২১ অক্টোবর ২০২৬

আসলামের প্রার্থিতা বাতিল, পুনর্নির্বাচন নাকি জামায়াত প্রার্থীর জয়?

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিল করে আপিল বিভাগের রায়ের পর নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে— আসনটিতে কি পুনর্নির্বাচন হবে, নাকি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া জামায়াতের প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিকীকে বিজয়ী ঘোষণা করা হবে?

মঙ্গলবার আপিল বিভাগ আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতার বৈধতা নিয়ে করা আপিল মঞ্জুর করে রায় দেন। এর ফলে ঋণখেলাপির কারণে নির্বাচনে তার অংশগ্রহণ অবৈধ বলে গণ্য হয়েছে এবং তার সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার পথ বন্ধ হয়ে গেছে।

রায়ের পর জামায়াত প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিকীর আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির সাংবাদিকদের বলেন, ‘একজন অযোগ্য প্রার্থীর নির্বাচনে অংশগ্রহণ অবৈধ হওয়ায় এখন ওই আসনের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায়ের ওপর। সাধারণভাবে কোনো আসনে প্রথম হওয়া প্রার্থী অযোগ্য হলে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করার নজির রয়েছে। তবে এই মামলায় আপিল বিভাগ বিশেষ কোনো নির্দেশনা দিলে সেটিই কার্যকর হবে।’

অন্যদিকে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, ‘যদি ওই আসনে পুনর্নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, তাহলে আসলাম চৌধুরী তার ঋণখেলাপির অযোগ্যতা কাটিয়ে আইনগতভাবে যোগ্য হলে ভবিষ্যতে প্রার্থী হতে কোনো বাধা থাকবে না।’

আইনজীবীদের মতে, মামলার মূল প্রশ্ন ছিল মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় আসলাম চৌধুরী ঋণখেলাপি ছিলেন কি না। আপিল বিভাগের রায়ে সেই প্রশ্নের নিষ্পত্তি হয়েছে। তবে এখন চট্টগ্রাম-৪ আসনের প্রতিনিধিত্ব কীভাবে নির্ধারণ হবে, তা নির্ভর করছে পূর্ণাঙ্গ রায়ে আদালতের পর্যবেক্ষণ ও নির্দেশনার ওপর।

গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বেসরকারি ফলাফলে আসলাম চৌধুরী সর্বোচ্চ ভোট পান। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোট পান জামায়াতের প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিকী। তবে আদালতের নির্দেশে এতদিন ওই আসনের ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়নি।

এখন নির্বাচন কমিশনের পরবর্তী পদক্ষেপও নির্ভর করবে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর আদালতের নির্দেশনার ওপর। ফলে চট্টগ্রাম-৪ আসনে পুনর্নির্বাচন হবে, নাকি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করা হবে— সে প্রশ্নের উত্তর জানতে অপেক্ষা করতে হবে পূর্ণাঙ্গ রায়ের জন্য।

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও

সর্বশেষ