১৭ মার্চ ২০২৬

‘বছরে দেড় লাখ কোটি টাকা ক্ষুদ্রঋণ পেল ৩ কোটি ৫২ লাখ গ্রাহক’

সায়ীদ আলমগীর, কক্সবাজার »

‘ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত দেশ গঠন করতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ক্ষুদ্রঋণ ব্যবস্থা চালু করেছিলেন। একই সাথে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মাঝে জামানত ও সুদবিহীন ঋণ প্রদানের নির্দেশনা প্রদান করেন বঙ্গবন্ধু। সেই ধারাবাহিকতায় দেশে আজ ৩ কোটি ৫২ লাখ গ্রাহকের মাঝে গত বছরে ১ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকার ক্ষুদ্রঋণ বিতরণ করা হয়েছে।’

সোমবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরী অথরিটি’র উদ্যোগে আয়োজিত কক্সবাজারে ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম অবহিত এবং ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায়’ করণীয় সম্পর্কে মতবিনিময় সভায় বক্তারা এসব কথা বলেছেন।

কক্সবাজারস্থ বিয়াম ফাউন্ডেশনের হলরুমে অথরিটি’র এক্সিকিউটিভ ভাইস চেয়ারম্যান মো. ফসিউল্লাহ্ (গ্রেড-১) সভাপতিত্বে ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমের প্রশংসা করে বক্তারা বলেন, রূরাল স্যোশাল সার্ভিস (আরএসএস) প্রকল্পের আওতায় সর্বপ্রথম সুদ ও জামানতবিহীন ক্ষুদ্রঋণ ব্যবস্থা প্রবর্তিত হয়। বর্তমানে বাংলাদেশের ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম সারা বিশ্বে অন্যতম বৃহত্তম আর্থিক খাত হিসেবে সুপরিচিত।

সভায় বক্তারা আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৬ সনে রাষ্ট্রক্ষমতায় এসেই এ খাতের উন্নয়ন ও নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা প্রদান করেন। এরই প্রেক্ষিতে স্ট্যাডি পরিচালনা, বাংলাদেশ ব্যাংক মাইক্রোফিন্যান্স রিচার্স এন্ড রেফারেন্স ইউনিট (এমআরআরইউ)’র প্রতিষ্ঠাতা ও স্টিয়ারিং কমিটি গঠনে পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। এরই ধারাবাহিকতায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে দারিদ্র্য বিমোচন ও আর্থিক সহায়ক দক্ষ এবং টেকসই ক্ষুদ্রঋণ ব্যবস্থা নির্মাণে মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরী অথরিটি আইন-২০০৬ অনুসারে মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরী অথরিটি গঠন করা হয়। বর্তমানে অথরিটির সনদপ্রাপ্ত ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৭৪৬টি। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী ২০২১ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত এমআরএ’র সনদপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানসমূহ দেশব্যাপী ৩ কোটি ৫২ লাখ গ্রাহকের মাঝে বছরে ১ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকার ক্ষুদ্রঋণ বিতরণ করেছে।

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে বলা হয়, ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি সামাজিক উন্নয়ন কার্যক্রমে (শিক্ষা, স্বাস্থ্য, দুর্যোগ মোকাবেলা) অসহায় মানুষের সহায়তা দেয়া হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজে অধ্যয়নরত অস্বচ্ছল পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থীদের পুরো শিক্ষা জীবনের জন্য প্রতি মাসে ৩-৫ হাজার টাকা করে ‘বঙ্গবন্ধু উচ্চ শিক্ষাবৃত্তি’ চালু করা হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরী অথরিটি আইন, ২০০৬ এর ১৫(১) ধারা অনুযায়ী এমআরএ’র সনদ ব্যতীত কোন বেসরকারী প্রতিষ্ঠান কর্তৃক দেশে ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ নেই। একই আইনের ৩৫(১)(ক) ধারা অনুযায়ী এমআরএ’র সনদ ব্যতীত ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) মো. নাসিম আহমেদ, বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. রফিকুল ইসলাম।

এমআরএ’র উপপরিচালক পঙ্কজ কুমার পালের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য এ ক্ষুদ্রঋণ সেক্টরের হালনাগাদ তথ্য উপস্থাপন করেন এমআরএ’র পরিচালক মো. নূরে আলম মেহেদী।

আরও পড়ুন