১৫ এপ্রিল ২০২৬

করোনাযুদ্ধের ‘মানবতার প্রতীক’ আব্দুস সবুর লিটন

মুহাম্মদ আব্দুল আলী »

দানশীলতার বিষয়টি আলোচিত হলে আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে সেকালের বিশ্ববরেণ্য দাতা হাতেমতাই, হাজী মোহাম্মদ মুহসীন, স্যার সলিমুল্লাহ খান, নবাব হাবিবুল্লাহ প্রমুখের নাম। যাদের দান ও মহত্ত্ব ইতিহাসে কিংবদন্তি হয়ে আছে। আর এই মহামারি করোনাকালের দানশীল ব্যক্তিদের মধ্যে এই মুহূর্তে বিশেষভাবে মনে পড়ছে একজন ব্যক্তির নাম। তিনি চট্টগ্রাম নগরীর ২৫নং রামপুর ওয়ার্ডের আবদুর সবুর লিটন। এ ছাড়াও শতসহস্র দানবীর নিভৃতে তো রয়েছেন নিশ্চয়ই।

আমরা বিল গেটসের কথা শুনেছি। বিল গেটস ও ওয়ারেন বাফেট যুক্তরাষ্ট্রের দুজন শীর্ষ ধনী ব্যক্তি। ধন তালিকায় বিল গেটস প্রথম ও ওয়ারেন বাফেট দ্বিতীয়। তবে ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার দান করে বিশ্বে প্রথম স্থান অধিকারী দানশীল ব্যক্তি হিসেবে নাম লিখিয়েছেন ওয়ারেন বাফেট। আর চট্টগ্রামে অসংখ্য বিত্তশালী রয়েছেন। এসব বৃত্তশালীদের ওরকম মানুষের পাশে এসে দাঁড়াতে দেখা যাচ্ছে না, যেভাবে একজন আব্দুস সবুর লিটন তাঁর ব্যক্তিগত উদ্যোগে করোনার এই মহাসঙ্কটে মানুষের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন।

করোনাভাইরাসে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে নগরীর জনজীবন। চারদিকে নীরব-নিস্তব্ধতা। চেনা নগরীকে কেমন যেন মনে হয় অচেনা। ঘরবন্দি মানুষগুলো আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। দেশের এই দুর্দিনে রামপুরের জনসাধারণের মনে সাহস জোগাতে নানা উদ্যোগ নিয়ে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন ২৫নং রামপুর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও আসন্ন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর পদপ্রার্থী আবদুস সবুর লিটন।

মহামারি করোনা থেকে এলাকার মানুষকে করোনামুক্ত, সুস্থ রাখার জন্য আব্দুস সবুর লিটন তাঁর ব্যক্তিগত উদ্যোগে আট হাজার মানুষের খাদ্যসামগ্রীর ব্যবস্থা করেছেন। তিনি ঘোষণা দিয়েছেন- যতদিন এই করোনার প্রদুর্ভাব থাকবে ততদিন তিনি এই এইসব মানুষের খাদ্যের ব্যবস্থা করবেন। তিনি এলাকাবাসীর কাছে শুধু অনুরোধ জানিয়েছেন ‘ ঘরে থাকুন, নিরাপদে থাকুন, সুস্থ থাকুন, নিজের পরিবারকে সুস্থ রাখুন, দেশ ও দেশের মানুষকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করুন।

আব্দুস সবুর লিটনের উদ্যোগে গত ২২ এপ্রিল (বুধবার) ভালোবাসার এইসব ভালোবাসার উপহারসামগ্রী বিতরণ করলেন শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল এমপি। এসময় তিনি বলেছেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশক্রমে আমরা সবাই সবার জায়গা থেকে এই সংকটময় সময়ে কাজ করে যাচ্ছি। সকলের উচিত এই দুঃসময়ে সবাইকে একসাথে কাজ করে যাওয়া।

নওফেল বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার নির্দেশে সরকারী ত্রাণ-সাহায্য সর্বত্রই পৌঁছে যাচ্ছে৷ শহরাঞ্চলে সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলরদের মাধ্যমে দেয়া হচ্ছে, আর গ্রামাঞ্চলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে দেয়া তালিকা করে বিতরণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি রেশন কার্ড দেয়ার প্রক্রিয়াও শুরু হবে। ব্যক্তিগতভাবে সংসদ সদস্যরা কোন ত্রাণ বরাদ্দ বণ্টনের প্রক্রিয়ায় নেই বা তাদের মাধ্যমে বরাদ্দ হচ্ছেনা। তাই আমরা অনেকেই নিজেরাই দিচ্ছি, আবার অনুদান নিয়েও দিচ্ছি। আমি আমার নির্বাচনী এলাকায় এবং অন্যান্য পার্শ্ববর্তী এলাকাতেও ত্রাণ-দিয়ে সাহায্য দিয়ে যাচ্ছি ব্যক্তিগত উদ্যোগে, পাশাপাশি আমাদের দলের অনেকেই দিচ্ছেন, আমাদের মাধ্যমেও দিচ্ছেন।

শিক্ষা উপমন্ত্রী বলেন, সরকারের বাইরেও আমরা জানি আমাদের নেত্রীর নির্দেশনায় দলের অনেকেই লক্ষ লক্ষ টাকার ব্যক্তিগতভাবে ত্রাণসামগ্রী দিচ্ছেন।

২৫নং রামপুর ওয়ার্ডের সাবেক সফল কাউন্সিলর ও আসন্ন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কাউন্সিলর পদপ্রার্থী আবদুস সবুর লিটন বলেন, দেশ এখন একটি সংকটময় সময় অতিক্রম করছে। আমাদের জনসাধারণ আতঙ্কের মধ্য দিয়ে সময় পার করছেন। সবাই এখন ঘরবন্দি। তাই সবদিক বিবেচনা করে রামপুরের ৮ হাজার পরিবারকে খাদ্যসামগ্রী দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, আমাদের যাবতীয় সহায়তামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। আমি চাই আমার রামপুরবাসী যেন কষ্টে না থাকে। কাউকে আসতে হবে না, ঘর থেকে বের হতে হবে না। আমি সবার ঘরে ঘরে গিয়ে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিব।

সাবেক এই কাউন্সিলর বলেন, আমার এলাকার মানুষ যদি সুখে থাকে তাহলে আমি সুখী, আমার ২০টি সেচ্ছাসেবী টিম মাঠে কাজ করছে। মার্স্ক, স্যানিটাইজার বিতরণ ও এলাকায় জীবাণুনাশক ঔষুধ চিটানো হচ্ছে। ভালোবাসার এ উপহারগুলো প্রতি ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়া হবে, আমার এলাকায় একটা মানুষও না খেয়ে থাকবে না, আমাকে আপনারা দোয়া করবেন দেশে যতদিন এই দুঃসময় থাকবে ততদিন আমার এই কার্যক্রম চলমান থাকবে।

রামপুরবাসীকে উদ্দেশ্য করে আবদুস সবুর লিটন বলেন, এখন আমাদের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হচ্ছে দেশ ও দেশের জনগণকে করোনার ছোবল থেকে রক্ষা করা। আর এ জন্য স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে মেনে চলা ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। সরকার ইতোমধ্যে করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তাই আসুন আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হয়ে করোনা মোকাবিলা করি। নিজে সতর্ক হই, অন্যকেও সতর্ক করি।

আব্দস সবুর লিটন তাঁর ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেন, ‘আমি আমার রামপুর ওয়ার্ডের জন্য ৮,০০০ পরিবারের খাদ্যের ব্যাবস্থা করেছি, আপনারা দয়া করে ঘরে থাকুন, আপনাদের ঘরে খাবার পৌঁছে যাবে, দয়া করে অকারণে ঘরের বাহিরে যাবেন না, নিজের এবং সমাজকে বিপদগামী করবেননা, আমার নেতা চট্টলরত্ন শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিষ্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল আপনাদের সহযোগিতায় রামপুরের পার্শ্বে আছেন এবং থাকবেন।’

লেখক : সহ-সম্পাদক, বাংলাধারা ডটকম

আরও পড়ুন