২১ অক্টোবর ২০২৬

কর্ণফুলীতে চোরাই ডিজেল সিন্ডিকেটের ৬ সদস্য গ্রেপ্তার

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীতে গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে চোরাই ডিজেল ক্রয়-বিক্রয় চক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে নৌ পুলিশ। এ সময় একটি অয়েল ট্যাংকার, ১২ হাজার ৭০০ লিটার চোরাই ডিজেল এবং ডিজেল স্থানান্তরের কাজে ব্যবহৃত একটি পাম্প মোটরসহ পাইপ জব্দ করা হয়।

শুক্রবার (৩ জুলাই) রাত প্রায় ২টা ৪৫ মিনিটে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চট্টগ্রাম নৌ পুলিশের সদরঘাট নৌ থানা এ অভিযান পরিচালনা করে।

এতে পুলিশ সুপার (নৌ পুলিশ) বি. এম. নুরুজ্জামানের নির্দেশনায়, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিজয়া সেনের তত্ত্বাবধানে এবং সদরঘাট নৌ থানার ওসি মো. মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে কর্ণফুলী নদীর চট্টগ্রাম বন্দরের ৬ নম্বর ভেসেল পয়েন্ট জেটি সংলগ্ন এলাকায় ওটি ইশরাত নামের একটি অয়েল ট্যাংকারে অভিযান চালানো হয়।

অভিযানে ট্যাংকার থেকে ১২ হাজার ৭০০ লিটার ডিজেল উদ্ধার করা হয়। ডিজেলের বৈধ কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হওয়ায় ট্যাংকারে থাকা সুপারভাইজার, মাস্টার ও স্টাফসহ ছয়জনকে আটক করা হয়।

গ্রেপ্তাররা হলো— আরিফুল ইসলাম (৩০), সাইদুল ইসলাম ওরফে ইশাদ (২২), আব্দুল হালিম (৩৫), নুরুল মোস্তফা (২৬), জালাল আহমদ (৬০) ও নুরুল আমিন (৫০)।

নৌ পুলিশ জানায়, উদ্ধার করা ডিজেলের আনুমানিক মূল্য ১৪ লাখ ৬০ হাজার ৫০০ টাকা। এছাড়া জব্দ করা অয়েল ট্যাংকার ও পাম্প মোটরসহ উদ্ধারকৃত আলামতের মোট মূল্য প্রায় ১ কোটি ১৪ লাখ ৭৫ হাজার ৫০০ টাকা।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতাররা জানিয়েছেন, অজ্ঞাত ব্যক্তিদের কাছ থেকে বিভিন্ন উৎসে অবৈধভাবে সংগ্রহ করা ডিজেল ট্যাংকারে ভর্তি করে বিক্রির উদ্দেশ্যে বাংলাবাজার ঘাটের দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল।

তদন্তে আরও জানা গেছে, তারা দীর্ঘদিন ধরে কর্ণফুলী নদী ও আশপাশের ঘাট এলাকায় সংঘবদ্ধভাবে চোরাই ডিজেল কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত।

এ ঘটনায় নৌ পুলিশের এসআই মো. মোজাম্মেল হোসেন বাদী হয়ে গ্রেফতার ছয়জনসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১–২ জনের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম মহানগরের বন্দর থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলা রুজুর প্রক্রিয়া চলছে।

নৌ পুলিশ আরও জানায়, গ্রেফতার আরিফুল ইসলাম ২০১৭ সালের একটি হত্যা মামলার আসামি। এছাড়া আব্দুল হালিমের বিরুদ্ধে ফেনীর ছাগলনাইয়া থানায় দুটি ডাকাতি ও তিনটি মাদক মামলা রয়েছে।

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও

সর্বশেষ