১৭ মার্চ ২০২৬

মহেশখালী ঘাট পারাপারে অতিরিক্ত টোল আদায়ের অভিযোগ

সায়ীদ আলমগীর, কক্সবাজার »

সনাতন সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব মহেশখালীর আদিনাথ মন্দিরে শিব চতুর্দশী মেলাকে কেন্দ্র করে মহেশখালী পারাপারে বিধি বহির্ভুতভাবে অতিরিক্ত টোল আদায়ের অভিযোগ তুলেছেন হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন।

কক্সবাজার-মহেশখালী পারাপারে জেলা প্রশাসনের তত্বাবধানে কক্সবাজার পৌরসভার ৬নং ঘাটে টোল আদায় করা হয়। প্রতিজন পারাপারে ৫ টাকা টোল নেয়ার নিয়ম থাকলেও জনপ্রতি ২০টাকা করে টোল আদায় করছে ঘাট সংশ্লিষ্টরা।

সনাতন সম্প্রদায়ের লোকজনের অভিযোগ, ১ মার্চ থেকে শুরু হয়েছে ১০ দিন ব্যাপী হিন্দু সম্প্রদায়ের বৃহৎ ধর্মীয় এ অনুষ্ঠান।

আদিনাথ মন্দিরে শিব চতুর্দশী মেলাকে পূঁজি করে গত কয়েকদিন ধরে অনিয়ম ও দুর্নীতির আশ্রয় নিয়েছে টোল আদায়কারিরা। হঠাৎ পর্যটকের দোহাই দিয়ে ৫ টাকার স্থলে জনপ্রতি ২০ টাকা টোল আদায় করা হচ্ছে। আর পর্যটক হলেই টোল বেশি হওয়ার কারণ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে অনেকে।

দর্শণার্থী হিন্দু সম্প্রদায়ের একাধিক লোকজন প্রতিবাদ করলেও অতিরিক্ত টাকা নেয়া বন্ধ হয়নি, বরং উল্টো ধমক খেয়েছেন টোল আদায়কারীদের। এ নিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট সভাপতি বুলবুল তালুকদারের মতে, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে হিন্দু সম্প্রদায়ের পূর্ণার্থীরা আসবে মহেশখালীতে, সে সুযোগে অতিরিক্ত টোল আদায় করে দুর্নাম রটাচ্ছে অসাধু টোল আদায়কারীরা। যেটি পর্যটক ও সনাতন সম্প্রদায়ের অনুষ্ঠানে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

কক্সবাজার জেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারন সম্পাদক অধ্যাপক প্রিয়তোষ শর্মা চন্দন বলেন, আমি নিজেও ২০ টাকা টোল দিয়ে ঘাট পার হয়েছি। এটি কোনমতেই কাম্য নয়। ধর্মীয় অনুষ্ঠানকে পূজি পর্যটকের দোহাই দিয়ে অতিরিক্ত টোল আদায় করা বিধি বহির্ভুত, টোল আদায় সংক্রান্তে বিধি বিধানে যদি এমনটি থেকে থাকে তাহলে সেটি আগে থেকেই নোটিশের মাধ্যমে জ্ঞাত করা উচিৎ ছিল। তিনি অতিরিক্ত টোল আদায় বন্ধের পাশাপাশি জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবী জানান।

জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি উজ্জল কর বলেন, পূজাকে কেন্দ্র করে বাড়তি টোল আদায় একটি বিশৃঙ্খলার সামিল। এটা কাম্য নয়। নানা প্রান্থ থেকে হিন্দু সম্প্রদায় ও পর্যটকরা শিব দর্শন এবং মেলা দেখতে মহেশখালীতে আসবে, এ বাড়তি টোল আদায় পর্যটন শিল্পের বদনাম হবে।

তিনি বলেন, মঙ্গলবার (আজ) কক্সবাজারে মাননীয় ধর্ম মন্ত্রীর সাথে আমাদের বৈঠক রয়েছে। সেখানে বিষয়টি তুলে ধরা হবে।

এ বিষয়ে মেলা কমিটির সভাপতি ও মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সাইফুল ইসলাম বলেন, অতিরিক্ত টোল আদায় সংক্রান্তে কোন অভিযোগ পায়নি। ঘাটটি বিআইডব্লিউটিএ-এর অধীনে। জানামতে দরপত্রের তালিকা মতে টোল নেয়ার কথা। এছাড়াও অভিযুক্ত ঘাট তার উপজেলার অধীনে নয়, তারপরও অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ বলেন, অতিরিক্ত টোল আদায় সংক্রান্তে ইতোমধ্যে অবগত হয়েছি। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ পরিচালককে (ডিডিএলজি) নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, মহেশখালী পারাপার ঘাট নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ দীর্ঘদিনের। ইতিপূর্বে একাধিক অভিযোগে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলেও কোন কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি কতৃপক্ষ। ফলে দিনদিন অনিয়মের মাত্রা বেড়েছে। তাই অতিরিক্ত টোল আদায়ের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার দাবী জানিয়েছেন সর্বমহল।

আরও পড়ুন