১৭ মার্চ ২০২৬

ভালোবাসা অব্যক্ত কথার ঝুড়ি

মাকসুদ আহম্মদ, বিশেষ প্রতিবেদক»

ভালোবাসা মানে শুধু প্রেমিক-প্রেমিকার যুগল প্রেম নয়। ভালোবাসা মানে একে অপরকে স্নেহ মমতার বেড়াজালে রেখে এগিয়ে যাওয়ার পথচলা। মূলত ভালোবাসার অর্থটাই এ সমাজে পরিবর্তিত হয়ে প্রেমিক-প্রেমিকার জুটির মধ্যে আবদ্ধ হয়েছে। এক সময় চিঠি আদান প্রদানের মধ্য দিয়ে ভালোবাসার বহির্প্রকাশের সবচেয়ে বড় অবলম্বন ছিল। কিন্তু ডিজিটালের এ যুগে এসে চিঠি উড়ে গেছে সে সঙ্গে রোমান্টিক বুলিও যেন থেমে গেছে। চট্টগ্রামে বিশ্ব ভালোবাসা দিবস পালনে দেখা গেছে এক ব্যতিক্রমী আয়োজন। নগরীর সিআরবিস্থ শিরিষতলায় আবেগঘন পরিবেশে ভালোবাসার আদান প্রদানের কিছু স্মৃতি ব্যক্ত হয়েছে। আর উন্মুক্ত আকাশের নিচে ভালোবাসা দিবসের অর্থপূর্ণ তাৎপর্য পরিবর্তিত হয়ে তরুণদের মাঝে তাক লাগিয়েছে।

সোমবার সকাল থেকেই সিআরবির শিরিষতলা আর ডিসি হিলকে ঘিরে ছিল জুটিদের মিলনমেলা। গতকাল ছিল বসন্ত উৎসব। বসন্তের আগমনী বার্তা যখন প্রকৃতিতে ছেয়ে গেছে তখন যুগলরাও পিছিয়ে ছিল না চট্টগ্রামের নান্দনিক স্পট পাহাড় আর সবুজ বেস্টনির ডিসি হিল আর শিরিষতলাকে ঘিরে। তবে বসন্ত উৎসবের সে আয়োজনে সেই পোশাকেই সোমবার সকালে অনেক তরুণী নিজেকে রাঙিয়ে তুলে শিরিষতলায় মেতেছে ভালোবাসার আমন্ত্রণে। জুটি বাঁধা সেই যুগলগুলো সিআরবির সাতরাস্তার আশপাশে থাকা গাছের গুড়ি থেকে শুরু করে রেলের বাংলোর সিঁড়ি পর্যন্ত কোথাও যেন অবস্থান নিতে আগ পিছ চিন্তা করেনি। যে যেখানে চেয়েছে সেখানেই বসেছে। তবে একটু বেকায়দায় পড়েছে আবাসিক এলাকার পরিবারগুলো। পরিবার পরিজন নিয়ে বছরের প্রতিটি দিনই এমন চিত্র দেখতে হয় তাদের।

সকাল-বিকালে শিরিষতলায় ভালোবাসার বিভিন্ন স্মৃতির বর্ণনা দিয়েছে প্রেমিক-প্রেমিকারা। কেউ ছেড়ে এসেছে, কেউ নতুনভাবে গড়ে তুলেছে আবার কেউ বা প্রতারণার ফাঁদে পড়ে ভালোবাসাকে হারিয়েছে-এমন বক্তব্য উঠে এসেছে আগতদের কাছ থেকে। তবে শতাধিক তরুণ তরুনীর এ মিলনমেলায় উপস্থিত হতে রিজার্ভ বাসে চড়ে আসতে হয়েছে। শিরিষতলার ঠিক দক্ষিণ পূর্ব কোণে অবস্থান নিয়ে নিজেরাই নিজেদের সঙ্গে মেতে উঠলেও শেষ পর্যন্ত শিরিষতলার বিভিন্ন দিকে ঘোরাফেরা করা যুগলরাও অবস্থান নেয় একই আসনে। গান আর গান যেন ভালোবাসার টান টান উত্তেজনা নিয়ে এ স্থানটি সম্পূর্ণ পরিপাটি ছিল সূর্যাস্ত পর্যন্ত।

ভালোবাসা শুধু পরিবারক কেন্দ্রিক নয়, বিশ্বময় ভালোবাসার টানে চলছে। কোন না কোনভাবে ভালোলাগা থেকেই ভালোবাসার উৎপত্তি। আর এ ভালোবাসায় সাড়া দিয়ে অপরিচিতরাই পরিচিত হয়ে উঠছে ভাব বিনিময়ের মাধ্যমে। পারিবারিকভাবে মায়ের প্রতি ছেলের, ছেলের প্রতি মায়ের, বাবার প্রতি পরিবারের, মেয়ের প্রতি বাবা-মায়ের আর ভাই বোনের যে গভীর সম্পর্ক সে ভালোবাসার দিনগুলো এখন মুষ্টিমেয় কিছু পরিবেশের কারণে সীমাবদ্ধ হয়ে গেছে। চলে এসেছে আধুনিকতার ছোবলে আর ফেইসবুকের আদলে ইন্টারনেটের মাধ্যমে মোবাইলের টাচ স্কীনে। তবে যাদের মোবাইলে টাচ স্কীন নেই তারাও কিন্তু ভালোবাসার পংক্তিগুলো একটু কষ্ট হলেও ম্যানুয়েল ফোন থেকেই স্থানান্তর করছে ভালোবাসার টানে।

বিশ্ব ভালোবাসা দিবসের আবেগঘন মুহূর্ত আর স্মৃতি নিয়ে জমে উঠেছিল সোমবার সকাল থেকে সিআরবির শিরিষতলাসহ পুরনো নগরীর নান্দনিক স্পটগুলো। এছাড়াও পাঁচ তারকা হোটেল রেডিসন ব্লুসহ নগরীর বিভিন্ন হোটেল মোটেল রেস্তোঁরা এবং মিনি চাইনিজ রেস্টুরেন্টগুলোও ছিল জমজমাট। তবে এ জমজমাট পরিবেশে রাজসিক আয়োজনে যারা অংশ নিয়েছে তাদের বেশিরভাগই ছিল তরুণ তরুণী।

আরও পড়ুন