২৬ মার্চ ২০২৬

কক্সবাজারের ২১ ইউপিতে নৌকায় ১১ ও স্বতন্ত্র ২ ও বিদ্রোহী ৬ প্রার্থীর জয়

সায়ীদ আলমগীর, কক্সবাজার»

কক্সবাজারের সদর, রামু ও উখিয়া উপজেলার ২১টি ইউনিয়নে কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। সদরের খুরুশকুল ইউনিয়নের তেতৈয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে একজনের মৃত্যু ও উখিয়ার হলদিয়া পালং ইউনিয়নে বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ ছাড়া জেলার আর কোথাও তেমন কোন সহিংসতার খবর পাওয়া যায়নি।
বৃহস্পতিবার (১১ নভেম্বর) সারাদিন আমেজে সাধারণ মানুষ নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করে পছন্দের প্রার্থীকে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করেছেন। 

কক্সবাজার সদর উপজেলা-কক্সবাজার সদরের ৫টি ইউনিয়নের ঝিলংজা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ও বর্তমান চেয়ারম্যান টিপু সুলতান (নৌকা), ভারুয়াখালী ইউনিয়নে কামাল উদ্দিন ও চৌফলদন্ডী ইউনিয়নে মুজিবুর রহমান নৌকা প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হয়েছেন।

এছাড়াও পিএমখালী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি নেতা মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ (আনারস)।
অপরদিকে খুরুশকুল ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মোঃ শাহজাহান ছিদ্দিকী খুরুশকুলে ১১টি কেন্দ্রে প্রায় সাড়ে ৬শ ভোটে এগিয়ে আছেন। তবে স্থগিত কেন্দ্রে ভোট রয়েছে ২ হাজার ৬৪৪। তাই এখনও কোন চেয়ারম্যান প্রার্থীকে জয়ী বলা যাবে না বলে জানিয়েছেন উপজেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা।

প্রাপ্ত তথ্য মতে, সদর উপজেলার ৫ ইউনিয়নে মোট ৫৭টি কেন্দ্রের ৫৬টিতে সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ চলে।

রামু উপজেলা:
কক্সবাজারের রামু উপজেলার ১১ ইউনিয়নের  নির্বাচনে চারটিতে নৌকা প্রতীকের আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ও ছয়টিতে বিদ্রোহী প্রার্থী জয়লাভ করেছেন।
রামুর চাকমারকুল ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম সিকদার, গর্জনিয়া ইউনিয়নে মুজিবুর রহমান বাবুল, জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান কামাল শামশুদ্দিন আহমেদ প্রিন্স, দক্ষিণ মিঠাছড়িতে খোদেসতা রীণা নৌকা নিয়ে ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে খুনিয়াপালং ইউনিয়নে আবদুল হক কোম্পানী, ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম ভূট্টো, রাজারকুল ইউনিয়নে মুফিজুর রহমান, ঈদগড় ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান ফিরোজ আহমদ ভূট্টো, কচ্ছপিয়া ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান আবু মোহাম্মদ ইসমাঈল নোমান, কাউয়ারখোপ ইউনিয়নে শামশুল আলম ও রশিদনগর ইউনিয়নে এমডি শাহ আলম নির্বাচিত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার রাতে রামু উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করেন উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মাহফুজুল ইসলাম ও রিটার্নিং কর্মকর্তারা।

বেসরকারি ফলাফলে জানা যায়, ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বঞ্চিত সাবেক চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম ভূট্টো (আনারস) ৬ হাজার ৩৪৯ ভোট পেয়ে বেসরকারি ভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি আওয়ামী লীগ মনোনিত উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নুরুল হক চৌধুরী (নৌকা) ৪ হাজার ৭৩৩ ভোট পেয়েছেন।
ঈদগড় ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বর্তমান চেয়ারম্যান ফিরোজ আহমদ ভূট্টো (আনারস) ৪ হাজার ৯১৬ ভোট পেয়ে বেসরকারি ভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি আওয়ামী লীগ মনোনিত প্রার্থী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি নুরুল আলম (নৌকা) ৩ হাজার ২৯৫ ভোট পেয়েছেন। বিজয়ী প্রার্থী ফিরোজ আহমদ ভূট্টো রামু উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম-সম্পাদক।
গর্জনিয়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনিত প্রার্থী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মুজিবুর রহমান বাবুল (নৌকা) ৪ হাজার ১৮৮ ভোট পেয়ে বেসরকারি ভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী উপজেলা বিএনপি’র উপদেষ্টা ও সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম মৌলা চৌধুরী (মোটর সাইকেল) ২ হাজার ৯৭৭ ভোট পেয়েছেন।
কচ্ছপিয়া ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বর্তমান চেয়ারম্যান আবু মো. ইসমাঈল নোমান (আনারস) ৩ হাজার ৭২৬ ভোট পেয়ে বেসরকারি ভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি জামায়াত নেতা মো. তৈয়ব উল্লাহ (চশমা) ৩ হাজার ৪২৫ ভোট পেয়েছেন।

কাউয়ারখোপ ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সাবেক চেয়ারম্যান শামশুল আলম (মোটর সাইকেল) ২ হাজার ৭৭৭ ভোট পেয়ে বেসরকারি ভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি আওয়ামী লীগ সমর্থিত উপজেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি ওসমান সরওয়ার মামুন (নৌকা) ২ হাজার ৭৫০ ভোট পেয়েছেন।

জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনিত প্রার্থী ও বর্তমান চেয়ারম্যান কামাল শামশুদ্দিন আহমেদ প্রিন্স (নৌকা) ৪ হাজার ৫৬৫ ভোট পেয়ে বেসরকারি ভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি স্বতন্ত্র প্রার্থী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আবছার কামাল সিকদার (মোটর সাইকেল) ৩ হাজার ৪৪৭ ভোট পেয়েছেন।
রাজারকুল ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বর্তমান চেয়ারম্যান মুফিজুর রহমান (ঘোড়া) ৫ হাজার ৭৬৬ ভোট পেয়ে বেসরকারি ভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি আওয়ামী লীগ মনোনিত প্রার্থী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি সরওয়ার কামাল সোহেল (নৌকা) ৩ হাজার ৫৪৭ ভোট পেয়েছেন।

ক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী ইউনিয়ন মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি খোদেস্তা বেগম রীনা (নৌকা) ৬ হাজার ৫ ভোট পেয়ে বেসরকারি ভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বর্তমান চেয়ারম্যান মো. ইউনুচ ভূট্টো (টেবিল ফ্যান) ৩ হাজার ৪১৭ ভোট পেয়েছেন।

চাকমারকুল ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনিত প্রার্থী ও বর্তমান চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম সিকদার (নৌকা) ৩ হাজার ৯৫১ ভোট পেয়ে বেসরকারি ভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যবসায়ী নুরুল আলম (আনারস) ৩ হাজার ৬৭৪ ভোট পেয়েছেন।

রশিদনগর ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বর্তমান চেয়ারম্যান এম ডি শাহ আলম (আনারস) ৩ হাজার ৯৯৯ ভোট পেয়ে বেসরকারি ভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত মো. হান্নান সিদ্দিকী (মোটর সাইকেল) ৩ হাজার ৯২৪ ভোট পেয়েছেন।

খুনিয়াপালং ইউনিয়নে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি আবদুল হক (চশমা) বেসরকার ভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্ধী ছিলেন আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী ও বর্তমান চেয়ারম্যান আবদুল মাবুদ (নৌকা)।
রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রণয় চাকমা জানান, রামুর ১০০টি কেন্দ্রে সুন্দর ব্যবস্থাপনা ও শৃংখলার মধ্যদিয়ে ভোটগ্রহণ হয়। কোন অপ্রীতিকর ঘটনার আশংকার কথা শোনার সাথে সাথেই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে মোবাইল স্ট্রাইকিং ফোর্স ছুটে গেছে।

উখিয়া উপজেলা:
উখিয়ার ১নং জালিয়াপালং ইউপিতে ছৈয়দ আলম নৌকা প্রতীক নিয়ে ৬ হাজার ৫৪৬ ভোট পেয়ে বেসরকারি ভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর প্রতিপক্ষ বিএনপি ঘরানার নুরুল আমিন চৌধুরী ৫ হাজার ৯২৬ ভোট পেয়েছেন।
উখিয়ার ২নং রত্নাপালং ইউপিতে আওয়ামী লীগের মনোনীত নৌকা প্রতীক নিয়ে নূরুল হুদা ৭ হাজার ৩০৬ ভোট পেয়ে বেসরকারি ভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর প্রতিপক্ষ বিএনপি ঘরানার ঘোড়া প্রতীক নিয়ে নুরুল কবির চৌধুরী ৫ হাজার ৯৮৮ ভোট পেয়ে পরাজিত হয়েছেন।

উখিয়ার ৩নং হলদিয়াপালং ইউপিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী ইমরুল কায়েস চৌধুরী ঘোড়া প্রতীক নিয়ে ৭ হাজার ৭১৭ ভোট পেয়ে এগিয়ে রয়েছেন। তাঁর প্রতিদ্বন্ধি নৌকা প্রতীকের অধ্যক্ষ শাহ আলম ৭ হাজার ২৪৮ ভোট পেয়েছেন। তবে ১টি কেন্দ্র স্থগিত রয়েছে। সেখানে নৌকা সমর্থক ভোটার বেশি বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

উখিয়ার ৪নং রাজাপালং ইউপিতে জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী নৌকা প্রতীক নিয়ে ১৭ হাজার ৮৮২ ভোট পেয়ে বেসরকারি ভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। বিএনপি ঘরানার সাদমান জামী চৌধুরী ঘোড়া প্রতীকে ১১ হাজার ৪৭৪ ভোট পেয়েছেন।
উখিয়ার ৫নং পালংখালীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বর্তমান চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী ঘোড়া প্রতীক নিয়ে ৪ হাজার ৭১৩ ভোট পেয়ে বেসরকারি ভাবে আবারও চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী আবদুল মালেক চশমা প্রতীকে পেয়েছেন ৩ হাজার ৯৯৯ ভোট, আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আবুল মনজুর পেয়েছেন ১ হাজার ১৬৮ ভোট। আওয়ামী লীগের দুই বিদ্রোহী প্রার্থী শাহাদাত হোসেন জুয়েল আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ৩ হাজার ৩২ ভোট ও আলী আহমদ মোটরসাইকেল প্রতীকে পেয়েছেন ২ হাজার ৭৮৬ ভোট।

উখিয়া উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইরফান উদ্দিন জানান, হলদিয়াপালং ইউনিয়নের নলবনিয়া ভোট কেন্দ্রেটির ফলাফল স্থগিত করা হয়েছে।

উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন আহমেদ জানান, শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য ১৫ জন নির্বাহী ম্যাজিষ্টেট দায়িত্বে ছিল। পুলিশ, এপিবিএন ও আনসার ব্যাটালিয়ান সমম্বয়ে ১০টি মোবাইল টিম ও ৫টি স্টাইকিং টিম, ৬ প্লাটুন বিজিবি ও র্যাবের ৪টি টিম দায়িত্ব পালন করে বলে জানিয়েছেন এ কর্মকর্তা।

আরও পড়ুন