বাংলাধারা ডেস্ক »
চট্টগ্রাম অঞ্চলের বন সংরক্ষক বিপুল কৃষ্ণ দাস বলেছেন, হাতি আপনাদের ক্ষতি করলে সরকার আপনাদের ক্ষতিপূরণ দিবে। কিন্তু হাতির কোনো ক্ষতি করা যাবে না। কারও কারণে যদি হাতির মৃত্যু হয় তাহলে জেল-জরিমানার বিধান সরকার রেখেছে। কিন্তু আমরা বিশ্বাস করি আপনাদের কেউই হাতির ক্ষতি করবেন না। যার প্রমাণ আপনারা ইতোমধ্যে দিয়েছেন। এ বিষয়ে যত ধরনের সহযোগিতা প্রয়োজন আমরা তা আপনাদের দেব।
রোববার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বিকাল ৪টায় খুরুশিয়া রেঞ্জের সুখবিলাস বন বিশ্রামাগারে বন্য হাতি সংরক্ষণ ও হাতি-মানুষের দ্বন্দ্ব নিরসণে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় হাতির আক্রমণে নিহতদের স্মরণে ১ মিনিট নিরবতা পালন করা হয় এবং ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে চেক বিতরণ করা হয়। নিহত ২ জনের পরিবারকে ৩ লাখ করে ৬ লাখ এবং ফসল নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এক ব্যক্তিকে ৩০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ প্রদান করে বনবিভাগ।
সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা সফিকুল ইসলাম বলেন, প্রকৃতির বিরুদ্ধে কখনোই টিকে থাকতে পারবো না। হাতি তখনই আপনার ক্ষতি করবে যখন আপনি হাতির ক্ষতি করবেন। একটি বনে হাতি থাকা মানে বন ও এলাকার পরিবেশ ভালো থাকা। আমরা চাইলে হাতি, বন ও মানুষ মিলে সৌহার্দ্যপূর্ণ অবস্থায় বসবাস করতে পারি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি সুখবিলাস ফিশারিজ অ্যান্ড প্লান্টেশনের চেয়ারম্যান এরশাদ মাহমুদ বলেন, বর্তমানে হাতির আবাসস্থল ও খাদ্যের খোঁজে লোকালয়ে আসছে। এতে করে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এর প্রধান কারণ আমরা হাতির চলাচলের পথে বসতি গড়ে তুলছি, তাদের আবাসস্থলে চাষাবাদ করছি। যদি আমরা হাতি চলাচলের পথ মুক্ত রাখি এবং হাতির আবাসস্থলে চাষাবাদ না করি তাহলে আমার সহজেই এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারি। মনে রাখবেন হাতি বাঁচলে বন বাঁচবে, আর বন বাঁচলে মানুষ বাঁচবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ১০ নং পদুয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আবু জাফর, রাঙ্গুনিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা মাসুম কবির, খুরুশিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম, নারিশ্চা বিট কর্মকর্তা মিন্টু দে, কোদালা বিট কর্মকর্তা নবীন কুমার ধর, নেচার কনজানশন ম্যানেজমেন্টে (নেকম) রাঙ্গুনিয়া কমিউনিটি অর্গানাইজার জোবায়েদ ইবনে শাহাদত প্রমুখ।












