কক্সবাজার প্রতিনিধি »
পুলিশের গুলিতে নিহত সেনাবাহিনীর মেজর (অব.) সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলায় ৬৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য এবং জেরা সম্পন্ন হওয়ার পর নবম দফার তিনদিনের কার্যক্রম ৬ ডিসেম্বর শুরু হয়েছে। ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আসামিদের আদালত কাঠগড়ায় সনাক্ত করণের পর সাফাই সাক্ষ্য গ্রহণ চলছে। প্রথম দিনে ১৪ জন আসামিকে সনাক্ত করণ শেষে সাফাই আহবান করা হয়। কিন্তু তারা কেউ সাফাই সাক্ষী দিবে না জানিয়ে লিখিত বক্তব্য আদালতে পেশ করেছে। বাকি একজন এসআই নন্দ দুলালকে মঙ্গলবার (৮ডিসেম্বর) পরীক্ষা করে তার বক্তব্য নেয়া হবে।এমনটি জানিয়েছেন কক্সবাজার জেলা জজ আদালতের সরকারি কৌসুলি ও পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট ফরিদুল আলম।
নবম দফের কার্যক্রম উপলক্ষে সোমবার (৬ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ৯ টায় ওসি প্রদীপসহ এই মামলার ১৫ জন আসামিকে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থায় আদালতে নিয়ে আসা হয়। সোয়া ১০টা হতে আসামীদের বক্তব্য গ্রহণ শুরু করে কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইসমাইলের আদালত।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ফরিদুল আলম বলেন, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা র্যাব-১৫ এর তৎকালীন জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার মো. খায়রুল ইসলামকে পাঁচ দিন আসামি পক্ষের আইনজীবীরা জেরা করেন। এরপর অষ্টম দফার শেষ দিন গত বুধবার (১ ডিসেম্বর) আট আসামি তাদের বক্তব্য আদালতে উপস্থাপন করেছেন। অন্য সাত আসামির বক্তব্য গ্রহণের জন্য সোমবার থেকে ৭ ও ৮ ডিসেম্বর দিন ধার্য করে আদালত।
তিনি বলেন, বুধবার দুপুরে জেরা শেষ হওয়ার পর সাক্ষীদের বক্তব্য আসামিদের শোনানো হয়। ওই দিন আট আসামি তাদের বক্তব্য শেষ করেন। তবে তারা সাফাই সাক্ষী দেবেন না বলে আদালতকে জানিয়েছেন। সোমবার সকাল হতে বাকি আসামীদের শুনানো হয় তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষীদের বক্তব্য। সব শুনানো শেষে আসামীদের পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য আহবান করা হলে ১৪ আসামী সাফাই সাক্ষী দিবে না জানিয়ে লিখিত বক্তব্য আদালতে পেশ করেছেন। বাকি একজন এসআই নন্দ দুলালকে মঙ্গলবার (৮ডিসেম্বর) পরীক্ষা করে তার বক্তব্য নেয়া হবে।
গত বছরের ৩১ জুলাই রাতে টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের শামলাপুর তল্লাশি চৌকিতে পুলিশের গুলিতে মেজর সিনহা নিহত হন। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে তিনটি (টেকনাফে দুটি, রামুতে একটি) মামলা করে। ঘটনার পর গত ৫ আগস্ট কক্সবাজার আদালতে প্রদীপ কুমার দাশ, লিয়াকত আলীসহ ৯ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন মেজর সিনহার বড়বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস।
আলোচিত এ মামলায় গত বছর ১৩ ডিসেম্বর তদন্ত কর্মকর্তা ও র্যাব-১৫ কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের তৎকালীন দায়িত্বরত সহকারী পুলিশ সুপার খাইরুল ইসলাম ওসি প্রদীপসহ ১৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। গত ২৭ জুন আদালত ১৫ জন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। মামলায় ৮৩জনকে সাক্ষী করা হয়েছে। তাদের মধ্যে এ পর্যন্ত ৬৫জনের সাক্ষ্যপ্রদান করেছেন।












