কক্সবাজার প্রতিনিধি »
কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় জাল টাকা তৈরির সরঞ্জাম, মেশিন ও বিপুল পরিমাণ জাল টাকাসহ ৪ জনকে আটক করেছে র্যাব-৭ সদস্যরা।
রোববার (২৭ মার্চ) বেলা তিনটার দিকে কুতুবদিয়া উপজেলা গেটের সামনে রাবেয়া এন্টারপ্রাইজে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক ও এসব সরঞ্জাম জব্দ করা হয় বলে জানিয়েছেন র্যাব-৭ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক মো. নূরুল আবছার।
আটকরা হলো— কক্সবাজারের কুতুবদিয়ার বড়ঘোপের মনোহরখালীর হাফেজ শহীদ উল্লাহর তিন ছেলে সাঈফ উদ্দিন আহম্মদ মিজান (২৫), মেজবাহ উদ্দিন আহম্মদ (৩২), মো. জিয়া উদ্দিন(২১), এবং কৈয়ারবিল ইউনিয়নের নজর আলী মাতবর পাড়ার ওমর আলীর ছেলে সাইফুল ইসলাম (২২)।
র্যাব-৭ চট্টগ্রাম সূত্র জানায়, গোয়েন্দা তথ্যে খবর আসে কুতুবদিয়া উপজেলায় কতিপয় প্রতারক চক্র বাংলাদেশী জাল টাকা তৈরী করে তা দেশের বিভিন্ন জায়গায় আসল টাকা বলে ছড়িয়ে দিয়ে প্রতারনা করে আসছে। প্রতারক চক্রকে আটক করে আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য ব্যাপক গোয়েন্দা নজরদারি এবং ছায়াতদন্ত শুরু করে। এরই প্রেক্ষিতে গত ২৭ মার্চ কক্সবাজার জেলার কুতুবদিয়া থানাধীন কুতুবদিয়া উপজেলা পরিষদ গেইটের বিপরীতে মঞ্জুর কমপ্লেক্সের নিচ তলায় রাবেয়া এন্টারপ্রাইজ কম্পিউটারের দোকানে সোয়া ৪টায় অভিযান চালানো হয়।
আটকদের জিজ্ঞাসাবাদে সকলেই অকপটে স্বীকার করেছে, তারা সংঘবদ্ধ একটি জাল টাকা প্রস্তুতকারক চক্রের সাথে জড়িত। তাদের হেফাজতে থাকা বিপুল পরিমান বাংলাদেশী জাল নোট প্রস্তুতের কাজে ব্যবহৃত থিংকপ্যাড, ল্যাপটপ, নোটপ্যাড, এলইডি মনিটর, কালার প্রিন্টার, ফটোকপি প্রিন্টার ও অন্যান্য আরও অনেক সরঞ্জামাদি এবং ১০০০ টাকার জাল নোট সম্বলিত ১৬ লাখ টাকা উদ্ধার এবং তিন সহোদরসহ ৪জনকে আটক করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, গ্রেফতার সবাই একটি সংগঠিত জাল নোট তৈরি সিন্ডিকেটের সক্রিয় সদস্য। এই সংঘবদ্ধ চক্রটি দীর্ঘদিন অসৎ উপায় অবলম্বন করে সকলের অগোচরে ও শহর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অধিক তৎপর থাকায় তারা নিভৃত একটি বিচ্ছিন্ন দ্বীপ হিসেবে কুতুবদিয়ায় জাল টাকা ছাপানোর জন্য নির্বাচন করেছে। ছাইফুদ্দীন মিজান এই অবৈধ জাল নোট সিন্ডিকেটের মূলহোতা ও দ্বিতীয় আসামী সাইফুল ইসলাম কম্পিউটার বা ল্যাপটপে জাল টাকা গুলো প্রস্তুত করে কালার প্রিন্টারে প্রিন্ট করতো, তৃতীয় আসামী মিসবাহ্ উদ্দিন জাল টাকাগুলো দেশের বিভিন্ন জেলায় আসল টাকা হিসেবে তাদের চক্রের নির্ধারিত লোকের মাধ্যমে চালানোর ব্যবস্থা গ্রহন করতো। চতুর্থ আসামী মো. জিয়াউদ্দিন জাল টাকা প্রস্তুতকালীন সময়ে দোকানের দরজায় পাহারায় থাকতো।
গ্রেফতারদের উদ্ধার আলামতসহ পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।












