২১ অক্টোবর ২০২৬

ঈদযাত্রা; বাড়ছে স্টেশনের ব্যস্ততা

আগামী ২৮ মে পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা শুরু হয়েছে চট্টগ্রামে। সরকারি ছুটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু না হলেও স্ত্রী-সন্তান, মা-বাবা ও স্বজনদের আগেভাগেই গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দিচ্ছেন অনেক চাকরিজীবী। ফলে শুক্রবার (২২ মে) সকাল থেকেই চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে যাত্রীদের স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বাড়তি চাপ লক্ষ্য করা গেছে।

সকালের প্রথম দিক থেকেই স্টেশনের প্ল্যাটফর্মগুলোতে ছিল মানুষের ভিড়। কেউ পরিবারের সদস্যদের বিদায় জানাতে এসেছেন, কেউবা ব্যাগ-সুটকেস নিয়ে ট্রেন ধরতে ব্যস্ত সময় পার করেছেন। শিশুদের কোলাহল, স্বজনদের সঙ্গে শেষ মুহূর্তের কথা বলা আর ট্রেনের অপেক্ষায় উদ্বিগ্ন মানুষের উপস্থিতিতে স্টেশনজুড়ে তৈরি হয় এক ব্যস্ত পরিবেশ।

রেলস্টেশনে পরিবারকে এগিয়ে দিতে আসা সরকারি চাকরিজীবী কামরুল ইসলাম বলেন, “আমাদের অফিসের ছুটি শুরু হতে আরও কয়েকদিন বাকি। তাই স্ত্রী-সন্তানদের আগে বাড়ি পাঠিয়ে দিচ্ছি। পরে ছুটি পেলেই আমিও চলে যাব। ট্রেন কিছুটা দেরিতে ছাড়ছে, তবে সড়কপথের তুলনায় ট্রেনে যাত্রা নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক মনে হয়।”

ঈদ উপলক্ষে সন্তানদের নিয়ে গ্রামের বাড়ি যাচ্ছেন তানজিলা আক্তার। তিনি বলেন, “ঈদের সময় যত ঘনিয়ে আসে, মানুষের চাপ তত বাড়ে। তাই একটু আগেই রওনা হয়েছি। বাড়িতে ঈদের প্রস্তুতিরও অনেক কাজ থাকে। বাচ্চাদের নিয়ে শেষ মুহূর্তের ভিড় এড়াতেই আগে চলে যাচ্ছি।”

স্টেশনে দায়িত্ব পালনরত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। চট্টগ্রাম রেলস্টেশনের ম্যানেজার বলেন, “সকাল থেকে বিভিন্ন আন্তঃনগর ট্রেন ছেড়ে গেছে। ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে স্টেশনে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। টিকিট ছাড়া কাউকে স্টেশনে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। এছাড়া ট্রেনের ছাদে যাত্রী ভ্রমণ ঠেকাতেও কঠোর নজরদারি রাখা হয়েছে।”

এদিকে ঈদুল আজহা উপলক্ষে এবার সরকারি-বেসরকারি অফিসের জন্য টানা সাত দিনের ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় গত ১৪ মে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ছুটির আগে ২৩ মে (শনিবার) ও ২৪ মে (রোববার) সরকারি অফিস খোলা থাকবে।

তবে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হলেও জরুরি সেবাগুলো এই ছুটির আওতার বাইরে থাকবে। বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস ও জ্বালানি সরবরাহ, ফায়ার সার্ভিস, বন্দর কার্যক্রম, টেলিফোন ও ইন্টারনেট সেবা, ডাক বিভাগ, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম এবং চিকিৎসাসেবাসহ সংশ্লিষ্ট খাতগুলো চালু থাকবে বলে জানানো হয়েছে। এছাড়া চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী এবং ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম পরিবহনকারী যানবাহনও স্বাভাবিক কার্যক্রম চালিয়ে যাবে।

প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম চালু রাখার বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক। একইভাবে উচ্চ ও নিম্ন আদালতের কার্যক্রম পরিচালনায় নির্দেশনা দেবে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট।

অন্যদিকে বেসরকারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও কলকারখানার ছুটির বিষয়ে ‘বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬’ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।

ঈদকে কেন্দ্র করে মানুষের ঘরে ফেরার এ যাত্রা আগামী কয়েক দিনে আরও বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে ছুটি শুরুর ঠিক আগের দিনগুলোতে রেলস্টেশন, বাস টার্মিনাল ও মহাসড়কে যাত্রীর চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও

সর্বশেষ