বাংলাধারা প্রতিবেদক »
বন্দর নগরীর জাকির হোসেন রোডের ঝাউতলা রেল ক্রসিংয়ে প্রাণ ঝরেছে দুই যাত্রীসহ এক ট্রাফিক পুলিশের। শনিবার সকাল সাড়ে ১০ টায় সিএনজি, ট্রেন ও বাসের ত্রিমুখী সংঘর্ষে ঝরে যায় তরতাজা এই তিন প্রাণ।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গেটম্যানের দায়িত্ব অবহেলার কারণে ঘটে এই দুর্ঘটনা। ওই সময় সে ব্যারিকেড না নামিয়ে দায়িত্বরত গেটম্যান চলে যায় নাস্তা খেতে। এতে ঘটে যায় করুণ এ মৃ্ত্যুর ঘটনা।
জানা যায়, ঝাউতলার এই রেল ক্রসিং দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৯টি ট্রেন চলাচল। যার মধ্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়মুখী ট্রেন চলাচল করে ৬টি এবং চট্টগ্রাম নাজিরহাটমুখী ট্রেন চলাচল করে ৩টি। তবে ব্যস্ততম এই ক্রসিং দিয়ে নিয়মিত ৯টি চলাচল করলেও দায়িত্ব পালনে রয়েছে বেশ ফারাক। ঝাউতলার এই রেল ক্রসিং দিয়ে ট্রেন চলাচল করলেও নামানো হয় না পূর্বে দিকের ব্যারিকেড। হাতের ইশারায় থামিয়ে দেওয়া হয় গাড়ি। ফলে রেললাইন ঘেঁষে দাঁড়াতে হয় গাড়ি গুলোকে। পশ্চিম দিকের ব্যারিকেড দেওয়ার পর ও পূর্ব দিকে সচল রাখা হয় যান চলাচল।
শনিবার সকালেও পূর্বের পাশে ব্যারিকেড না ফেলে যান চলাচল থামিয়ে দিয়ে গেটম্যান চলে যায় নাস্তা খেতে। ব্যারিকেড না থাকায় দুর্ঘটনার শিকার সিএনজি অটোরিকশা ও আরেকটি মাহিন্দ্রা গাড়ি একদম রেল লাইন ঘেষেঁ দাঁড়ায়। এরপর নিউ মার্কেট থেকে ভাটিয়ারীগামী নগরীর ৭ নম্বর বাস এসে জোরে ধাক্কা দেয় সিএনজি অটোরিকশা ও মাহিন্দ্রাটিকে। কোনো ব্যারিকেড না থাকায় টেম্পুসহ সিএনজি অটোরিকশাটি নাজির হাট থেকে আসা চট্টগ্রাম স্টেশনমুখী ডেমু ট্রেনের সাথে ধাক্কা লেগে দুমড়েমোচড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলে মারা যান নগরীর হামজারবাগ এলাকার সৈয়দ বাহাউদ্দিন। গুরুতর আহত অবস্থায় চমেকে নেওয়ার পথে মারা দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশ কস্টেবল মোহাম্মদ মনির হোসেন। এরপর চট্টগ্রাম মেডিকেলে মারা যান গুরুতর আহত শাহীন নামে আরো একজন।
এই ত্রিমুখী সংঘর্ষে আহত হয়েছেন প্রায় ১০ জন। যাদের বেশিরভাগের অবস্থাই আশঙ্কাজনক।
চাকরি যোগদানের মাত্র ৯ মাসের মাথায় সড়কে দায়িত্বে থেকে সড়কেই প্রাণ হারান ট্রাফিক কনস্টেবল মো. মনির হোসেন। প্রতিদিন ঝাউতলা রেলগেট এলাকায় ট্রাফিকের দায়িত্ব সামলাতেন তিনি।
জানা গেছে, সকালে দুর্ঘটনার আগে আরো একটি ট্রেন পার হয়ে যায় ঝাউতলা রেল ক্রসিং। স্থানীয় পথচারীর সাথে দায়িত্ব পালনে অবহেলার কারণে বাকবিতণ্ডায় জড়ায় গেটম্যান। এসময় একটি টেলিফোন নিয়ে তাকে ঘুরাঘুরি করতে দেখা যায়।
সাইফুল নামে একজন পথচারী জানান, এখানে দায়িত্বরত গেটম্যান ট্রেনের শেষ বগি না যাওয়ার আগে তুলে দেন ব্যারিকেড। আরেক পাশের ব্যারিকেড ফেলতে তাকে কখনো দেখিনি।
ঘটে যাওয়া এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান দায়িত্বরত আরেক ট্রাফিক পুলিশ কনস্টেবল।
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, ঝাউতলার এই রেল গেটে ৩ জন গেটম্যান দায়িত্ব পালন করার কথা থাকলেও প্রায় সময় দেখা যায় একজনকে। আর তিনি ব্যস্ত থাকেন গানের তালে।
দূর্ঘটনার বিষয়ে রেলওয়ে পুলিশ চট্টগ্রামের এসপি হাছান চৌধুরী বাংলাধারাকে বলেন, ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই বিষয়ে কারো দায়িত্ব অবহেলার প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শাহীনুজ্জামান বলেন, এ ঘটনায় তিনজন নিহত হয়েছেন। ঘটনার তদন্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাংলাধারা/এসএএআর












