ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবু জাফর খান বলেছেন, কাগতিয়া এশাতুল উলুম কামিল এম.এ. মাদরাসা দ্বীনি শিক্ষার ক্ষেত্রে একটি অনন্য প্রতিষ্ঠান। মাদরাসাটির শিক্ষা কার্যক্রম, অবকাঠামো ও পরিবেশ দেখে তিনি মুগ্ধ হয়েছেন।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বেলা ১১টায় চট্টগ্রামের রাউজানের কাগতিয়া এশাতুল উলুম কামিল এম.এ. মাদরাসার মূল ক্যাম্পাস অডিটোরিয়ামে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এর আগে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর মাদরাসার মূল ক্যাম্পাস ও চট্টগ্রাম মহানগর ক্যাম্পাস পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে মাদরাসা গভর্নিং বডির সভাপতি প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবুল মনছুরের সভাপতিত্বে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবু জাফর খান বলেন, ‘কাগতিয়া মাদরাসায় আজকের এ আগমনকে আল্লাহ পাক যেন সকলের নাজাতের উছিলা করেন। আমি মাদরাসা পরিদর্শন করে মুগ্ধ হয়েছি। মাদরাসার সুবিশাল লাইব্রেরি চমৎকার। এখানে ইসলামের মূল সোর্সের আরবি ভাষায় প্রণীত বই রয়েছে।’
তিনি শিক্ষার্থীদের যোগ্য আলেম হওয়ার স্বপ্ন লালন করার পাশাপাশি শিক্ষকদের যথাযথ সম্মান করার পরামর্শ দেন। একই সঙ্গে ইসলামি শিক্ষার পাশাপাশি বিজ্ঞানমুখী শিক্ষা অর্জন, খেলাধুলা ও শারীরিক চর্চার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
মাদরাসার পরিবেশের প্রশংসা করে তিনি বলেন, এটি তাকওয়া নির্ভর একটি অনন্য প্রতিষ্ঠান। দায়িত্ব গ্রহণের পর এত চমৎকার একটি মাদরাসা তিনি এই প্রথম দেখেছেন। চট্টগ্রাম মহানগর ক্যাম্পাস পরিদর্শনের অনুভূতি প্রকাশ করে তিনি বলেন, পাহাড়ে ঘেরা নৈসর্গিক পরিবেশে গড়ে ওঠা এ ক্যাম্পাস তাঁর হৃদয়ে অন্যরকম অনুভূতি জাগিয়েছে।
অনুষ্ঠানের সভাপতি প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবুল মনছুর বলেন, দ্বীনি শিক্ষার সুপ্রাচীন প্রতিষ্ঠান কাগতিয়া এশাতুল উলুম কামিল এম.এ. মাদরাসা নিভৃত পল্লিতে নাগরিক সব সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করে দ্বীনি শিক্ষা বিস্তারে অবিস্মরণীয় ভূমিকা পালন করছে।
তিনি বলেন, খলিফায়ে রাসূল (দ.) হযরত গাউছুল আজম (রা.) এ মাদরাসার প্রাণপুরুষের ভূমিকা পালন করেছেন। মাদরাসার উন্নতি ও অগ্রগতির জন্য তিনি জীবনের সর্বস্ব উজাড় করে দিয়েছেন। এরই ধারাবাহিকতায় বর্তমান অধ্যক্ষও সেই ধারা বজায় রেখে প্রতিষ্ঠানটির অগ্রযাত্রা অব্যাহত রেখেছেন।
প্রফেসর ড. আবুল মনছুর আরও বলেন, ‘জাহের-বাতেন সমস্ত জ্ঞানের স্রোতধারা এ মাদরাসার মাঝে প্রবাহিত। একজন জ্ঞান অন্বেষণকারী শিক্ষার্থী এই মাদরাসার সংস্পর্শে এসে অমূল্য হয়ে ওঠে।’
তিনি মাদরাসার সুবিশাল অবকাঠামো, একাডেমিক কার্যক্রম, সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার, আধুনিক কম্পিউটার ল্যাব, মানসম্মত শিক্ষক প্যানেল ও সহশিক্ষা কার্যক্রমের কথা তুলে ধরেন। তাঁর মতে, এসবের সমন্বয়ে কাগতিয়া কামিল এম.এ. মাদরাসা দ্বীনি শিক্ষার অনন্য আলোকবর্তিকা হিসেবে শিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
তিনি আরও বলেন, সুনিবিড় শিক্ষা ও নৈতিকতার সমন্বয়ে আলোকিত মানুষ গড়ে তোলার মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে মাদরাসাটি ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করে চলছে।
অনুষ্ঠানে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলরের একান্ত সচিব ও সহকারী অধ্যাপক (ইংরেজি) আশফাক আখতারসহ মাদরাসার শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথি মাদরাসা প্রাঙ্গণে একটি গাছ লাগিয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। পরে মিলাদ ও কিয়াম অনুষ্ঠিত হয়। দেশ, জাতি ও বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি এবং কাগতিয়া আলীয়া গাউছুল আজম দরবার শরীফের প্রতিষ্ঠাতা হযরত শায়খ ছৈয়্যদ গাউছুল আজম (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু)-এর ফুয়ুজাত কামনা করে বিশেষ মুনাজাত করা হয়।














