২৬ মার্চ ২০২৬

জাম্বুরী মাঠে দৃষ্টিনন্দন পার্ক

মাকসুদ আহম্মদ, বিশেষ প্রতিবেদক»

চট্টগ্রামে কয়েক দশকের খেলার মাঠ। অযত্ন আর অবহেলার কারণে ময়লা আবর্জনার ভাগাড় ছিল বেশকয়েক বছর। শেষতক শাকসবজির আবাদী মাঠে পরিণত হয়েছিল স্থানীয়দের দখলে। অবশেষে বর্তমান সরকার চট্টগ্রামের উন্নয়নে এগিয়ে আসায় অবহেলিত এই মাঠ মাত্র ১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে দৃষ্টিনন্দন পার্কে পরিণত হয়েছে। ২০১৮ সালের ৮ সেপ্টেম্বর গৃহায়ন ও গনপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ হোসেন এই সুবিশাল পার্কটি উদ্বোধন করেন।

অর্ধ লক্ষ বর্গফুটের আঁকাবাঁকা কৃত্রিম লেক এখন শিশু কিশোরদের সুইমিং পুলে পরিণত হয়েছে। দিনে সূর্যের আলোয় আলোকিত হলেও রাতের বেলায় দিনের পরশ পেলে লাগানো হয়েছে প্রায় অর্ধ সহস্্র এলইডি লাইট। এতে আগতদের আড্ডা জমবে সকাল সন্ধ্যা সবসময়ই। আবার পার্কের ভেতরের নিরাপত্তায় ১৪টি সিসি ক্যামেরা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এসব ক্যামেরার মাধ্যমে আগতদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে কর্তৃপক্ষ। শুধু তাই নয়, এ ধরনের নিরাপত্তা নিশ্চিতে পার্কের ভেতরে নিয়ন্ত্রন কক্ষ বসানো হয়েছে।

জানা গেছে, ১৮ কোটি টাকার এই প্রকল্প বাস্তবায়নে যৌথ উদ্যোগের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নাহিয়ান এন্টারপ্রাইজ-ইএসবি জয়েন্ট ভেঞ্চারে এই কর্মযজ্ঞ পরিচালনা করেছে। আগ্রাবাদের বহুতল কলোনী বা আমেরিকান হাসপাতাল নামে খ্যাত এই এলাকায় প্রায় সাড়ে ৮ একর জমির ওপর জাম্বুরী পার্কের অবস্থান। মাঠের সবদিক ঘিরে দেয়া হয়েছে ৬/৭ ফুট উচ্চতার অত্যাধুনিক সীমানা প্রাচীর দিয়ে। যাতে অবৈধভাবে বা বিশৃঙ্খলভাবে কারো অনুপ্রবেশ না হয়।

এছাড়াও প্রায় ১১৫ শতক জমির উপর গড়ে তোলা হয়েছে প্রায় অর্ধলক্ষ বর্গফুটের কৃত্রিম লেক। যা অনেকে সুইমিং পুলের মতই ব্যবহার করছে। জমানো পানির লেকের পাশ ধরে আর মাঠের চারিধারে বিচরন করতে প্রায় ১০ হাজার ফুট দীর্ঘ পায়ে হাটার পথ তৈরী করা হয়েছে। এই হাটার পথের দু’ধারে এলইডি লাইটের আলোকসজ্জা করা হয়েছে।

লাগানো হয়েছে সৌন্দর্য্য বর্ধক দেশী-বিদেশী পাতাবাহারের গাছের পাশাপাশি দৃষ্টিনন্দন টগর,রাধাচূড়া,সোনালু, নাগেশ্বর, চাঁপা,সাইকাস, বকুল, শিউলি জারুলসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে পার্কে। মাঠের দুপাশে দুটি ফোয়ারা যেন রাতের আলার ঝলকানিতে ক্রিস্টমাস ট্রি’র মত রুপ ধারন করছে। পার্কের ভেতরে আগতদের বিশ্রামের জন্য সিমিন্টের তৈরী আসন ও গ্যালারী তৈরী করা হয়েছে। এছাড়াও দর্শনার্থীদের আগমন ও নির্গমনের জন্য মাঠের চারদিকে চারটি ছাড়াও আরো দুটি অতিরিক্ত দ্বার রাখা হয়েছে। আগতদের প্রাকৃতিক কাজ সারতে পার্কের দু’কোণে দুটি গণ শৌচাগারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তবে সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যবহার হলে শৌচাগারগুলো ব্যবহারকারীদের আকর্ষণ বাড়াবে।

বাংলাধারা/এফএস/এফএস

আরও পড়ুন