বাংলাধারা ডেস্ক »
খাগড়াছড়িতে সদর উপজেলায় গুগড়াছড়িতে ধর্মসুখ বিহারের অধ্যক্ষ বিশুদ্ধ মহাথেরকে হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে সংঘরাজ ভিক্ষু সমিতি ও চকরিয়া উপজেলার বৌদ্ধ জনসাধারণ।
সোমবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকাল ৩টায় কক্সবাজারের চকরিয়ায় চট্টগ্রাম মহাসড়কস্থ স্টেশন মেইন রোডে এ মানববন্ধন কর্মসূচী অনুষ্ঠিত হয়। বিভিন্ন বিহারের বৌদ্ধ ভিক্ষু ও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরাসহ সামাজিক, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দরা এ প্রতিবাদ সমাবেশে অংশ নেন।
ঘুনিয়া চন্দ্রজ্যোতি বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ উ. সুমনোপ্রিয় মহাথেরে’র সভাপতিত্বে এ প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এসময় চকরিয়া কেন্দ্রীয় জেতবন বিহার প্রাঙ্গন থেকে একটি মৌন মিছিল বের করে বৌদ্ধ ভিক্ষু ও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা।
কক্সবাজার বৌদ্ধ সুরক্ষা পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পটল বড়ুয়ার সঞ্চালনায় বিশুদ্ধ মহাথের’র হত্যাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবিসহ সব ধরনের হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছেন বক্তারা।
মানবন্ধনে বক্তব্য দেন চকরিয়া কেন্দ্রীয় জেতবন বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ প্রজ্ঞা মুদিতা ভিক্ষু, কক্সবাজার বৌদ্ধ সুরক্ষা পরিষদের সহ-সভাপতি মাস্টার অংখ্যাচিং রাখাইন, চকরিয়া উপজেলা বৌদ্ধ সুরক্ষা পরিষদের সভাপতি প্রিয়দা বড়ুয়া, মানিকপুর বৌদ্ধ ধর্মীয় পরিষদের সভাপতি সোহেল বড়ুয়া, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন কক্সবাজার জেলা সংসদের সভাপতি জয় বড়ুয়া, চকরিয়া উপজেলা খেলাঘরের সভাপতি এ্যাপোলো বড়ুয়া, বাংলাদেশ কলেজ শিক্ষক পরিষদ কক্সবাজার জেলার সভাপতি অধ্যাপক ইন্দ্রজিৎ বড়ুয়া, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ কক্সবাজার জেলার সংগঠনিক সম্পাদক পরিমল বড়ুয়া, চকরিয়া কোরক বিদ্যপীঠের সহকারি শিক্ষক মাস্টার সুজিত বড়ুয়া, অক্ষয় বড়ুয়া প্রমুখ।
মানববন্ধনে বৌদ্ধ ভিক্ষু হত্যার তদন্তমূলক সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানিয়ে বক্তারা বলেন, খাগড়াছড়িতে বিশুদ্ধ মহাথেরকে হত্যা করা হয়েছে। তার কোন ব্যক্তিগত শত্রুতা থাকতে পারেনা। তিনি পরিবার-পরিজনের মায়া ত্যাগ করে, সবকিছুর উর্ধ্বে উঠে একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নিয়ে ছিলেন। গত ৩০ জানুয়ারি খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার গুগড়াছড়ি ধর্মসুখ বিহারের নিজ বিহারে দিবাগত রাতে তাকে কে বা কারা হত্যা করে। তাই এই নৃশংস ঘটনার প্রতিবাদে আমরা মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করেছি।
বক্তারা বলেন, আমরা উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছি, মাঝে মাঝে বৌদ্ধ ভিক্ষুদের ওপর এমন নৃশংস ঘটনা ঘটানো হচ্ছে। অতীতেও এমন ঘটনা ঘটেছে। বারে বারে এমন হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে থাকায় আমরা চরম ক্ষুব্ধ এবং উদ্বিগ্ন। অতীতের ঘটনাগুলোর আজও কোন কুলকিনারা হয়নি। যে বা যারাই এসব ঘটনা ঘটিয়ে থাকুক না কেন আমরা এসব নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবি জানাই।
প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা আরও বলেন, ২০০২ সালের ২১ এপ্রিল রাউজানের হিঙ্গলায় ভদন্ত জ্ঞানজ্যোতি মহাস্থবিরকে তার নিজের প্রতিষ্ঠানে জবাই করে হত্যা করা হয়। ২০১৬ সালের ১৪ মে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের উপর চাকপাড়া গ্রামের বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ভদন্ত ধাম্মাওয়াসা ভিক্ষুকে তার নিজ বিহারে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ২০১৯ সালের ২৫ আগস্ট কুমিল্লা সদর উপজেলার বানাশুয়া রেল ব্রিজের নিচ থেকে এক বৌদ্ধ ভিক্ষুর ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করা হয়। হত্যার মতো একটা জঘন্য অপরাধকে প্রশ্রয় দেয়া মানে এরকম আরো দশটা ঘটনা ঘটার পথ সুগম করে দেয়া। তাই এমন নৃশংস, বর্বোরোচিত, সভ্যতা বিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সবার সোচ্চার হওয়া উচিত। তাই আমরাও আজকে প্রতিবাদ জানাতে এবং অপরাধীকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি নিয়ে রাজপথে দাঁড়াতে বাধ্য হয়েছি।
মানববন্ধনে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি জয় বড়ুয়া বলেন, বাংলাদেশ একটি অসাম্প্রদায়িক দেশ। সকল ধর্মের মানুষের সুশাসন পাওয়া নাগরিক অধিকার। স্বাধীনতা সংগ্রাম মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের বৌদ্ধ সম্প্রদায় ও বৌদ্ধ ভিক্ষুদের অবদান রয়েছে। স্বাধীনতার ৫০ বছর পরেও দেশে এরকম বৌদ্ধ ভিক্ষু হত্যা খুবই দুঃখজনক। দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য এরকম হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার হওয়া জরুরি।












