spot_imgspot_imgspot_img
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার নিবন্ধিত। রেজি নং-৯২
শনিবার, ২ ডিসেম্বর ২০২৩
প্রচ্ছদআন্তর্জাতিকগ্রহাণুর শিলাখণ্ড পৃথিবীতে আনল নাসা

গ্রহাণুর শিলাখণ্ড পৃথিবীতে আনল নাসা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
spot_imgspot_imgspot_imgspot_img

বেনুুই গ্রহাণুর শিলাখণ্ড সফলভাবে পৃথিবীতে নিয়ে এলো যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার অনুসন্ধান যান ওসাইরাস-রেক্স। আড়াইশ গ্রাম মাটিসহ যানটির বিশেষ ক্যাপসুল স্থানীয় সময় রোববার সকালে যুক্তরাষ্ট্রের ইউটা অঙ্গরাজ্যের মরুভূমিতে নেমে আসে।

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, পৃথিবী গঠিত হওয়া এবং এখানে প্রাণের উদ্ভব সম্পর্কে বড় প্রশ্নের জবাব মিলতে পারে ওসাইরাসের নিয়ে আসা এই ‘মহামূল্য’ ধুলা থেকে। এ পর্যন্ত মহাকাশের কোনো গ্রহাণু থেকে সংগ্রহ করা এটাই সবচেয়ে বড় নমুনা। খবর বিবিসির

খবরে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় রোববার সকাল ১০টা ৫২ মিনিটে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উটাহ রাজ্যের পশ্চিম মরুভূমিতে দেশটির প্রতিরক্ষা বিভাগের অন্তর্গত মরুভূমিতে একটি হেলিকপ্টারের সাহায্যে নমুনা ধারণকারী ক্যাপসুলটি অবতরণ করে।

নির্ধারিত সময়ের তিন মিনিট আগেই শিলাখণ্ডটি পৃথিবীতে নিয়ে আসা হয়। গাড়ির টায়ার আকৃতির শিলাখণ্ডটির প্রাক-অবতরণ ওজন প্রায় ২৫০ গ্রাম বা ৯ আউন্স। এটি খুব বেশি না হলেও নাসার বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, তাদের দলগুলো যে ধরণের পরীক্ষা করতে চায় তার জন্য এটি যথেষ্ট পরিমাণের চেয়ে বেশি।

এর আগে নাসার সংগ্রহ করা বিভিন্ন গ্রহাণুর নমুনাগুলোর চেয়ে এই নমুনাটি যথেষ্ট বড়। আশা করা হচ্ছে, শিলাখণ্ডটি ৪.৬ বিলিয়ন বছর আগে সৌরজগতের গঠন এবং আমাদের পৃথিবীতে কীভাবে জীবন শুরু হয়েছিল তা সম্পর্কে নতুন অন্তর্দৃষ্টি প্রদান করবে।

গ্রহাণুর এই উপাদান পরীক্ষা করা হবে টেক্সাসে নাসার জনসন স্পেস সেন্টারে। সোমবারই বিমানে করে ক্যাপসুলটি টেক্সাসে নেওয়া হবে। ২০০৪ সালে নাসার এ রকম একটি অভিযান প্যারাশুট সুবিধা কাজ না করায় শেষ মুহূর্তে এসে ব্যর্থ হয়।

নাসা ধুলাগুলো পরীক্ষার প্রাথমিক ফলাফল জানাবে ১১ অক্টোবর। নমুনার বেশির ভাগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য রাখা হবে। এক-চতুর্থাংশ তাত্ক্ষণিক পরীক্ষায় ব্যবহার করা হবে। অল্প কিছু দেওয়া হবে অভিযানের সহযোগী জাপান ও কানাডাকে। জাপানও তার ২০২০ সালের এক অভিযানে সংগ্রহ করা গ্রহাণুর ধুলার কয়েক গ্রাম দিয়েছিল নাসাকে।

২০২০ সালে বেনুর বুক থেকে নমুনা নেয় ওসাইরাস। পৃথিবীর পথে ফিরতি যাত্রা শুরু করে ২০২১ সালে। গতকাল ঘণ্টায় ২৭ হাজার মাইল বেগে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে এর ক্যাপসুল। এর ঠিক চার ঘণ্টা ১৩ মিনিট আগে তাকে পৃথিবীর পথে ছেড়ে দিয়েছিল ওসাইরাস। হিট শিল্ড ও পর পর দুটি প্যারাশুট যাত্রার শেষ পর্যায়ে ক্যাপসুলের গতি অনেক কমিয়ে আনে। তবে প্রধান প্যারাশুটটি পরিকল্পনার চেয়ে বেশ আগেই খুলে যায়। নাসা অভিযানটি শুরু করে ২০১৬ সালে। যেতে-আসতে ওসাইরাস-রেক্স ভ্রমণ করেছে ৭০০ কোটি কিলোমিটার।

ক্যাপসুলটি ছেড়ে দিয়ে গতকালই মহাকাশে নতুন যাত্রায় চলে গেছে ওসাইরাস-রেক্স। তার এবারের গন্তব্য অ্যাপোফিস নামের হাজারখানেক ফুট চওড়া আরেক গ্রহাণু। সেটি ২০২৯ সালে পৃথিবী থেকে ২০ হাজার মাইলের মধ্যে চলে আসবে।

আরও পড়ুন

spot_img

সর্বশেষ