২১ অক্টোবর ২০২৬

এসএসসিতে ফেল করার খবরে রাউজানে পরীক্ষার্থীর অস্বাভাবিক মৃত্যু

চট্টগ্রামের রাউজানে এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর অকৃতকার্য হওয়ার খবর পাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই মনি দাশ গুপ্ত (১৮) নামে এক পরীক্ষার্থীর অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (১০ আগস্ট) ফল প্রকাশের পর উপজেলার বাগোয়ান ইউনিয়নের গশ্চি সুনীল মাস্টারের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

তবে মনির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে তৈরি হয়েছে ধূম্রজাল। স্থানীয়ভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে আলোচনা হলেও পরিবারের দাবি, ফলাফলে অকৃতকার্য হওয়ার খবর শুনে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে। পুলিশও তাৎক্ষণিকভাবে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করতে পারেনি।

নিহত মনি দাশ গুপ্ত একই বাড়ির মৃদুল দাশ গুপ্তের মেয়ে। সে গশ্চি উচ্চ বিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের অনিয়মিত এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল। এবার সে ইংরেজি ও গণিত বিষয়ে পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে গণিতে উত্তীর্ণ হলেও ইংরেজিতে অকৃতকার্য হয়।

বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক নুরুন নবী বলেন, ফল প্রকাশের পর মনির মৃত্যুর খবর পান তিনি। প্রথমে আত্মহত্যার কথা শুনলেও পরে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর কথা জানতে পারেন। প্রকৃত ঘটনা সম্পর্কে তিনি নিশ্চিত নন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, ফল প্রকাশের সময় মনির মা রেবা দাশগুপ্ত বাড়ির বাইরে রান্নার জন্য পাতা কুড়াতে গিয়েছিলেন। এ সময় মনি বাড়িতে রান্নার কাজে ব্যস্ত ছিল। এক নিকটাত্মীয় এসে তাকে ফলাফলে অকৃতকার্য হওয়ার খবর দেন। এরপর মনি একা একটি কক্ষে চলে যায়।

কিছুক্ষণ পর বাড়িতে ফিরে মনি অসুস্থ অবস্থায় পড়ে আছে দেখতে পান তার মা। পরে স্বজনরা তাকে পথেরহাটের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পরে দ্রুত তার সৎকার সম্পন্ন করা হয়।

মনির মা রেবা দাশগুপ্ত বলেন, ‘ফল প্রকাশের দশ মিনিটের মধ্যে এমন ঘটনা ঘটেছে। আমি বাইরে থেকে এসে মেয়েকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখি। হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। দুই বিষয়ে পরীক্ষা দিয়েছিল, একটি বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে। এমন কিছু হবে, তা ভাবিনি।’

তিনি মেয়ের আত্মহত্যার বিষয়টি নিশ্চিত করেননি। তাঁর দাবি, ফলাফলে অকৃতকার্য হওয়ার খবর শুনে মনি অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে।

নোয়াপাড়া পাইওনিয়ার হাসপাতালের সুপারভাইজার ওসমান গণি জানান, ফল প্রকাশের প্রায় এক ঘণ্টা পর এক এসএসসি পরীক্ষার্থীকে অচেতন অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ইসিজিসহ বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তবে হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছিল বলে জানান তিনি। এ কারণে হাসপাতালের নথিতে মৃত্যুর কারণ উল্লেখ করা হয়নি।

এদিকে, সোমবার আত্মহত্যার কোনো খবর পুলিশ পায়নি বলে জানিয়েছেন নোয়াপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আনিসুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘গতকাল আমাদের কাছে আত্মহত্যার কোনো সংবাদ আসেনি। তবে আজ বিষয়টি শুনেছি। ঘটনাটি যাচাই করে দেখা হচ্ছে।’

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও

সর্বশেষ