মাকসুদ আহম্মদ, বিশেষ প্রতিবেদক»
গত শুক্রবার থেকে পাঁচ দিনের জন্য বাংলাদেশ- পাকিস্তানের চট্টগ্রাম টেস্ট ক্রিকেট খেলাকে কেন্দ্র করে পুলিশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। এতে সকাল-সন্ধ্যা যানজট চরমে পৌছানোয় নগরবাসি দুষছে ট্রাফিক পুলিশ বিভাগকে। এতে পরীক্ষার্থীসহ নগরবাসীর উপর হয়রানির মাত্রা বেড়েছে। সর্বশেষ মঙ্গলবার পর্যন্ত সকাল সাড়ে ৮টা থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক লালখান বাজার মোড় থেকে জাকির হোসেন রোডে যান চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছে ট্রাফিক পুলিশ। পুলিশের আকস্মিক এমন সিদ্ধান্তে জনমনেও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

গত শুক্রবার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত টানা পাঁচদিন ট্রাফিক পুলিশের এমন সিদ্ধান্ত খেলোয়াড়দের সুবিধা দিতে গিয়ে নগরবাসীর জীবন যাত্রাকে নাভিশ্বাসে রুপ দিয়েছে। অফিস যাত্রার সময় এ ধরনের বিপত্তি চাকুরীজীবিদের ভোগান্তীর মুখে ঠেলে দিয়েছে। এদিকে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীারাও এই ভোগান্তীর মুখে পড়ে রবিবার স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানে যেতে বেগ পেতে হয়েছে। এখন নগরবাসী যনচলাচল স্বাভাবিক হবার প্রহর গুনেছে।
অভিযোগ রয়েছে, বিনোদনের নামে মানসিক হয়রানি অতীতে কখনো ছিল না। ২০১১ সালের বিশ্বকাপের সময়ও এমন নিরাপত্তা বেষ্টনি গড়ে তোলা হয়নি। কিন্তু ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারীর মতোই এবারও সাধারণ টেষ্ট ম্যাচকে ঘিরে যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির পেছনে কি রয়েছে তা এখন প্রশ্নবিদ্ধ। অতীতে নগরীর জাকির হোসেন সড়কে সামান্য কিছু জায়গায় যান চলাচল বন্ধসহ পথচারীদেরও গতিরোধ করার কোন প্রবণতা ছিল না।

দেশী ও বিদেশি খেলোয়াড়রা গত কয়েক বছর ধরে জিইসি মোড় সংলগ্ন হোটেল পেনিনসুলায় অবস্থান নিতো। কিন্তু গত দুবছর যাবৎ ‘রেডিসন ব্লু’ কে কেন্দ্র করে নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশের কাছে সিডিউল ছিল। সিডিউল অনুযায়ী খেলোয়াড়রা মাত্র ৩০ মিনিট সময়ের মধ্যে হোটেল থেকে বেরিয়ে সাগরিকা জহুর আহম্মেদ স্টেডিয়ামে পৌছাতো। কিন্তু এই আধ ঘন্টা সময়ের জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়ে চলাচল করতো খেলোয়াড়রা। কিন্তু পুলিশ কেন অতিরিক্ত সময় সড়ক ব্লক করে হয়রানি সৃষ্টি করেছে তা নিয়ে নানা সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে।
ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, দেশী-বিদেশী খেলোয়াড়দের চলাচলের সুবিধার্থে গত শুক্রবার সকালে সাড়ে ৮টা থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত সাগরিকা মোড় থেকে জিইসি হয়ে লালখান বাজার মোড় পর্যন্ত প্রায় ৭ কিলোমিটার যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়। ফলে এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি আকস্মিক বন্ধ করে রাখায় পরীর্ক্ষী ও যাত্রীদের ভোগান্তী চরমে উঠেছে।

আকবরশাহ এলাকার ব্যবসায়ীরা জানান, খেলোয়াড়দের নিরাপত্তায় প্রতিদিন সাকাল-সন্ধ্যা এ সড়কে কোন ধরনের মালামাল লোডিং বা আনলোডিং করা যায়নি। খেলোয়াড়দের গাড়ী ছাড়ার আগ মুহুর্তএ থেকে মাঠে গাড়ী না পৌছানো পর্যন্ত দোকান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে কর্তব্যরত পুলিশেদের কাছ থেকে। কিন্তু কেন এমন সিদ্ধান্ত নিরাপত্তার নামে ব্যবসায়ীদের ক্ষতি ছাড়া আর কিছুই নয়। তবে শুক্রবার-মঙ্গলবার পর্যন্ত সকালে খেলোয়াড়রা যাওয়ার প্রায় আধঘন্টা আগেই ঐ সড়কের পাশে থাকা সব ধরনের দোকানপাট বন্ধ করে দেয় পুলিশ।

সিএমপি’র সিটি এসবি সূত্রে জানা গেছে, হোটেল রেডিসন ব্লু’তে বাংলাদেশ ক্রিকেট টিম ও পাকিস্তান টিম টেষ্ট ম্যাচ খেলতে চট্টগ্রাম ছিল। গত শুক্রবার সকাল থেকে বুধবার দুপুর পর্যন্ত উভয় টিম এই হোটেলে ছিল। এই হোটেল থেকেই প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৮টায় বাংলাদেশ দল ও পাকিস্তান টিম হোটেল সাগরিকা জহুর আহম্মদ স্টেডিয়াম অনুশীলনে যাবার সিডিউল ছিল। হোটেল থেকে সাগরিকার জহুর আহমম্মদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের মধ্যে চলাচল করার জন্য জিইসি মোড় থেকে সাগরিকা মোড় পর্যন্ত ২ দফায় মোট ২ ঘন্টা এই সড়কে যান চলাচল বন্ধ ছিল। এছাড়াও পুলিশের কড়া নজরদারী ছিল পথচারীদের উপর।
বাংলাধারা/এফএস/এফএস












