খুরশীদ আলম বিতর্কে অস্থিরতায় ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। পরে বোর্ডের একক ক্ষমতা দেয়া হয় সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক জহির হোসেনকে। তবে দায়িত্ব নেয়ার সাড়ে চার মাসেও আস্থা ফেরাতে পারেননি আমানতকারীদের, খেলাপি ঋণ আদায়েও ছিল না উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি।
চলতি বছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে আয়ের থেকে প্রায় দ্বিগুণ আমানতকারীদের মুনাফা পরিশোধ করতে হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক প্রতিবেদন বলছে, ওই তিন মাসে যেখানে আমানতকারীদের মুনাফা দিতে হয়েছে ৩ হাজার ১৯৫ কোটি টাকা, সেখানে বিনিয়োগ থেকে ব্যাংকটির আয় ছিল মাত্র ১ হাজার ৬৯৫ কোটি টাকা।
জুলাই-সেপ্টেম্বর, এই তিন মাসে ইসলামী ব্যাংক লোকসান দিয়েছে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা। আর জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর এই ৯ মাস হিসাব করলে লোকসান ৩ হাজার ৩০০ কোটি টাকার বেশি। যেখানে আগের বছরের একই সময়ে মুনাফা ছিল ৭৮ কোটি টাকা।
লোকসানের কারণ হিসেবে মূল্য সংবেদনশীল তথ্যে ইসলামী ব্যাংক জানিয়েছে, বিনিয়োগ থেকে কাঙ্ক্ষিত আয় না হওয়া। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, এখন ব্যাংকটিতে আস্থা ফেরাতে কাজ করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, যেকোনো ধরনের সাপোর্ট দরকার ইসলামী ব্যাংকের অবশ্যই বাংলাদেশ ব্যাংক করবে। কারণ এমন শক্তিশালী ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা ব্যাংক, লসের সম্মুখীন হবে, এটা অবশ্যই আমাদের ইকোনমির জন্য অশনি সংকেত। এবং বাংলাদেশ ব্যাংকও এটা আরও দীর্ঘায়িত হোক, এটা কখনও চাইবে না।
তবে খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ইসলামী ব্যাংকের পর্ষদ এবং ব্যবস্থাপনায় নেতৃত্বের সংকটের কারণেই প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসায়িক অগ্রগতি নেই।
সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মো. শফিকুর রহমান বলেন, এই ব্যাংকটা যখন শুরু হয়, ভালো ব্যাংক হিসেবে উন্নতি করছে। সেখানে এই ব্যাংক নেতৃত্বহীন, পর্ষদহীন। এই ব্যাংকের কাছে আপনি বেটার ফিনান্সিয়াল ইন্ডিকেটর কিভাবে এক্সপেক্ট করতে পারেন?
বিআইবিএম’র সাবেক মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমদ চৌধুরী বলেন, ব্যাংককে ব্যাংকের মতো চলতে দিতে হবে। এটা পলিটিসাইজ করা যেমন ঠিক না, আবার ইসলামী ব্যাংকিং ফোরাম নামে কি একটা আছে, তাদের হাতেও ছেড়ে দেয়াও উচিত না। ব্যাংক ব্যাংকের মতো করে চলবে। কে ডিপোজিট রাখল, একটা পার্টিকুলার পলিটিক্যাল পার্টির লোকজন ডিপোজিট রাখতে পারে, রাখুক। অসুবিধা কী?
এদিকে লোকসানে থাকা ইসলামী ব্যাংকের সম্পদের মূল্যও কমছে। বছর ব্যবধানে প্রতিষ্ঠানটির সম্পদমূল্য অর্ধেক কমে নেমে এসেছে সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার ঘরে।













