১৩ মার্চ ২০২৬

মিথ্যা বুলিতে ভাসছে চসিকের উন্নয়ন

মাকসুদ আহম্মদ, বিশেষ প্রতিবেদক»

প্রাকৃতিকভাবেই নান্দনিক শহর চট্টগ্রাম। সবুজ প্রকৃতির মিলনমেলায় পাহাড়, সাগর ও নদী পরিবেষ্টিত এ শহর আরো নান্দনিক করতেই মেয়র কাউন্সিরদের কাছে অনেক প্রত্যাশা নগরবাসির। ১৯৯১ সালে প্রথম সিটি নির্বাচন হলেও সেই থেকেই মেয়র-কাউন্সিলরদের মিথ্য বুলিকেই নগরবাসী স্বপ বানিয়ে ভোট দিয়ে এসেছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত স্বপ্নগুলো বুলিতেই থেকে যায়। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকায় সাবেক মেয়র মঞ্জুরুল আলম ও আ জ ম নাসিরের মেয়াদকালে বর্ষা মৌসুম ছাড়াও সমুদ্রের জোয়ারের পানিতে সয়লাব হওয়ার ঘটনা ঘটেছে সবচেয়ে বেশি। এখনও পর্যন্ত এ ধরনের সমস্যার নিরসন হয়নি। এদিকে মেয়র রেজাউল করিমের এক বছর পূর্ণ হলো গত বুধবার।

অভিযোগ রয়েছে, রাস্তার নামে বরাদ্দ নিয়ে ২০১০সালে পেট পুরেছে বিএনপি দলীয় সাবেক ওয়ার্ড কাউসিলর আব্দুস সাত্তার সেলিম।

অভিযোগ রয়েছে, নগরীর ৯নং ওয়ার্ড এর আওতাধীন আকবরশাহ মাজারের পূর্বদিকে শহীদ স্মরণী আবাসিক এলাকার ২নং রোডের ইট সলিং রাস্তার ১২ বছর পার হলেও পিচ ঢালাই হচ্ছে না। অথচ ইট সলিংয়ের মাত্র তিন বছর পার হলেই পিচ ঢালাই করার কথা সিটি কর্পোরেশন। কিন্তু ওয়ার্ড কাউন্সিলর জহুরুল আলম জসিমকে বারবার বলার পরও কোন পদক্ষেপই নেয়নি কাউন্সিলর অফিস। অথচ এই ইট সলিং রাস্তাকে সিসি ঢালাই করার জন্য সাবেক কাউন্সিলর আব্দুস সাত্তার সেলিম সাত লাখ টাকা বরাদ্দ নিয়ে লোপাট করেছে।

আরো অভিযোগ রয়েছে, নগরীর ভোগান্তির কারনকে সাইনবোর্ড বানিয়ে চসিকের ৬ষ্ঠ নির্বাচনেও মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা বুলি আউড়িয়েছে। ২০২২ সালে পানিবন্দি দশা থেকে মুক্তি পাবে কিনা তা নিয়ে সংশয় রয়েছে নগরবাসির মাঝে। গত কয়েকদিন যাবৎ কসুমবাগ আবাসিক এলাকা থেকে শুরু করে ইস্পাহানি স্কুল পর্যন্ত নালা পরিষ্কার শুরু করেছে সিটি কর্পোরেশন। ওই নালায় পাহাড়ের মাটি ছাড়া আর কিছু নেই। অবৈধভাবে পাহাড় কাটা বন্ধ না করা গেলেও বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ী মাটি পড়ে খাল ও নালা বন্ধ হয়ে আবার জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হবে।

এদিকে, প্লট ও ফ্ল্যাট তৈরিতে পাহাড় কাটায় নগরীর ভারসাম্য নষ্ট হয়ে গেছে। পরিবেশ অধিদফতরের ন্যায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনও যদি চুপসে যায় বা পাহাড় কেটে আবাসিক এলাকা নির্মাণ করে তা হবে প্রশ্নবিদ্ধ। তবে চসিক ও চউকের সমন্বয়হীনতার কারনে ভূমিদস্যুরা নগরীর খুলশী, বায়েজিদ ও আকবরশাহ থানা এলাকার পাহাড়গুলো কেটে সাবাড় করে দিচ্ছে। পাহাড়খেকোদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করা না গেলে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাচ্ছে চট্টগ্রামের নান্দনিক সৌন্দর্য্য।

সিটি কর্পোরেশনের হোল্ডিং ট্যাক্স বেশি হওয়ায় বাড়ীর মালিককে হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধে উৎসাহিত করা যাচ্ছে না। কারন শূন্যতা ভাতা বাদ না দিয়ে মোট আয় নির্ধারনের ফলে হোল্ডিং ট্যাক্স বেড়ে যাচ্ছে। বাৎসরিক ভাড়া আয়ের তুলনায় হোল্ডিং ট্যাক্স বেশী হওয়ায় অনেকেই তা পরিশোধে নিরুৎসাহিত হচ্ছে।

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও

সর্বশেষ