মাকসুদ আহম্মদ, বিশেষ প্রতিবেদক »
শনিবার সকাল সাড়ে দশটায় নাজিরহাটমুখী আপলাইনে চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে যাওয়া ডেমু ট্রেনের সঙ্গে দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত হতে যাচ্ছে নষ্ট গেটের ব্যারিয়ার। তদন্ত কমিটির সদস্যরা রেলকে বাঁচাতে এমন রিপোর্ট জমা দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সেখানে একটি ব্যারিয়ার না থাকার কারণেই গেটম্যান হাতের ইশারায় টু-ওয়ে সড়কের মধ্যে পশ্চিমমুখী সড়কের গাড়িগুলোকে থামিয়ে রাখে। এসময় স্থানীয় টোকাই ও ট্রাফিক পুলিশকেও মাঝেমধ্যে ব্যবহার করে। তবুও যেন গাড়িগুলো থামনো যায় না। আবার ব্যারিয়ার তুলতে একটু দেরি হলে মাঝেমধ্যে গাড়ি চালকদের বকাঝকা শুনতে হয় গেটম্যানকে। এতে উভয় সংকটে থাকে গেটম্যান।
অভিযোগ রয়েছে, খুলশী রেলগেট লাগোয়া রয়েছে ট্রাফিক পুলিশের বক্স। ফলে গাড়ির কাগজপত্র পরীক্ষার নামে যত্রতত্র গাড়ি থামায় ট্রাফিক পুলিশ। এই ফাঁকে অনেক সময় গাড়ির জ্যাম লেগে যায়। ঠিক ওই মুহূর্তে কোন ট্রেন ওই এলাকা অতিক্রম করার সময় আরেক ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। তখনও পশ্চিমমুখী সড়কের গেটে ব্যারিয়ার লাগাতে বেগ পেতে হয় গেটম্যানকে। একই ধরনের ঘটনা ঘটে আমবাগান রেলগেট ও ঝাউতলা রেলগেটেও। মোটরসাইকেলের লাটভাই আর ঘাড়ত্যাড়া পথচারীরা এসব ব্যারিয়ার মানতে নারাজ।

প্রত্যক্ষভাবে দেখা গেছে, শনিবার সকাল ১০টা ২৫ মিনিটে পাহাড়তলীস্থ কন্ট্রোলরুম থেকে চট্টগ্রাম কেবিনে কল যায়— চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে যাওয়া ডেমু (ডিজেল ইলেকট্রিক মাল্টিপারপাস ইউনিট) ট্রেনটি ঝাউতলা স্টেশন অতিক্রম করছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে কর্তব্যরত ঝাউতলা বাজার ও খুলশীর গেটম্যানকে চট্টগ্রাম কেবিন থেকে ব্যারিয়ার ফেলতে বলা হয়। সে অনুযায়ী খুলশী রেল গেটের গেটম্যান প্রথমে জাকির হোসেন সড়কের পূর্বমুখী ব্যারিয়ারটি ফেলে পশ্চিমমুখী সড়কে হ্যান্ড সিগন্যাল দিয়ে গাড়ি থামানোর চেষ্টা করছিল। গত কয়েক বছর ধরে ব্যারিয়ারটি নষ্ট থাকলেও ডিভিশনাল ইঞ্জিনিয়ারিং বা প্রকৌশল বিভাগটি তা মেরামতের কোন ব্যবস্থা নেয়নি। বারবার তাগিদ দেওয়ার পরও কেন যেন ব্যারিয়ার মেরামত করা হচ্ছে না।
আরও জানা গেছে, ট্রেনের বাইপাস রুটে ট্রেন পরিচালনায় পাহাড়তলীস্থ কন্ট্রোল থেকে চট্টগ্রাম কেবিনে কল দেওয়ার পর রেলগেটের ব্যারিয়ার ফেলতে বলা হয়। প্রত্যেকটি স্টেশন ঊর্ধ্বমুখী রেলগেটগুলোকে জানিয়ে দেয় জননিরাপত্তায় ব্যারিয়ার ফেলতে। প্রত্যেকটি রেলগেটে তিন শিফটে দুজন করে ৬ জন গ্যোটম্যান থাকার কথা। কিন্তু খুলশীর এই গেটে মাত্র দুজন কর্মরত। বাকি ৪ জনকে নিয়োগ না দেয়ায় এই দুজনই ৬ জনের কাজ তিন শিফটে চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু রেলের হিসেবের খাতায় ৬ জন থাকলেও ৪ জন কাজ করছে না। বরাদ্দ থাকলেও যোগান না থাকায় রেলগেট পরিচালনা স্বাভাবিক নয়।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, খুলশী রেলগেট ঘেঁষেই ট্রাফিক পুলিশের বক্স রয়েছে। প্রতিনিয়ত এই বক্সে কর্তব্যরতরা গাড়ি থামিয়ে নীরব চাঁদাবাজিতে ব্যস্ত থাকে পোশাকধারী ট্রাফিক পুলিশরা। রাস্তায় প্রতিনিয়ত গাড়ি আটকিয়ে ডকুমেন্টসহ চালককে ওই বক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। তারপর দফারফা করে ছেড়ে দেওয়া হয়। রেল গেটের কাছেই ট্রাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে অনিয়মতান্ত্রিকভাবে গাড়ি থামানো হয়। যার পার্কিং সাধারণত রাস্তার মাঝখানেও করতে বাধ্য হয় চালক। এমন পরিস্থিতিতে কোন ট্রেন এই রেলগেট অতিক্রম করার সময় বেকায়দায় পড়ে যায়।












