ঢালাই করা রোডের জন্য চেয়ারম্যানকে টাকা দিয়েও কাজ হয়নি জানিয়ে সোনাপুরের ৭নং ওয়ার্ড বালিয়া বাড়ির অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা করিম হোসেন বলেন , ‘চেয়ারম্যান সাহেবকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা দিছে আমাদের এলাকার রাস্তা পিচ ঢালাই করার জন্য, বাকিটা উনি যখন অর্ডার করাই আনবে ঢাকা থেকে বাকিটা উনাকে দেয়া হবে কাজও ধরবে এমন কথা ছিল। টাকা দেয়ার এক বছর চলে গেছে কোন রকম কোন কাজ হয়নাই।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযোগের সত্যটা নাকোচ করে দেন ৮ নম্বর সোনাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন। তবে রাস্তার বরাদ্ধের জন্য লেনদেনের বিষয়ে রহিমের সাথে চেয়ারম্যানের ফোনালাপের বিষয়ে তার দৃষ্টি আকর্ষণ করলে রহিমের সাথে উনার ফোনালাপের কথা স্বীকার করে নিয়ে তিনি ফোনে টাকা নিয়ে কোন কথা বলেননি বলে দাবি করেন।
তিনি বলেন, ‘এসব অভিযোগ সত্য না। আমারে টাকার কথা বলেনাই। আমারে এটা দেয় নাই।এটা তারা কারা দিসে আমি জানিনা। তারা আমারে রাস্তার কথা বলছে যে আমি ওয়াদা করছি রাস্তার করে দিব। আমি সেটা নিয়ে কথা বলেছি। টাকা নিয়ে কোন কথা হয়নাই।’
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে সোনাইমুড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান বলেন, আমার কাছে কেউ কোন অভিযোগ করেনাই। চেয়ারম্যানরাও নির্বাচিত প্রতিনিধি। কে কোনখান দিয়ে কি করে আমি জানিনা। এগুলো সত্য হলে অবশ্যই এটা অপরাধ। এমন হওয়াতো ঠিক না। আমরা যে রাস্তাটা বরাদ্ধ দিই এগুলোর জন্যতো পাবলিকের কাছ থেকে টাকা নেয়ার সুযোগই নাই।
বাংলাধারা/এফএস/এফএস












