মাকসুদ আহম্মদ, বিশেষ প্রতিবেদক»
সীতাকুন্ড মডেল থানায় অপরাধরীর বিরুদ্ধে অভিযোগের মাত্র ত্রিশ মিনিটের মধ্যেই এ্যাকশানে গেল পুলিশ। মডেল থানা পুলিশের এমন পদক্ষেপে রীতিমত অবাক স্থানীয়রা। এতে এলাকার মানুষের মধ্যেও অপরাধ দমনের সচেতনা সৃষ্টি হয়েছে। সীতাকুন্ড সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় সীতাকুন্ড মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ জরুরী ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশ দেন সাব ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ ইমরান হোসাইনকে। অধুনিকতার এই যুগে পুলিশের ডিজিটালাইজেশন পক্রিয়ায় অপরাধ দমনের বিষয়টি আকর্ষণীয় ও ফলপ্রসু। পুলিশের দ্রুতগতির এমন পদক্ষেপের কারনে ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত যেমন সম্পন্ন হয়েছে তেমনি অপরাধীকেও অপরাধ বন্ধে সতর্ক করা হয়েছে।

জানা গেছে, গত ২৭ জানুয়ারী সীতাকুন্ড মডেল থানাধীন ৭নং কুমিরা ইউনিয়নে বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আবু সুফিয়ানের কাছ থেকে প্রায় সোয়া তিন গন্ডা জায়গা ক্রয় করেন ভুক্তভোগী। মছজিদ্দা মৌজায় থাকা এ জমি ৫৩৭ নং দলিলমূলে ক্রয় করা হয়। যাহার জে.এল নং-৪২ ও বিএস খতিয়ান নং-৭৯২০। ৭নং কুমিরা ইউনিয়নের আকিলপুরস্থ এ জায়গার পরিমান ৬ দশমিক ২৯ শতক। গত ১ মার্চ তারিখে মালিকপক্ষ তাঁর নিজনামে নামজারী ও জমাভাগ করে নিয়েছেন জমিটির। শুধুু তাই নয় চলতি বছরের ১৩ সেপ্টেম্বর নিজনামে খাজনাও পরিশোধ করেছেন জমির মালিক।
অভিযোগ রয়েছে, জমিটি ক্রয়ের পর থেকে গত কয়েক মাস যাবৎ মালিকের কেয়ার টেকার মোহাম্মদ হারুনকে নানাভাবে হুমকী ধমকী দিয়ে আসছিল অপরাধী। অপরাধী মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন স্থানীয় ৩নং ইউনিয়নের পাথরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। পাথরপাড়াস্থ বাদশা মিয়ার বাড়িতে থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে থাকা প্রাকৃতিক দৃষ্টিনন্দন জায়গাটির উপর মরিয়া এই সাহাবুদ্দিন। এমনকি রাতের আঁধারে জমির সীমানা পিলার তুলে ফেলাসহ ফল ফলাদি নিয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটিয়েছে সে। গত বছর শীতকালে ওই জায়গায় থাকা দুটি খেঁজুর গাছের রস প্রতিদিনই নিয়ে যেত সাহাবুদ্দিন। সর্বশেষ গত ১৪ নভেম্বর রবিবার বিকাল ৪টা ৫ মিনিটের সময় সাহাবুদ্দিন আবার ওই জায়গায় থাকা দুটি খেঁজুর গাছ ছিলে নিয়েছে রস সংগ্রহের জন্য। তাৎক্ষণিক সংশ্লিষ্ট জমির কেয়ার টেকার হারুন বিষয়টি জমির মালিককে জানান। ঘটনাস্থলে কেয়ারটেকার হারুনকে বলেন ‘জায়গা বিক্রী হলে কি হবে আমাকে টাকা না দিলে আমি আবারও সীমানা পিলার উপড়ে ফেলে দিব। কেউ আমার কিছু করতে পারবে না। শুধু তাই নয় সাহাবুদ্দিন ক্ষিপ্ত হয়ে হারুনকে শ্বাসিয়ে দেয়। বিষয়টি ভূমি মালিককে জানানো হলে তিনি সীতাকুন্ড সার্কেলের এডিশনাল এসপি’কে অবগত করেন।

এদিকে, গত ১৫ নভেম্বর সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সীতাকুন্ডের সার্কেল এএসপি’র হস্তক্ষেপ কামনা করেন জমির মালিক । পুলিশ কর্মকর্তা তাৎক্ষণিক বিষয়টি আমলে নেয়ার জন্য নির্দেশনা দেন থানার ওসিকে। জমির মালিক সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে রেজিস্ট্রারে একটি সাধারণ ডায়েরী লিপবদ্ধ করেন থানার ডিউটি অফিসারের মাধ্যমে। অপরাধ বন্ধে ও অপরাধীকে আইনের আওতায় আনাতে থানার অফিসার ইনচার্জ আবুল কালাম আজাদ আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে তাৎক্ষণিক কুমিরা এলাকায় মোবাইল ডিউটিতে থাকা এস আই ইমরানকে অভিযুক্ত বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে বলেন। জিডির (জিডি নং ৭৫৩) মাত্র ত্রিশ মিনিটের মধ্যে এসআই ইমরান ঘটনাস্থলে হাজির হন। তিনি গত ১৪ নভেম্বরের ঘটনাটি স্থানীয় জনগনের সঙ্গে আলোচনা করে অভিযোগের সত্যতা পান। স্থানীয় ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার মাহবুবুর রহমানের মাধ্যমে অপরাধীর পরিচয় সনাক্ত করেন এস আই। এদিকে, পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সাহাবুদ্দিন খবর পেলেও ঘটনাস্থলে আসেনি।

এ ব্যাপারে সীতাকুন্ড সার্কেলের এএসপি আশরাফুল করিম বাংলাধারাকে বলেন, অপরাধীকে অপরাধের সুযোগ দেয়া যাবে না। দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহনে সীতাকুন্ড থানার অফিসার ইনচার্জকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ বাংলাধারাকে বলেন, অপরাধের অনেক কৌশল অবলম্বন করে অপরাধীরা। কিন্তু পুলিশও এসব কৌশল বন্ধ করতে বদ্ধ পরিকর। ঘটনার জিডির বিষয়ে তিনি টহলে থাকা এসআই ইমরানকে তাৎক্ষনিক নির্দেশনা দিয়েছেন। এ ব্যাপারে ঘটনার তদন্তে যাওয়া এসআই ইমরান হোসাইন বাংলাধারাকে বলেন, জিডির ভিত্তিতে তিনি দ্রুত সময়ের মধ্যে ঘটনাস্থলে এসেছেন অপরাধের মাত্রা কমাতে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে আলাপ করেছেন। বিষয়টির সত্যতা পাওয়ায় এবং অপরাধী বাড়ীতে না থাকায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে সর্তক করে দিয়েছেন অভিযুক্ত সাহাবুদ্দিনকে। একই ঘটনার পুণরাবৃত্তি যেন না ঘটে সেদিকে সচেষ্ট রয়েছে পুলিশ।
বাংলাধারা/এফএস/এফএস












