১৪ এপ্রিল ২০২৬

মধ্যরাতেই শুরু হচ্ছে সাগরে মাছ ধরা নিষেধাজ্ঞা: দুশ্চিন্তায় উপকূলের মৎস্যজীবীরা

বঙ্গোপসাগরের জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং মাছের প্রজনন ও নির্বিঘ্নে বেড়ে ওঠা নিশ্চিত করতে ১৪ এপ্রিল মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকেই শুরু হতে যাচ্ছে মাছ ধরার ওপর সরকারি নিষেধাজ্ঞা।

১৫ এপ্রিল থেকে আগামী ১১ জুন পর্যন্ত মোট ৫৮ দিন দেশের সামুদ্রিক জলসীমায় সব ধরনের মৎস্য আহরণ নিষিদ্ধ থাকবে। এর ফলে আনোয়ারা উপজেলার উপকূলীয় এলাকার কয়েক হাজার জেলে ও মৎস্যজীবী আবারও কর্মহীন হয়ে পড়ার শঙ্কায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। অনেকের চোখে-মুখে এখন থেকেই ফুটে উঠেছে অভাব-অনটনের দুশ্চিন্তা।

নিষেধাজ্ঞার আগে থেকেই গভীর সমুদ্রে থাকা অধিকাংশ মাছ ধরার ট্রলার ইতিমধ্যে ঘাটে ফিরতে শুরু করেছে। গতকাল থেকে উপকূল এলাকার গহিরা উঠান মাঝির ঘাট, বাইঘ্যেরো ঘাট, ফকিরহাট ঘাট, ধলঘাট, গলাকাটার ঘাটসহ বিভিন্ন ঘাটে ট্রলারগুলো নোঙর করতে দেখা গেছে।

জেলেরা জানান, মাছের জাল ও অন্যান্য সরঞ্জাম গোছাতে কিছুদিন পার করবেন তারা। আবার কেউ কেউ এই সময় ট্রলার মেরামতের কাজ করবেন। তবে দীর্ঘ দুই মাসের এই কর্মহীন সময়ে আড়তদার এবং বিভিন্ন ব্যাংক ও এনজিওর কিস্তি কীভাবে শোধ করবেন, তা নিয়ে এখন দুশ্চিন্তায় সবাই।

জানা যায়, নিষেধাজ্ঞাকালীন সরকারের পক্ষ থেকে নিবন্ধিত জেলেদের চাল সহায়তা দেওয়া হয়। তবে জেলেদের অভিযোগ, এই চাল বরাদ্দে অনেক সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিকসহ প্রভাবশালীদের কারণে প্রকৃত জেলেরা বঞ্চিত হন। জেলেদের দাবি, চালের পরিবর্তে যদি সরাসরি তাদের মোবাইল ব্যাংকিং নম্বরে নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়, তবে ভোগান্তি ও অনিয়ম কমত বলে জানান তারা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, আনোয়ারা উপজেলায় নিবন্ধিত সমুদ্রগামী জেলে ৩ হাজার ৬০০ জনকে খাদ্য সহায়তা হিসেবে একধাপে মোট ৭৭ কেজি করে চাল দেওয়া হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আনোয়ারা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. রশিদুল হক জানান, মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে ১১ জুন পর্যন্ত মোট ৫৮ দিন সাগরে মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে সরকার। এই সময় সমুদ্রে মাছ ডিম দেয়। এতে করে মাছের উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এই সাময়িক ত্যাগের ফলে ভবিষ্যতে সমুদ্রে মাছের প্রাপ্যতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে, যার সুফল দীর্ঘমেয়াদে জেলেরাই ভোগ করবেন। এতে জেলেদের খাদ্য সহায়তার আওতায় আনোয়ারা উপজেলায় ৩ হাজার ৬০০ জেলেকে এক ধাপে ৭৭ কেজি চাল দেওয়া হবে। পাশাপাশি সমুদ্রসীমায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নজরদারি থাকবে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কেউ মাছ ধরলে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন