সায়ীদ আলমগীর, কক্সবাজার»
দেশের সমুদ্রে ২০০ প্রজাতির সিউইড রয়েছে। যেখানে ১০টি প্রজাতি বাণিজ্যিক হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এসব সিউইড নানা ধরনের পুষ্টি সমৃদ্ধ, ঔষুধী গুণে ভরা এবং পশুপাখির খবার তৈরি উপকরণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। রয়েছে ভিটামিন, খনিজ ও রোগ প্রতিরোধী এন্টিঅক্সিডেন্টস।আমরা যদি এ সম্পদকে মেধার মাধ্যমে কাজে লাগে পারি তবে ব্লু ইকোনমিতে বিশাল ভূমিকা রাখবে। এটি সমুদ্রে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণেও অগ্রণী ভূমিকা রাখে।
শনিবার (১৯ মার্চ) কক্সবাজারের হোটেল সি গাল হলরুমে আয়োজিত ‘সিউইড এন্ড গ্রীণ মাসলস্ ফার্মিং এন্ড ব্লু-ফুড ফেস্টিভ্যাল’ অনুষ্ঠানে গবেষণার এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
ওয়াল্ডফিশ বাংলাদেশ’র টিম লিডার প্রফেসর (অব.) আবদুল ওয়াহাবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএইউ) সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ড. আবদুস সত্তার মন্ডল।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সিউইড সমুদ্রের পানিতে থাকা কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে বৈশ্বিক উষ্ণতা নিয়ন্ত্রণ করে। পাশাপাশি অতিরিক্ত পুষ্টি উপাদান শোষণের মাধ্যমে সমুদ্রের অতি উর্বরতা হ্রাসে সহায়তা করে।

গবেষণার তথ্য মতে, অতিরিক্ত পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ খাবার হওয়ায় সিউইড পুষ্টি হীনতা রোধ করে। কক্সবাজার উপকূলে তিন প্রকার খাদ্য উপযোগী সিউইড পাওয়া গেছে।
ভবিষ্যতে এসব জলজ খাদ্য উৎপাদনের মাধ্যমে দেশে সুনীল অর্থনীতিকে সহায়তা করা সম্ভব হবে। স্বল্প খরচে সহজেই চাষ করা যায় বলে অনেক নারী ও যুবক সিউইড চাষে সম্পৃক্ত হচ্ছেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব মেরিটাইম রিচার্স এন্ড ডেভেলপমেন্ট (বিআইএমআরএডি) মহাপরিচালক ক্যাপ্টেন এম মিনারুল হক, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ বিভাগের পরিচালক ড. এমডি শরীফ উদ্দিন, ইউএসএআইডি’র ইনভাইটনমেন্ট অফিস অব ইকনোমিক গ্রুত-এর প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট স্প্যাশালিষ্ট আশরাফুল হক, বিএইউ’র জীববৈচিত্র্য ও জলবায়ু পরিবর্তন বিভাগের প্রফেসর ড. মোস্তফা আলী রেজা হোসাইন, মেরিন ফিশারিজ ডিপার্টমেন্ট’র উপ-প্রধান ড. মু. তানভীর হোসাইন চৌধুরী, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. কাজী আহসান হাবীব, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. আবদুল্লাহ আল মামুন, কক্সবাজারের গ্রীণ এগ্রোর চেয়ারম্যান জাহানারা বেগম, ওয়াল্ড ফিশের রিচার্স এসোসিয়েট আরিফুর রহমান, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি এন্ড এনিমল সাইন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. আসাদুজ্জামান, প্রজেক্ট ম্যানেজার এম মাহবুবুল ইসলাম, বিজ্ঞানী ড. মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান ও ইউএসএআইডি ও ইকোফিশের কমিনিউকেশন স্প্যাসিয়ালিস্ট আসাদুজ্জামান রাসেল প্রমূখ।
আলোচনা শেষে তারকা হোটেল, বিভিন্ন এগ্রো ফার্মের সিউইড দিয়ে তৈরী খাবার স্টল প্রদর্শন করা হয়। সী-গাল মাঠে সাজানো স্টলগুলোতে রান্নাকরা ও প্রক্রিয়াজাত সিউইড খাবারগুলোর স্বাদ পরখ করে দেখেন অতিথি ও গণমাধ্যমকর্মীরা।












