জেলা প্রতিনিধি, কক্সবাজার»
বীর মুক্তিযোদ্ধা আমজাদ হোসেনকে (৭০) প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টা মামলায় তালিকাভুক্ত আসামী কক্সবাজারের মহেশখালী পৌর মেয়র মকছুদ মিয়াকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজার আদালত পুলিশের পরিদর্শক চন্দন কুমার চক্রবর্তী।
তিনি জানান, বুধবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে কক্সবাজার চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করেন মহেশখালীর পৌর মেয়র মকছুদ মিয়া। দুই পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক আলমগীর মোহাম্মদ ফারুকীর আদালত তার জামিন আবেদন না মন্জুর করে কারাগারে প্রেরনের আদেশ দেন।
বাদী পক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ মোস্তাফা বলেন, মেয়র মকছুদ মিয়া প্রথমে বীর মুক্তিযোদ্ধা আমজাদ হোসেনের চিংড়ি ঘের ডাকাতি ও দখলের চেষ্টা করেন। এ ঘটনার পর পুলিশ মামলা না নেয়ায় বাধ্য হয়ে কোর্টে মামলা করে ভুক্তভোগী আমজাদ হোসেন। আদালত মামলটি আমলে নিয়ে নথিভুক্ত করার জন্য থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন।
এর জেরে গত ২৪ নভেম্বর রাতে মহেশখালী পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের আলিশান রোডের মোড় এলাকায় মেয়র মকছুদ মিয়া নিজেই কিরিচ হাতে বীর মুক্তিযোদ্ধা আমজাদ হোসেনকে কুপিয়ে হত্যা চেষ্টা করে। এ ঘটনায় মামলা হলেও উচ্চ আদালত থেকে ৬ সপ্তাহের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন জামিন নেন মেয়র মকছুদ।
আদালতের নির্দেশনা মতে বুধবার নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করেন তিনি। আদালতে তার জামিন আবেদন খারিজ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
এড. মোহাম্মদ মোস্তাফা আরও বলেন, বাংলাদেশ সৃষ্টির পেছনে বীর মুক্তিযোদ্ধা আমজাদ হোসেনের অবদান রয়েছে। অপরদিকে মেয়র মকছুদ একজন তালিকাভুক্ত রাজাকারের ছেলে। তার পেছনে শুধু অন্ধকার। বিষয়টি আদালতে তুলে ধরা হয়েছে।
এদিকে, বুধবার বিকেলে আদালতের হাজতখানা থেকে বের করে মেয়র মকছুদ মিয়াকে ভিআইপি প্রটোকল ও বিলাশবহুল মাইক্রোবাসে করে কারাগারে নিয়ে যেতে দেখাগেছে। এসময় সাংবাদিকরা ছবি তুলতে গেলে পুলিশের সামনে মকছুদ মিয়ার ক্যাডার বাহিনী সাংবাদিকদের বাঁধা সৃষ্টি করে।
এ বিষয়ে কক্সবাজার আদালতের পুলিশ পরিদর্শক চন্দন কুমার চক্রবর্তী বলেন, ক্যাডার বাহিনী কৃর্তৃক সাংবাদিকদের বাঁধা প্রদানের বিষয়টি আমি জানি না। ভিআইপি প্রটোকলের বিষয়ে তিনি বলেন, আদালতের হাজতখানা মকছুদ মিয়ার কর্মী সমর্থকরা ভিড় করার কারনে তাকে পুলিশ পাহারায় দ্রুত কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।












