২৩ অক্টোবর ২০২৬

টানেল ব্যবহার করে মাদক পাচারের নতুন নেটওয়ার্ক!

উপকূলে মাদকের ‘গোপন সাম্রাজ্য’, ফের সক্রিয় পাচার চক্র

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে ইয়াবা ও বিদেশি মদ পাচারের আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক। কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফ ও বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির সীমান্ত এলাকা হয়ে মিয়ানমার থেকে সাগরপথে আসা মাদক এখন আনোয়ারার উপকূলীয় অঞ্চলকে ব্যবহার করছে অন্যতম ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে।

স্থানীয় সূত্র ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, মাছ ধরার ট্রলার ও জেলেদের ছদ্মবেশে কোটি কোটি টাকার ইয়াবা উপকূলে আনা হচ্ছে। এরপর বিভিন্ন ঘাট ও বিচ্ছিন্ন পয়েন্ট ব্যবহার করে তা ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়।

বিশেষভাবে উদ্বেগের বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে নির্মিত কর্ণফুলী টানেল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নির্দিষ্ট চেকপোস্ট না থাকায় এই রুটকে তুলনামূলক নিরাপদ হিসেবে ব্যবহার করছে পাচারকারীরা বলে অভিযোগ রয়েছে।

অন্যদিকে বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করা বিদেশি জাহাজ থেকে রাতের আঁধারে ডলারের বিনিময়ে বিদেশি মদ খালাসের অভিযোগও পাওয়া গেছে। পারকি সমুদ্র সৈকত, উত্তর পরুয়াপাড়া, গহিরা ও বিভিন্ন ঘাট দিয়ে এসব মদ আনা হচ্ছে বলে জানা যায়।

গত কয়েক মাসে একাধিক অভিযান চালিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ২০২৪ সালের ২৯ জুন সিইউএফএল সড়কে একটি মিনি ট্রাক থেকে ১৯০ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার হয়। এছাড়া র‍্যাব-৭, ডিবি পুলিশ ও সেনাবাহিনীর অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার ও একাধিক মাদক কারবারি গ্রেপ্তার করা হয়।

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, বহনকারী বা ক্ষুদ্র কারবারিরা ধরা পড়লেও মূল গডফাদাররা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তালিকায় চট্টগ্রামে ৪২ জন গডফাদারসহ শতাধিক সক্রিয় কারবারির নাম রয়েছে বলে জানা যায়।

অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, মিয়ানমারের সান স্টেট থেকে শুরু করে নৌরুট ও নদীপথ ব্যবহার করে ইয়াবা সেন্টমার্টিন হয়ে আনোয়ারার বিভিন্ন ঘাটে পৌঁছায়। এরপর সড়ক ও টানেল রুট ব্যবহার করে তা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

উপজেলা নাগরিক ফোরামের সভাপতি আশরাফ উদ্দীন চৌধুরী কুসুম বলেন, ‘মাদক পাচার ও মাদকসেবনের বিষয়ে পুলিশকে আরও কঠোর হতে হবে। একই সঙ্গে সচেতন জনগণকে সামাজিকভাবে এগিয়ে এসে এ সমস্যা প্রতিরোধ করতে হবে।’

তিনি গডফাদারদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। তার মতে, গডফাদাররা অধরা থাকায় আনোয়ারার উপকূলীয় অঞ্চল থেকে বিভিন্ন রুট হয়ে ইয়াবা, আইসসহ নানা ধরনের মাদক চট্টগ্রাম শহরে ছড়িয়ে পড়ছে। এসব মাদক মিয়ানমার ও ভারত থেকে এসে চট্টগ্রামের বন্দরনগরী হয়ে দেশের উত্তর-পূর্ব, মধ্য ও পশ্চিমাঞ্চলে বিস্তার লাভ করছে।

এ বিষয়ে আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুনায়েদ চৌধুরী বলেন, ‘মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ বিষয়ে আমরা জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছি। মাদক কারবারিদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা করা হয় না। আনোয়ারার উপকূলীয় এলাকা, টানেল সড়কসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পুলিশের নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।’

আরও পড়ুন