সীতাকুণ্ড প্রতিনিধি »
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের মেসার্স মাহিনুর শিপব্রেকিং ইয়ার্ডে আমদানিকৃত স্ক্র্যাপ জাহাজ এমভি ডোনার জাহাজের মালিকের কাছে তেলের টাকা পাওনা দাবি করে আদালতে মামলা করে কাটিং বন্ধ করে দিয়েছে একটি বিদেশি প্রতিষ্ঠান। এতে স্ক্যাপ জাহাজটি শিপ ইয়ার্ডে বিচিং এর অপেক্ষায় ৯ মাস ধরে সাগরে পড়ে আছে।
এতে জাহাজ লঙর স্হানে বিশাল চর সৃষ্টি হয়ে জাহাজ চলাচলে মারাত্মক ব্যাঘাত সৃষ্টি করছে। ওই স্হানে ড্রেজিং এর পরিকল্পনাও করছে শিপ ইয়ার্ড কর্তৃপক্ষ। জাহাজ ক্রয় মালিক বলছে, সব টাকা পরিশোধপূর্বক জাহাজটি আমদানি করার পরও কাটিং বন্ধ রাখায় ব্যাংক লোন বৃদ্ধি পেয়ে প্রচুর অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে দাবি করেন তিনি। ১ কোটি ৫৫ লাখ ৬৬ হাজার ৮৬০ টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে পাল্টা মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী শিপইয়ার্ড মালিক।
এদিকে এসব জটিলতায় জাহাজটির কাটিং বন্ধ থাকায় আশপাশে পলি জমে ওই এলাকায় নতুন চর সৃষ্টি হচ্ছে। এতে ভবিষ্যতে নাব্যতা সংকটে ড্রেজিং না করলে আশপাশের ইয়ার্ডগুলোতেও জাহাজ আমদানি ব্যাহত হবে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ২৫ এপ্রিল জাপানি পতাকাবাহী ৮ হাজার টন ওজনের জাহাজ এমভি ডোনা এএইচজেট শিপব্রোকার নামক এজেন্টের মাধ্যমে ক্রয় করে বার আউলিয়াস্হ মেসার্স মাহিনুর শিপব্রেকিং ইয়ার্ডে আমদানি করা হয়। এরপর জাহাজটির বেশকিছু অংশ কাটিং হয়ে যাবার পর সাইপ্রাসের প্রতিষ্ঠান টারমো অয়েল লি. জাহাজ ডোনার কাছে তেলের টাকা পাওনা দাবি করে তাদের পক্ষে বাংলাদেশের এজেন্ট মো. হাসেমের মাধ্যমে হাইকোর্টে একটি মামলা দায়ের করে। এতে হাইকোর্ট ওয়ারেন্ট ইস্যু করে জাহাজটি কাটিং বন্ধের নির্দেশনা দেন। সেই থেকে জাহাজটি দীর্ঘ প্রায় ৯ মাস সাগর পড়ে থাকায় এর উভয় পাশে পলি জমে ধীরে ধীরে নতুন একটি চর সৃষ্টি হয়েছে। এই চর দিন দিন আরো বড় হয়ে ওই ইয়ার্ড এলাকায় নাব্যতা সংকট সৃষ্টি করছে।

সোনাইছড়ির জোড় আমতলের বাসিন্দা আওয়ামীলীগ নেতা মোহাম্মদ আলাউদ্দিন ও মো. সোলেমান মেম্বার জানান, সাগরের জলাশয়ে যদি একটি গাছও দীর্ঘদিন পড়ে থাকে সেটি ঘিরে ওই এলাকায় একটি বালুর স্তর জমে যায়। যেহেতু একটি বিশাল জাহাজ মাহিনুর শিপব্রেকিং ইয়ার্ডের সামনের সাগর এলাকায় পড়ে আছে সেখানে জাহাজটি ঘিরে চর পড়ে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে মাহিনুর শিপব্রেকিং ইয়ার্ডের সত্বাধিকারী মো. নুরুন্নবী মানিক বলেন, আমরা ব্যাংক থেকে শত শত কোটি টাকা লোন নিয়ে সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধ করে স্ক্র্যাপ জাহাজ কিনেছি বাংলাদেশী ক্রেতার কাছ থেকে। কেনার আগে বিক্রেতারা এ জাহাজটির কোন দেনা নেই বলে আমাদেরকে লিখিত নথি দেয়। এর প্রেক্ষিতেই আমি স্ক্র্যাপ জাহাজটি কিনেছি। আর এটির জন্য সরকারকে শুল্ক দিয়েছি ৩ কোটি ৪৬ লাখ ২০ হাজার টাকারও বেশি। ব্যাংকের মোটা অংকের এসব টাকার বিপরীতে ব্যাংকে প্রতিদিন বিপুল অংকের সুদ গুনতে হচ্ছে। তবুও আদালত ওয়ারেন্ট ইস্যু করায় আমি জাহাজ কাটিং বন্ধ রেখেছি।
তিনি বলেন, ২০১৮ সালে জাহাজটির যে মালিক ছিলেন তার কাছে একজন টাকা পাওনা ছিলেন। তারপর আরো দুই জন মালিক বদল হয়ে ২১ সালে এটি বাংলাদেশে এসেছে। এসময়ের কোন মালিকের বিরুদ্ধেই পাওনা টাকা নিয়ে কেউ মামলা করেনি। আমি সর্বশেষ মালিক ডেমো ইন্টারন্যাশনালের কাছ থেকে এটি স্ক্র্যাপ হিসেবে কিনেছি। কাষ্টমস আইন অনুযায়ী এটি স্ক্র্যাপ লোহা। আমরা বেশকিছু কাটিংও করেছি। সব টাকা পরিশোধ করে জাহাজ আনার পরও জাহাজের তেলের টাকা পাওনা দাবি করে মামলা করায় আমার যে বিশাল আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে সেটি বিবেচনায় আমরাও মামলার বাদি টারমো ওয়েল লি. ও এর দেশীয় এজেন্ট মো. হাশেম উদ্দিনের বিরুদ্ধে এক কোটি ৫৫ লাখ ৬৬ হাজার ৮৬০ টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে মামলা করেছি।
নুরুন্নবী মানিক বলেন, এর আগেও এ ধরনের প্রতিষ্ঠানগুলো শিপব্রেকার্সদের হয়রানি করলেও প্রতিকার না হওয়ায় শিপইয়ার্ড মালিকদের সাথে প্রতারণার ঘটনা বাড়ছে।
একই কথা বলেন বাংলাদেশ শিপব্রেকার্স এন্ড শিপ রি—সাইক্লার্স এসোসিয়েশনের এর সিনিয়র সদস্য প্রবীণ শিপব্রেকার্স মাষ্টার আবুল কাশেম বলেন, শিপইয়ার্ড মালিকরা যখন কোন ক্যাশ বায়ারের কাছ থেকে জাহাজ কেনেন তখন বিক্রেতা চুক্তিপত্রে উল্লেখ করে যে জাহাজটির কোন মামলা বা দেনা নেই। যদি থাকে তার দায়দায়িত্বও তিনি নেবেন।
এরপর পুরো টাকা দিয়ে কেনার পর কেউ পাওনাদার থাকলে দায় কেন শিপইয়ার্ড মালিক নেবে?
তিনি আরো বলেন, এমভি ডোনা জাহাজটি এখনি ধীরে ধীরে সাগরের নিচে চলে যাচ্ছে। কাটতে না পারলে কিছুদিন পর আর এটি খুঁজে পাওয়া যাবে না। তাই এটি দ্রুত সাগর পানি থেকে সরিয়ে ইযার্ডে বিচিং করে কাটিং শেষ করা জরুরি। নাহলে মিপিযার্ড শিল্পের বিশাল ক্ষতি হয়ে যাবে।
এদিকে তেলের বাবত পাওনা চেয়ে মামলার বাদী আবুল হাসেম বলেন, আমাদের মালিক পাওনা জানিয়ে মামলা করতে বলেছে, আমা করেছি, সত্য মিথ্যা আদালতে হবে।
শিপ ব্রেকার্স নেতা মো. কামাল উদ্দিন চৌধুরী বলেন, জাহাজটি দুবার বিক্রি হয়েছে তখন মামলা করেনি তেল কোম্পানী,বাংলাদেশে আসার পর মামলা করা মানে এটা আন্তর্জাতিক প্রতারণার শামিল।












