২৬ মার্চ ২০২৬

কক্সবাজারের নির্বাচনে ইতিহাস গড়লেন চেয়ারম্যান খোদেসতা রীনা

সায়ীদ আলমগীর, কক্সবাজার»

কক্সবাজারের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে ইতিহাস গড়লেন রামু উপজেলার দক্ষিণ মিঠাছড়ির নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান খোদেসতা বেগম রীনা। সদ্য সমাপ্ত দ্বিতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী ৮ পুরুষ প্রার্থীকে পেছনে ফেলে সরাসরি ভোটযুদ্ধে চেয়ারম্যান হিসেবে জয়ী হয়েছেন দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী খোদেসতা বেগম রীনা।

আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে নৌকা প্রতীক নিয়ে বেসরকারি ভাবে তিনি বিজয়ী হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন ইউনিয়নের রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা গৌর চন্দ্র দে।

গৌর চন্দ্র দে জানান, এ ইউনিয়নের ১৬ হাজার ১২৮ জন ভোটারের মধ্যে ১৩ হাজার ২৯২ জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। এর মধ্যে ২৯০টি ভোট বাতিল হয়। নৌকা প্রতীক নিয়ে খোদেসতা বেগম রীনা ৫ হাজার ৯১৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী টেবিল ফ্যান প্রতীকে মো. ইউনুছ পেয়েছেন ৩ হাজার ৪৩৫ ভোট। ঘোড়া প্রতীক নিয়ে মোহাম্মদ সাইফুল আলম পেয়েছেন ৩ হাজার ৭১ ভোট, হাতপাখা প্রতীক নিয়ে মুহাম্মদ শফিউল্লাহ পেয়েছেন ২৫০ ভোট, টেলিফোন প্রতীক নিয়ে মো. সাইফুল ইসলাম পেয়েছেন ২১৭ ভোট, আনারস প্রতীক নিয়ে ইয়াসিন মনির সোহাদ পেয়েছেন ৪২ ভোট, মোটর সাইকেল প্রতীক নিয়ে মুহাম্মদ ওমর ফারুক পেয়েছেন ৩০ ভোট, অটোরিকশা প্রতীক নিয়ে সাদ আল আলম চৌধুরী পেয়েছেন ২৮ ভোট এবং চশমা প্রতীক নিয়ে এয়াকুব পেয়েছেন ১৪ ভোট।

পরাজিত প্রার্থীদের মাঝে মুহাম্মদ ইউনুস বর্তমান ও সাইফুল আলম সাবেক চেয়ারম্যান।

কক্সবাজার পৌরসভার প্যানেল মেয়র ও নারী কাউন্সিলর এবং মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রী শাহিনা আকতার পাখি বলেন, কক্সবাজারেও নারীরা স্বতন্ত্র নেতৃত্বে এগুচ্ছে খোদেসতা বেগম রীনা তারই উদাহরণ। আমরা সংরক্ষিত আসনে নির্বাচন করে জিতেছিলাম। কিন্তু রীনা আপু স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান পদে লড়াই করে বিজয়ী হয়েছেন। ওনার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বর্তমান ও সাবেক দু’চেয়ারম্যানসহ সবদিকে যোগ্য ৮ পুরুষ প্রার্থী।

কক্সবাজারের নারী সাংসদ ও জেলা মহিলা আওয়ামী লীগ সভাপতি কানিজ ফাতেমা আহমেদ বলেন, খোদেসতা বেগম রীনা কক্সবাজারের জন্য ইতিহাস। এর আগে সরাসরি স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান পদে ভোটে কোন নারী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা কিংবা জয়ের ইতিহাস নেই। দলের জন্য নিরবে কাজ করেছেন রীনা আপু। সেই ত্যাগের ফল হিসেবে আওয়ামী লীগ সভাপতি জননেত্রী শেখ হাসিনা নৌকার প্রার্থী করেছেন খোদেসতা বেগম রীনাকে। আর শেখ হাসিনার আস্তাকে সম্মান জানিয়েছেন ভোটাররাও। রামুর দক্ষিণ মিঠাছড়ির ঐতিহ্যবাহি রাজনৈতিক পরিবারের বউ হিসেবে এবং আওয়ামী লীগের নেত্রী হিসেবে, দানে উদার হস্ত রীনাকে ব্যালট বিপ্লব ঘটিয়ে বিজয়ী করেছেন ইউনিয়নের সর্বস্তরের ভোটাররা। এটি গৌরবের।

খোদেসতা বেগম রীনা বলেন, বাবা ও স্বামীর পরিবারের ঐতিহ্যগত ভাবেই রাজনীতি ও সামাজিক কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত থাকা। অসহায় মানুষের সহায় হওয়ার শিক্ষা নিয়েই বাবার বাড়িতে বড় হয়েছি। স্বামীর বাড়ি এসেছেও একই কর্মকান্ডের সাথে সময় গেছে। মানুষের জন্য কাজ করা নিত্যদিনের রুটিন হিসেবে গণ্য। একাজে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনাদর্শই অনুকরণীয় আমার। তাই নৌকার কর্মী হিসেবে নিরবে কাজ করেছি। দলীকর্মী হিসেবে সাধারণ মানুষের কন্ঠস্বর হয়ে পথ চলছি। কিন্তু কখনো ভাবিনি প্রকাশ্যে নির্বাচনে এসে জনমানুষের জন্য এভাবে দায়িত্ব কাঁধে নেবো। দলীয় সিদ্ধান্তে নৌকা নিয়ে নির্বাচনি মাঠে দৌঁড়েছি। একজন নারী হয়েও আটজন প্রতিদ্বন্দ্বী পুরুষ প্রার্থীর সাথে লড়েছি, তাদের পেছনে ফেলে বিজয়ী হয়েছি। এটি আমার জীবনের বড় অভিজ্ঞতা হয়ে থাকবে।

খোদেসতা রীনা আরো বলেন, দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনা আমার উপর আস্থা রেখে নৌকা দিয়েছেন, আর জনগণ ভালোবেসে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করে আমায় দায়বদ্ধতায় আবদ্ধ করেছেন। ইউনিয়নবাসীর কথা আজীবন মনে রাখবো। দলের নেতাকর্মীসহ যারা আমার জন্য রাতদিন পরিশ্রম করে কাজ করেছেন তাদের কাছে আমি চিরঋণী হয়ে গেলাম।

পুরো ইউনিয়নের সোয়া ১৬ হাজার ভোটার ও লাখো ইউনিয়নবাসীর চেয়ারম্যান আমি। আমার দরজা সবার জন্য উন্মুক্ত। যেকোন প্রয়োজনে সহযোগিতার জন্য মানুষকে তার কাছে আসার অনুরোধ জানান নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান খোদেসতা।

উল্লেখ্য, রামুর দক্ষিণ মিঠাছড়ির নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান খোদেসতা বেগম রীনা ইউনিয়ন মহিলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক। তিনি ইউনিয়নের একাধিবারের চেয়ারম্যান আওয়ামীলীগ নেতা মনিরুল আলম চৌধুরীর সহধর্মীনী। তার বাবা পিটিআই-এর সাবেক সুপারিন্টেন্ডেট এ. এফ. এম শামশুদ্দিন আহমেদ। তিনি ১৯৮২ সালে চট্টগ্রামের পটিয়ার হাবিলাসদ্বীপ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় হতে এসএসসি, পটিয়ার হুলাইন সালেহ নূর ডিগ্রি কলেজ থেকে ১৯৮৪ সালে এইচএসসি ও ১৯৯৪ সালে কক্সবাজার সরকারি কলেজ থেকে স্নাতক পাশ করেন খোদেসতা বেগম। তিনি চট্টগ্রামের প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ আওয়ামী লীগ নেতা আখতারুজ্জামান বাবুর ভাগনী ও বর্তমান ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান জাবেদ এমপির ফুফাতো বোন। তাঁর দু’ভাইয়ের মাঝে ছোট এক ভাই বর্তমানে উচ্চ আদালতের বিচারক এবং বড় ছেলে সাদ চৌধুরী ঢাকা কোর্টের আইনজীবী। 

বাংলাধারা/এফএস/এফএস

আরও পড়ুন