spot_imgspot_img
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার নিবন্ধিত। রেজি নং-৯২
শনিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩
প্রচ্ছদঅর্থনীতি‘এটি সরকারের যুগোপযোগী ও সাহসী বাজেট’

‘এটি সরকারের যুগোপযোগী ও সাহসী বাজেট’

বাংলাধারা প্রতিবেদক
spot_img

২০২৩-২৪ অর্থবছরের ঘোষিত বাজেটকে বর্তমান সরকারের সফল, জনকল্যাণমুখী, সুদূর প্রসারী ও যুগোপযোগী এক সাহসী বাজেট হিসেবে আখ্যা দিয়ে বিজিএমইএ’র প্রথম সহ-সভাপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার প্রতি বিজিএমইএ’র পক্ষ থেকে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জ্ঞাপন করা হয়।

শুক্রবার এক বিবৃতিতে বিজিএমইএ ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জ্ঞাপন করে। এতে বলা হয়, বিশ্ব অর্থনৈতিক মহামন্দা, টালমাটাল বিশ্ব বানিজ্য, বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতি, প্রবাসী আয়ে ধস— এমনই একটি প্রেক্ষাপটে চলমান অর্থনৈতিক মন্দাবস্থায় গণমুখী ও জনবান্ধব এই বাজেট প্রস্তাবনায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বর্তমান সরকারের দেশ ও জনগণের সুরক্ষার অন্যতম পদক্ষেপ হিসেবে চি‎হ্নিত হয়েছে। বাজেটে কৃষি প্রধান বাংলাদেশে কৃষকদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে কর ছাড় দিয়ে ৪র্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। অন্যদিকে সর্বজনীন পেনশান স্কিম চালুর চিন্তাধারাও প্রমাণিত হয়েছে যে, আমরা পরিকল্পনার রাস্তা প্রসস্থ করে দরিদ্র রাষ্ট্র থেকে উন্নত রাষ্ট্রের দিকে এগিয়ে চলছি। এজন্য তিনি অর্থমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সকলকেও অভিনন্দন জানান।

বিজিএমইএ’র প্রথম সহ-সভাপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম ঘোষিত বাজেটের উল্লেখযোগ্য দিকগুলো পর্যালোচনা করে বর্তমান বিশ্ব অর্থনৈতিক সংকটকালে রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক শিল্পের প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রাখার স্বার্থে, জাতীয় রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনসহ অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে বাজেটে রপ্তানিতে নীতি সহায়তার সুদূর প্রসারী চিন্তার প্রতিফলন লক্ষ্য করেছেন।

ক. রপ্তানিমুখী শিল্প খাতের বিকাশের জন্য রপ্তানি প্রণোদনা, কর অব্যাহতি, বন্ডেড ওয়্যারহাউজ সুবিধা ইত্যাদি প্রদানের উপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন রপ্তানিমুখী তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর ও পরিবেশ বান্ধব শিল্প স্থাপনকে উৎসাহিত করার কথা বলা হয়েছে। এছাড়াও নবায়নযোগ্য জ¦ালানির উপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
খ. ২০২৬ সালে শিল্পোন্নত দেশ হতে উত্তোরণ পরবর্তী সময়ে বিশ^ বাণিজ্য সংস্থার নির্ধারিত মাপকাঠির সাথে সামঞ্জস্য রেখে শুল্ক কাঠামো যৌক্তিকীকরণ ও রপ্তানিখাতে নগদ সহায়তা প্রত্যাহারের মত পদক্ষেপসমূহের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
গ. কৃত্রিম আঁশের তৈরি কাটা ফেব্রিক্স এবং নষ্ট টুকরা (এক মিটারের বেশী দীর্ঘ নয়), ‘বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস এন্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন এর নিকট নমুনা হিসেবে বিনামূল্যে সরবরাহকৃত ফেব্রিকস (তিন বর্গমিটারের নীচের আকৃতির)’, এবং “Taps and Braids’’ এর উৎপাদন পর্যায়ে মূসক অব্যাহতি প্রদানের প্রস্তাব করা হয়েছে।
ঘ. বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য স্থানীয়ভাবে বিদেশি বাণিজ্যিক অফিস স্থাপন, বিদেশী কর্মীদের ভিসা সুপারিশ ও কর্মানুমতি প্রদানের কর্মপদ্ধতি ২০২৩ অনুমোদন করা হয়েছে।
ঙ. অর্থনৈতিক অঞ্চলে আমদানি-রপ্তানি প্রক্রিয়া সহজীকরণের জন্য কাস্টমস অফিস স্থাপনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
চ. স্থানীয় টেক্সটাইল শিল্পকে সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে প্রযুক্তির উন্নয়নের কারণে নতুন এইচ এস কোড সংশ্লিষ্ট কতিপয় যন্ত্রাংশ সংযোজন এবং কিছু পণ্যের বর্ণনা সংশোধনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট প্রজ্ঞাপনটি সংশোধন করা হয়েছে।
ছ. স্থানীয় শিল্পের বিকাশের লক্ষ্যে Linear Alkyl Benzene Sulphonic Acid (LABSA) এবং Sodium Lauryl Ether Sulphate (SLES) এর স্থানীয় উৎপাদন পর্যায়ে ৫% এর অতিরিক্ত মূল্য সংযোজন কর অব্যাহতি সুবিধা ৩০ জুন, ২০২৪ পর্যন্ত বর্ধিতকরণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

অন্যদিকে বাজেটে রপ্তানিকারক তৈরী পোশাক শিল্পের উল্লেখযোগ্য দাবী সমূহ বিবেচনায় নেয়া হয়নি। বাজেট পাশের সময় নিন্মোক্ত দাবীগুলো সুবিবেচনায় নিয়ে এ’শিল্পকে টিকিয়ে রাখার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট জোর অনুরোধ করছি—

ক) রপ্তানির বিপরীতে উৎসে কর ১% থেকে কমিয়ে ০.৫০% করণ।
খ) নগদ সহায়তার বিপরীতে আয়কর ০% করণ।
গ) নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিতে সোলার প্যানেল আমদানিতে শুল্ক মওকুফ।
ঘ) সাব কন্ট্রাক্টের ক্ষেত্রে আয়কর হ্রাস করণ।
ঙ) রপ্তানিকারকদের ঊজছ (ERQ (Exporter Retention Quata Fund) থেকে পরিশোধিত ফি হতে আয়কর হ্রাস করণ।
চ) পোশাক শিল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট কাস্টমস্, বন্ড, ভ্যাট ও ট্যাক্স কার্যক্রম সহজীকরণে রপ্তানি বান্ধব নীতিমালা প্রণয়ন।
ছ) দক্ষ শ্রমিক সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা ও ডরমিটরী স্থাপনে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ প্রদান।

আরও পড়ুন

spot_img

সর্বশেষ