বাংলাধারা প্রতিবেদন»
আজ মহিউদ্দিন চৌধুরীর ৭৭তম জন্মদিন । ১৯৪৪ সালের ১ ডিসেম্বর রাউজানের গহিরার সম্ভ্রান্ত চৌধুরী বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী। সেই শিশু কালক্রমে হয়ে উঠেন চট্টলবীর।
এই দিনে তাঁর স্মরণে সকাল থেকে চট্টগ্রামে চলবে খতমে কোরআন, মিলাদ, কবর জেয়ারত, ফাতেহাসহ নানা আয়োজন।
বীরচট্টলার এই সিংহ পুরুষ ২০১৭ সালের ১৫ ডিসেম্বর নগরের একটি ক্লিনিকে ইন্তেকাল করেন। কিন্তু তার আগে রেখে গেছেন সুদীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন। নানা উত্থান-পতন ও ঘটনাপ্রবাহে চট্টগ্রামের প্রতিটা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে তিনি ছিলেন আছেন থাকবেন। এই বীরের জন্মদিনে জনপ্রিয় নিউজপোর্টাল বাংলাধারা ডটকম জানাচ্ছে বিনম্র শ্রদ্ধা। চট্টগ্রামবাসীর বিপদ কিংবা আপদে অথবা রাষ্ট্রিয় বঞ্চণায় যে মানুষটি নিজ দলের বিরুদ্ধেও লড়াই করেছেন তিনি হলেন চট্টগ্রামবাসীর ‘মেয়র সাব’ মহিউদ্দিন চৌধুরী। জীবনের শেষ সময় শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লেও তাঁর মনোবল ছিল পাহাড়সম। তাঁর মৃত্যু পরবর্তী জানাজায় প্রমাণ করে তাঁর প্রতি চট্টগ্রামবাসীর ভালোবাসা কতটা। ছাত্রজীবন থেকেই এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী ছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের আদর্শের সৈনিক। তিনি জড়িয়ে পড়েন ছাত্রলীগের রাজনীতিতে। মুক্তিযুদ্ধ শুরুর দ্বিতীয় দিনে নুর আহাম্মদ সড়কের নেভাল এভিনিউ মোড়ে লড়াই করতে গিয়ে গ্রেপ্তার হন। এরপর ভারতে গিয়ে প্রশিক্ষণ শেষে গিরিশংকুল পাহাড়ি এলাকা দিয়েই সদলবলে ঢুকেন দেশে। প্রাণপণ লড়াই করেন দেশমাতৃকার জন্য। মুক্তিযুদ্ধের পর ক্রমেই শ্রমিক লীগের রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন তিনি।
১৯৭৫ সালে হত্যা করা হয় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। তখনই বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিশোধ নিতে ভারতে গিয়ে সামরিক প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন। ফিরে এসে চট্টগ্রামকে ‘সারাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন’ করে বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিশোধ নিতে এসে হারান ঘনিষ্ঠ বন্ধু মৌলভী সৈয়দকে। পরবর্তী দীর্ঘ সামরিক শাসনের সময় মহিউদ্দিনকে বেশ কয়েকবার কারাবরণ করতে হয়েছিল। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা আন্দোলন, অসহযোগ আন্দোলনসহ চট্টগ্রামের মাটি ও মানুষের স্বার্থরক্ষার আন্দোলনে বেরিয়ে পড়তেন সবার আগে। বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী মহিউদ্দিন চৌধুরী ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচিত মেয়র। টানা ১৭ বছর এ সংস্থাকে সফলভাবে পরিচালনা করে নগরবাসীকে একটি আধুনিক ও পরিচ্ছন্ন নগরী উপহার দিতে সক্ষম হন তিনি। তিনি দেশ স্বাধীনতার পর থেকে মৃত্যু অবধি চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। তিনি ১৯৯৩ সাল থেকে ২০০৯ পর্যন্ত কয়েক দফায় বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম নগর ও বন্দর নগরী চট্টগ্রামের নগর মেয়রের দায়িত্ব পালন করেছেন।
২০১৭ সালে ১৫ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম নগরীর একটি বেসরকারি ক্লিনিকে সকলকে শোকের সাগরে ভাসিয়ে চিরবিদায় নেন বর্ষীয়ান এই রাজনীতিক। মৃত্যুকালে বর্ষীয়ান এই রাজনীতিক সাংসারিক জীবনে দুই ছেলে ও চার কন্যা সন্তানের জনক।
বাংলাধারা/এফএস












