২৬ মার্চ ২০২৬

সীতাকুণ্ডে সড়কে ঢালাইয়ের পরের দিনই ফাটল, বালি দিয়ে জোড়াতালি

সীতাকুণ্ড প্রতিনিধি »

সীতাকুণ্ড উপজেলার ৫নং বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের মান্দারীটোলা সি সড়কে পৌনে ১৪ কোটি টাকার রাস্তা ঢালাইয়ের একদিন পরই ফাটল ধরেছে। এসব ফাটল যাতে দেখা না যায় তার জন্য দেয়া হচ্ছে জোড়াতালি। এতে নির্মাণ সংস্কারের কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) অর্থায়নে বাড়বকুণ্ড সি রোডের কাজটির টেন্ডার পায় তিনটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানগুলো হল— আমিন ইন্টারন্যাশনাল, হাসান মোটরস ও চৌধুরী এন্টারপ্রাইজ। যার সংস্কার নির্মাণ কাজে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১৪ কোটি টাকা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ওই সড়কে গত মঙ্গলবার সকাল থেকে ঢালাইয়ের নির্মাণ কাজ শেষ করার মাত্র একদিন পর প্রায় আধা কিলোমিটারের মতো রাস্তায় ফাটল দেখা দিতে শুরু করেছে। ফাটলের বড় বড় স্থানগুলো যাতে দেখা না যায় তার জন্য সেখানে বালু দিয়ে রেখেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চৌধুরী এন্টারপ্রাইজ। শুধু তাই নয় রাস্তার দুই পাশে কাটা মাটির মিশ্রিত বালু ও নিম্নমানের ইটের গুড়া ব্যবহার করা হচ্ছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রকল্পগুলোতে নিম্নমান সামগ্রী ব্যবহারে ফলে কিছু দিনের মধ্যে পুরো রাস্তা ভেঙে যাবে। কয়েক মাস যেতে না যেতেই ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়বে সড়কটি। যার দরুন সরকারি বরাদ্দে অবমূল্যায়নের ফলে দুর্ভোগের শিকার হতে হবে এলাকাবাসীকে।

রাস্তা ফাটলের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মো. গোলাম মোস্তফা বিষয়টি তদন্ত করে দেখবেন বলে জানান।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চৌধুরী এন্টারপ্রাইজের সত্ত্বাধিকারী ফরিদ উদ্দিন মুঠোফোনে এ বিষয়ে অবগত নন বলে জানিয়ে কৌশলে এড়িয়ে যান। তিনি তাকে চৌধুরী এন্টারপ্রাইজের মালিক অস্বীকার করে ম্যানেজার বলে দাবি করে।

সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শাহদাৎ হোসেন বলেন, অনিয়মের অভিযোগ আমি শুনেছি, প্রকৌশলীর মাধ্যমে পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন বলে তিনি জানান।

স্থানীয় সামাজিক সংগঠনের নেতা এএইচ এম কাইয়ূম বলেন, এই সি-রোড নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম চলছে। কোন অভিযোগই ঠিকাদার কর্ণপাত করছেন না। এখানে কালবার্ড, নালা নির্মাণের কাজ রয়েছে, তা না করেই রোডে কোম্পানিগুলোর ২৫/৩০ টনি গাড়ী চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন