জেলা প্রতিনিধি, কক্সবাজার»
কক্সবাজারের উখিয়ায় ছিনতাইকালে পুলিশের এক পলাতক সদস্যকে আটক করেছে জনতা। এসময় পরিচয়পত্র দেখিয়ে পার পেতে চাইলেও তাকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। শনিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যার দিকে ছিনতাইকালে পালংখালী এলাকা হতে তিনি জনতার হাতে ধরা পড়েন।
এ সময় তার কাছ থেকে ছিনতাই কাজে ব্যবহৃত ছুরি, ছিনতাই করা দুটি মোবাইল ফোন ও পুলিশের একটি পরিচয়পত্র উদ্ধার করা হয়।
আটক নিরঞ্জন দাস (২৪) সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার মেঘারকান্দি থানার রতীশদাশের ছেলে। তার পরিচয়পত্র নং-(বিপি-৯৮১৭১৯৮৩২৪)। তিনি উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিরাপত্তায় নিয়োজিত পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ১৪ এপিবিএনে কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত থাকাকালীন গত বছরের ১০ সেপ্টেম্বর কর্মস্থল থেকে বিনানুমতিতে লাপাত্তা হয়ে যান।
শনিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যার আগে উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের থাইংখালীর হাকিমপাড়া সড়কে সিএনজির মাধ্যমে কৌশলে ১৪ নং ক্যাম্পের বাসিন্দা এক রোহিঙ্গার মোবাইল ছিনতাইয়ের সময় নিরঞ্জনকে হাতেনাতে আটক করে স্থানীয় কিছু যুবক। পরে তাকে উখিয়া থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।
ঘটনার সময় উপস্থিত স্থানীয়রা জানান, সিএনজিতে যাত্রী হিসেবে ওঠানোর নাম করে এক রোহিঙ্গার মোবাইল ছিনিয়ে নেন নিরঞ্জন। পরে চিৎকার শুনে আমরা এগিয়ে আসি। মোবাইল নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় আমরা তাকে আটক করি। তিনি আইডি কার্ড দেখিয়ে নিজেকে পুলিশের সদস্য বলে পরিচয় দেয়।
স্থানীয়দের দাবি, পুলিশ পরিচয়ে এর আগেও একই কায়দায় ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে ওই এলাকায়।
পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশের সদস্য মোহাম্মদ রফিক বলেন, বেশ কয়েকদিন ধরেই পুলিশ পরিচয়ে পালংখালীর বিভিন্ন এলাকায় একটি চক্র ছিনতাই করে আসছিলো। কিছুদিন আগেও আমার এলাকার স্থানীয় একজনের কাছ থেকে নগদ টাকা ও মোবাইল ছিনিয়ে নেয় চক্রটি।
আটক নিরঞ্জন উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিরাপত্তায় নিয়োজিত পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ১৪ এপিবিএনে কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত থাকাকালীন গত বছরের ১০ সেপ্টেম্বর কর্মস্থল থেকে বিনানুমতিতে লাপাত্তা হয়ে যান উল্লেখ করে শনিবার মাঝ রাতে ১৪ এপিবিএন অধিনায়ক ও পুলিশ সুপার নাঈমুল হক হোয়াটসঅ্যাপ মিডিয়া গ্রুপে লিখেন, নিরঞ্জন গত পাঁচ মাস ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত। বিনা অনুমতিতে দীর্ঘদিন পলাতক থাকায় এখন পর্যন্ত তিনবার তার স্থায়ী ঠিকানায় নোটিশ পাঠানো হয়। পলাতক থাকার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা (যার নং-০৭/২১) তদন্তাধীন রয়েছে। আটকের পর তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন ১৪ এপিবিএন অধিনায়ক।












