২৫ মার্চ ২০২৬

সেন্টমার্টিনে মাছের বার-বি-কিউ

মাকসুদ আহম্মদ, বিশেষ প্রতিবেদক »

মসলার ঘ্রাণ আর পোড়া মাছের গন্ধে মৌ মৌ করছে সেন্টমার্টিন দ্বীপের আকাশ বাতাস। আর পর্যটকদের মধ্যেও যেন কোন ক্লান্তি নেই। সারাদিন সমুদ্রে দপাদপি করে রাতে উপকূলীয় দোকানগুলোর সামনে ঠাঁয় দাঁড়িয়ে থেকে যেন সামুদ্রিক মাছের বার-বি-কিউ খেয়েই ছাড়ছে। বার-বি-কিউ নেই কোথায়, প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনের যত্রতত্র মাছের বার-বি-কিউ শপ। যেমন দোকান আছে তেমনি রয়েছে মাছের মেন্যুকে ঘিরে আবার সুসজ্জিত হোটেলের বুফে তালিকাও। সুস্বাদু এ সামুদ্রিক মাছের কদর শুধুই সেন্টমার্টিনেই নয় কক্সবাজারেও রয়েছে। ইদানিং চট্টগ্রাম শহরেও রয়েছে বার-বি-কিউ ফিশ খাওয়ার ব্যবস্থা।

এদিকে, কক্সবাজারেও মাছের বার-বি-কিউ একেবারে হাতের নাগালে। শুধু কক্সবাজারেই বাজারেই নয়, এখন নগরীর এম এ আজিজ স্টডিয়ামের মত ব্যস্ততম এলাকাগুলোতে সচরাচর চোখে পড়ছে সামুদ্রিক মাছের বার-বি-কিউ। দিনের শেষলগ্নে বিশেষ করে অফিস ছুটির সময়ে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কের মোড়গুলোতে এখন দু’একটা ফিশ বার-বি-কিউ এর স্টল চোখে পড়ছে। নগরীর সদরঘ্টস্থ কর্ণফুলী ঘাট, ফিশারীঘাট ও চাক্তাই খাল কেন্দ্রিক এলাকাগুলো থেকে সামুদ্রিক মাছ কালেকশন করে ব্যবসায়ীরা বার-বি-কিউ করছে।

সেন্টমার্টিনে দেখা গেছে, রাত যতই ঘনিয়ে আসছে জমিয়ে তোলা হচ্ছে সামুদ্রিক মাছের পসরা। টোনা, কোরাল, বাটারফ্লাই, স্যামন ফিশ, অক্টোপাস, কাঁকড়া, বøুসিম, চাঁন্দা, কালা চান্দা, হোয়াইট মিল্কি, পোয়া ও দাতিনা কোরাল নিয়ে পসরা সাজিয়েছে দোকানীরা। ভোজন রসিকের চাহিদা অনুযায়ী বার-বি-কিউ করে দেয়া হয় সামুদ্রিক মাছ। চারদিকে মৌ মৌ করছে মাছের বার-বি-কিউ ঘ্রাণ। বার-বি-কিউ আর বার-বি-কিউ। গভীর রাত পর্যন্ত চলে বার-বি-কিউ।

এ আঙ্গিনায় সমুদ্রের কোল ঘেঁষে গড়ে ওঠা দোকানির যেমন অভাব নেই ক্রেতারাও ভিড় ঠেলে চাহিদা মাফিক মাছ কিনে বার-বি-কিউ করা অনেকটা দায় হয়ে পড়ে। তবে দোকানীরা রাতের আঁধারকে অনেকটা পছন্দ করেন। এর মূলে রয়েছে নতুন ক্রেতাদের ঠকানোর প্রক্রিয়া। যারা কখনো মাছের বার-বি-কিউ খাননি তারাই মূলত ঠকতে পারেন। অভিজ্ঞতা না থাকলে নানা কৌশলে ক্রেতা আটকিয়ে রাখার কৌশল অবলম্বন করে বিক্রেতারা। এক্ষেত্রে ক্রেতাকে একটু সচেতন হলেই জ্বীভের স্বাদ মেটাতে পারবেন সহজেই।

এদিকে কক্সবাজারের নামদামি হোটেলের সামনেও বার-বি-কিউ করতে গ্রাহক ডাকছে। ক্রেতাদের চাহিদার কারণে এখন বার-বি-কিউ চলছে কক্সবাজার শহরের আনাচে কানাচে। উচ্চবিত্ত, মধ্যবিত্ত, নি¤œবিত্ত এমনকি হত দরিদ্র শ্রেণীও সপ্তাহের কোন না কোনদিন বার-বি-কিউ’তে চালাচ্ছে রাতের খাবার। চট্টগ্রাম নগরীর সিজেকেএস স্টেডিয়াম মার্কেট তথা মেরিটাইম মিউজিয়ামের কাছেই একটি ফিশ বার-বি-কিউ স্টল খোলা হয়েছে। যারা আগে মাছের বার-বি-কিউ খাননি তারা এটি মুখরোচক হবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহের অবতারণায় থাকেন। আর যারা চেখে দেখেছেন তারাতো স্বাদই নিয়েছেন। দুইয়ের মধ্যে তফাৎ ভারতীয় হিন্দী ভাষার সেই ডায়ালগ ‘জোবি খায়েগা তো নেহি পস্তায়গা, জোবি নেহি খায়েগা তো বি পস্তায়গা’।

এসব বাজারে চট্টগ্রামের সেন্টমার্টিন দ্বীপ অঞ্চল থেকে শুরু করে কুমিরা সাগর পাড় পর্যন্ত সব উপকূলীয় অঞ্চলের আস্তে আস্তে বার-বি-কিউ করার প্রবণতা বেড়ে উঠেছে। এরমধ্যে চরলক্ষ্যা, কক্সবাজারের মহেশখালী, সোনাদিয়া, রাঙ্গাবালি, টেকনাফের সাহাবুদ্দিয়া, বাঁশখালির উপকূল অঞ্চল, ভাটিয়ারি, ফৌজদারহাট ও ছোট এবং বড় কুমিরা এলাকায় আস্তে আস্তে পর্যটন স্পটগুলোতে সামুদ্রিক মাছের বার-বি-কিউ স্টল খোলার পরিকল্পনা করছে ব্যবসায়ীরা। জ্বীভে জল আসা বার-বি-কিউ’র মধ্যে রয়েছে ইলিশ, কোরাল, চিংড়ি, সেমন, হোয়াইট মিল্কি, সাদা ও কালা রূপচাঁদাসহ কয়েক প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ।

চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন বিলাসবহুল হোটেলের রুফটপে ক্রেতার অপেক্ষায় থাকে সী-ফিশের বার-বি-কিউ। ভোজন রসিকের মন যেন তৃপ্তিতে ভরে উঠে সামুদ্রিক মাছের বার-বি-কিউ’তে। জ্বীভে জল আসে বার-বি-কিউ স্টলগুলোর পাশ দিয়ে যারা হেঁটে যাচ্ছে তাদেরও। চাঁটগাইয়া বার-বি-কিউ’তে অনেক ঢাকাইয়্যারও যেন চুপসে যায়। শুধু রাজধানীই নয়, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে বেড়াতে আসারা পুটলি বেধে নিয়ে যায় হোটেলে অন্যান্যদের জন্য। নানা জাতের সামুদ্রিক মাছের বার-বি-কিউ যেন জ্বীভের স্বাদ মেটাচ্ছে।

আরও পড়ুন