আকাশ মারমা মংসিং, বান্দরবান
গেল কয়েকদিন আগে পণ্যের দাম স্থিতিশীল থাকলেও এক সপ্তাহজুড়ে বেড়েছে চাল, ভোজ্য তেল ও পেঁয়াজের দাম। পাশাপাশি দাম বেড়েছে কাঁচা বাজারের সবজিও। সামনে রমজান মাসকে ঘিরে পণ্যের দাম চড়া হওয়াতেই পণ্য কিনতে আসা সাধারণ ক্রেতারা মাসের হিসাব মেলাতে হিমশিম খাচ্ছে। বিশেষ করে মধ্যবিত্তদের ক্রয় ক্ষমতা নাগালের বাইরে বলে জানান ক্রেতারা।
এদিকে বান্দরবান শহরে কাঁচা বাজার, মাছ বাজার ও মুদি দোকানগুলোতে ঘুরে দেখা গেছে, নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দামের তারতম্য। কয়েকদিন আগে পণ্যের দাম ঠিক থাকলেও হঠাৎ করে নিত্যপণ্যের দাম বাড়তে শুরু করেছে রমজান মাসকে সামনে রেখে। বিশেষ করে এক সপ্তাহজুড়ে বেড়েছে চাল, তেল ও পেঁয়াজের দাম। তাছাড়া বেড়েছে কাঁচা বাজারের সবজির দামও। ইসলাম ধর্মালম্বীদের সামনে রমজান মাসকে ঘিরে প্রত্যেকটি পণ্যের দাম চড়া হওয়াতেই পণ্য কিনতে আসা ক্রেতারা হতাশায় ভুগছেন।
জানা যায়, বান্দরবান বাজারে প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ১৪৬ থেকে ১৫৩ টাকা লিটার। গত সপ্তাহে যার মূল্য ছিল ১৪৩ থেকে ১৪৮ টাকা, বোতলজাত ভোজ্য তেল বিক্রি হচ্ছে ১৫৫ থেকে ১৬৫ টাকায়, গত সপ্তাহে যা ছিল ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায়, খোলা পাম অয়েল প্রতি লিটার বিক্রি হচ্ছে ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকা লিটার, গত সপ্তাহে ছিল ১৩২ থেকে ১৩৬ টাকা।
এ ছাড়া বাজারে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২৫ থেকে ৩৫ টাকা, গত সপ্তাহে ছিল ২০-২৫ টাকা, আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়। কেজিতে ৩ টাকা বেড়েছে আলু, বিক্রি হচ্ছে ১৫ থেকে ২০ টাকা। যা গত সপ্তাহে বিক্রি ছিল ১২ থেকে ১৮ টাকা। দেশি রসুন ৪০ থেকে ৬০ টাকা, আমদানি করা রসুন ১০০ থেকে ১১০ টাকা, দেশি আদা ৮০ থেকে ১২০ টাকা, শুকনো মরিচ ১৫০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
কাঁচা বাজারে সবজি দামও বেড়েছে দ্বিগুন। পূর্বে কাঁচা মরিচের দাম ছিল প্রতি কেজি ২৫ টাকা, বর্তমানে কাচাঁ মরিচে দাম ৫০ টাকা। প্রতি পিস মাঝারি আকারের ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে ৩৫-৪০ টাকা, বাঁধাকপি ৩০-৩৫ টাকা। শিম প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়, করলা ৭০ টাকা, বেগুন ৭০ টাকা, শসা ৬০ টাকা, পেঁপে ৩০, গাজর ৪০ টাকা, টমেটো ৩০ টাকা, মুলা ২০ টাকা, ঢেঁড়স ৫০ টাকায়, মুলা ৩০ থেকে ৪০ টাকায়, শালগম ৩০ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৫০ টাকায়, সোনালি মুরগি ২৬০ থেকে ২৮০ টাকা, লেয়ার ২২০ থেকে ২২৫, দেশি মুরগি ৪৯০ থেকে ৫৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া বেড়েছে মাঝারি চালের দাম। বাজারে প্রতি কেজি মাঝারি মানের চাল বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৫৮ টাকায়, গত সপ্তাহে ছিল ৫০ থেকে ৫৬ টাকা, চিকন চাল বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৬৮ টাকায়।
কথা হয় বাজার করতে আসা মো. সোলেমান ও সুপর্না দাশের সাথে। তারা বলেন, সব জিনিসের তো দাম বেশি। কম জিনিস বলতে কিছু নাই। মাছের দাম ও আগে থেকে কিছুটা বেড়ে গেছে। কাঁচা সবজি মরিচ বাধা কপি, আলুর দাম আগে থেকে অনেকটা বেশি। এইভাবে দাম বাড়তে থাকলে না খেয়ে থাকতে হবে।
মুদি দোকানে ক্রয় করতে আসা দিপা রানী ও কামাল বলেন, প্রয়োজনীয় জিনিস পত্রে দাম সব কিছু বাড়তি। সবচেয়ে পেয়াজ, তেলসহ নিত্য প্রয়োজনের পণ্যের দাম বেড়ে গেছে। চাল ও ডালের দাম কিছুটা বাড়তি। এইভাবেও চলতে থাকলে খেতে খাওয়া মানুষরা দুর্ভোগে দিনপাত করতে হবে।
কাঁচা বাজারের সবজি বিক্রেতা শাহ আলম ও জনি জানান, আগে থেকে সবজি বেড়ে দাম বেড়ে গেছে। কিছুদিন আগে ছিল একটু কম। এখন বাইরে থেকে কাঁচা মাল আসার কারণে চাহিদা বেশি। বর্তমান বাজারের বাধা কপি ফুল কপি, শিম বেগুনসহ প্রত্যেকটা সবজি প্রতি সবজি ১০ টাকা করে বাড়ছে।
মুদি সওদাগর মিলন দাশ ও জাফর আলম জানান, তেল দাম আগে থেকে প্রতি লিটারের ১০ টাকা দরে দাম বেড়েছে। পেঁয়াজ ও চালের কেজি প্রতি দাম কিছুটা বেড়ে গেছে। অন্যান্য পণ্যের দাম স্বাভাবিক রয়েছে। তবে সামনে রমজান মাসে পণ্যের দাম বৃদ্ধি হতে পারে।
বান্দরবান বাজারের সাধারণ সম্পাদক বিমল কান্তি দাশ বলেন, বর্তমান সময়ের নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য বেড়ে গেছে। বিশেষ করে তেল, চাল, পেঁয়াজ, ছোলাসহ কাঁচা সবজিও।বান্দরবান জেলাতে শীতকালীন সবজি সংকট না থাকলেও সামনে রমজান মাসকে ঘিরে যে পণ্যের দাম বাড়ছে সেই লাগাতার দাম উর্ধ্বগতিকে সরকার লাগাম টেনে না ধরলে সামনে রমজান মাসে নিত্যপণ্যের দাম ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে যাবে।
তিনি আরও বলেন, গেল দুইদিন আগে বৃষ্টি হওয়াতেই কৃষকরা ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।বাজার সমিতি কৃষকের কাছ থেকে ন্যায্যমূল্য দিয়ে পণ্যগুলো ক্রয় করছে। তবে আমার জানা মতে, এ পর্যন্ত বান্দরবানে সিন্ডিকেট নেই।












