spot_imgspot_img
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার নিবন্ধিত। রেজি নং-৯২
সোমবার, ৫ জুন ২০২৩
প্রচ্ছদচট্টগ্রামচট্টগ্রামে ২৯ হাজার মানুষকে সরানো হয়েছে নিরাপদ আশ্রয়ে

চট্টগ্রামে ২৯ হাজার মানুষকে সরানো হয়েছে নিরাপদ আশ্রয়ে

spot_img

বাংলাধারা প্রতিবেদন »

ঘূর্ণিঝড় ফণীর আঘাতে প্রাণহানী কমাতে শুক্রবার সন্ধ্যা দ্বীপ উপজেলা সন্দ্বীপসহ কয়েকটি এলাকা থেকে ২৯ হাজার মানুষকে ঘর থেকে সরিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে নেওয়া গেছে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন। তবে নগরীতে পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসরতদেরও সরানো যায়নি।

চট্টগ্রামের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন জানান, ঘূর্ণিঝড় ফণী ভারতে আঘাত হানার পর দুর্বল হয়ে গেছে এমন খবর ছড়িয়ে পড়ায় লোকজনকে আশ্রয় কেন্দ্রে নেওয়া যাচ্ছে না। তারপরও দ্বীপ উপজেলা সন্দ্বীপ, মিরসরাই, সীতাকুন্ড, বাঁশখালীর উপকুল থেকে ২৯ হাজারের মত মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়েছি।

নগরীর পাহাড়ে ‍ঝুঁকিপুর্ণভাবে বসবাসরতদের সরানোর বিষয়ে দেলোয়ার হোসেন বলেন, বৃহস্পতিবার থেকে মাইকিং করে তাদের সরে যেতে বলা হয়েছে। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। কিন্তু সারাদিন রোদ দেখে কেউ সরেনি। তারপরও আমাদের টিম প্রস্তুত রয়েছে। বৃষ্টিপাত বেশি হলে তাদের জোর করে সরিয়ে নেয়া হবে।

ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে। এছাড়া, প্রত্যেক উপজেলায়ও আলাদা-আলাদা নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে। চট্টগ্রাম জেলায় ২৭৩৯টি সাইক্লোন সেন্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এর সঙ্গে সার্বক্ষণিকভাবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে স্বেচ্ছাসেবক।

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন আজিজুর রহমান সিদ্দিকী জানিয়েছেন, চট্টগ্রামে ২৮৪টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৪ উপজেলায় ৫টি করে ৭০টি, ২০০ ইউনিয়নে ১টি করে মোট ২০০টি, চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ৫টি এবং নগরে আরও ৯টি আরবান ডিসপেনসারি টিম গঠন করে তাদের প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

প্রতিটি টিমে ডাক্তার, নার্স, ফার্মাসিস্ট মিলিয়ে তিনজন করে সদস্য রাখা হয়েছে। মোট ৮৫২ জন টিমের সদস্যকে সম্ভাব্য দুর্যোগসহ যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রস্তুত থাকার জন্য বলা হয়েছে।

চট্টগ্রামের ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক জসিম উদ্দিন জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলায় ২৭টি ইউনিটের পানিবাহী গাড়ি, ৩০টি টানা গাড়ি, ৭২টি টু-হুইলার, আটটি অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়া ৫১৬ জন ফায়ার সার্ভিসের কর্মী এবং ১০০০ স্বেচ্ছাসেবক যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

এছাড়াও, ঘূর্ণিঝড় ফণী’র আঘাতের আশঙ্কায় নগরবাসীর যেকোনো সহযোগিতায় প্রস্তুত রয়েছে নগর পুলিশও। নগরীর ১৬টি থানাকে সার্বক্ষণিকভাবে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন সিএমপি কমিশনার মো. মাহাবুর রহমান। সিএমপি সদর দফতরেও নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে। যে কোনো প্রয়োজনে ০১৬৭৬-১২৩৪৫৬, ০১৬৭৯-১২৩৪৫৬, ০১৯৮০-৫০৫০৫০, ০১৭৩৩-২১৯১১৯, ০৩১-৬৩৯০২২, ০৩১-৬৩০৩৫২,০৩১-৬৩০৩৭৫- এই নম্বরে যোগাযোগের অনুরোধ করা হয়েছে।

নগরীতে ঘূর্ণিঝড় পরিস্থিতি মোকাবেলায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনেও (চসিক) খোলা হয়েছে  নিয়ন্ত্রণ কক্ষ ।

চসিকের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য কাউন্সিলর জহরলাল হাজারী জানান, নিয়ন্ত্রণ কক্ষে সার্বক্ষণিকভাবে স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অবস্থান করছেন। নগরবাসীকে যে কোনো প্রয়োজনে ৬৩০৭৩৯, ৬৩৩৪৬৯ নম্বরে যোগাযোগের অনুরোধ করেছেন তিনি।

বাংলাধারা/এফএস/এমআর

আরও পড়ুন

spot_img

সর্বশেষ