বাঁশখালী প্রতিনিধি»
চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার পুইছড়ি ইউনিয়নে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে ১১ বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে আগুনে পুড়ে যাওয়া ১৮ বসতঘরের ২১টি পরিবারের সদস্যরা এখন নিসঙ্গ অবস্থায় খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছেন। তবে এই অগ্নিকান্ডে হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি।
সোমবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় উপজেলার ১১ নম্বর পুঁইছড়ি ইউনিয়নের ইজ্জতিয়া স্কুলের দক্ষিণ পাশে ২ নম্বর ওয়ার্ডের মাঝর পাড়া ঠান্ডার বাপের বাড়িতে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। অগ্নিকান্ডে ২১ পরিবারের নগদ টাকাসহ আনুমানিক দেড় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন ক্ষতিগ্রস্তরা।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, পার্শ্ববর্তী মেম্বার কাশেমের বাড়ি থেকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। ধারণা করা হচ্ছে গ্যাস সিলিন্ডার কিংবা বিদ্যুতের শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। পরে আগুনের লেলিহান শিখা মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে চতুর্থদিকে। এতে নিমিষেই ২১ পরিবারের ১৮ বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এদিকে আগুন নেভাতে গিয়ে আকস্মিক অসুস্থ হয়ে পড়েন ইউপি সদস্য এম এ কাশেম। তিনি বর্তমানে নাপোড়া বাজারের পপুলার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

এ ঘটনায় সিকান্দারের ২টি, আহমেদ শফির ৪টি, নুরুল আলমের বাপের বারির ৪টি, নোমান সওদাগরের ২টি, ইসমাঈলের বাপের বাড়ি ৩টি, ইয়াকুব আলীর ২টি সহ মোট ১৮টি বসতবাড়ি ছাই হয়ে যায়।
এদিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন পুইছড়ি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান রেজাউল আজিম চৌধুরী। ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে রান্না করা খাবার বিতরণ করেছে ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি (সিপিপি) পুঁইছড়ি শাখার সদস্যরা।
ক্ষতিগ্রস্ত নাজমুল ইসলাম বলেন, সকাল ১০টার
দিকে হটাৎ মেম্বার কাসেমের বাড়িতে আগুন লাগে, এতে মুহুর্তের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখা চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে পার্শবর্তী থাকা আরও ১৭ টি বসত ঘর আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এরপর স্থানীয় ও বাঁশখালী ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় ২ ঘন্টা প্রাণপণ লড়াই শেষে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এ ঘটনায় কমপক্ষে দেড় কোটি টাকা ক্ষয়ক্ষতি হয়ছে বলেও জানান তিনি।

বাঁশখালী ফায়ার সার্ভিস স্টেশন টিম লিডার আজাদ বলেন, সকালে পুইছড়ি ইউনিয়নে আগুন লাগার খবর পেয়ে আমরা দ্রুত রওনা হয়। এবং
স্থানীয় ও ফায়ার সার্ভিসের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দীর্ঘ ১ঘন্টা পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। ধারণা করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে।
উল্লেখ্য, গত ২০ দিনে বাঁশখালী উপজেলায় ছোট বড় ১৮টি অগ্নিকাণ্ডে ৮০ এর অধিক ঘর-দোকান ও বিভিন্ন প্রয়োজনীয় জিনিস পুড়ে ছাই হয়ে যায়।












