কক্সবাজার প্রতিনিধি »
কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় অভিযান চালিয়ে দ্বীপের শীর্ষ জলদস্যু হিসেবে পরিচিত মোশারফ বাহিনীর প্রধান মোশারফ হোসেন তার দুই সহযোগীসহ গ্রেফতার হয়েছেন। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৮টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ২২ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার (১ ফেব্রুয়ারি) রাতে দ্বীপের বড়ঘোপ মুক্তমঞ্চ সংলগ্ন ঝাউ গাছ এলাকা হতে র্যাব-৭ চট্টগ্রামের সদস্যরা বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করেছে বলে জানিয়েছেন র্যাব-৭, চট্টগ্রামের সিনিয়র সহকারি পরিচালক নুরুল আবছার।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন, কুতুবদিয়ার আবদুল হাদি সিকদার পাড়ার বাসিন্দা শাহাবুদ্দিনের ছেলে মোশারফ হোসেন (২৮), একই এলাকার জাবেদ আহমদের ছেলে মো. রবিউল হাসান (২০) ও দ্বীপের সন্দিপ পাড়ার নুরুল আবছারের ছেলে মোহাম্মদ আজিজ (২৩)।
র্যাব-৭, চট্টগ্রামের সিনিয়র সহকারি পরিচালক নুরুল আবছার জানান, কতিপয় অস্ত্রধারি জলদস্যু কক্সবাজারের কুতুবদিয়া বড়ঘোপ মুক্তমঞ্চ সংলগ্ন ঝাউগাছের সশস্ত্র অবস্থায় অবস্থান করছে এমনটি জেনে র্যাব-৭, চট্টগ্রামের একটি আভিযানিক দল অভিযান চালায়। এসময় মোশারফসহ তিনজনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হন। গ্রেফতারকালীন মোশারফ হোসেনের কোমরে গোজানো অবস্থায় দেশীয় তৈরি একটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়। পরে তাদের জিজ্ঞাসাবাদে উপজেলার শিকদার পাড়া এলাকায় একটি ছাপড়া ঘরের ভেতর হতে একটি প্লাষ্টিকের বস্তা বের করে দেয়া হয়। বস্তার ভিতর হতে ৩টি এসবিবিএল, ৪টি এলজি এবং ২২ রাউন্ড গুলি জব্দ করা হয়।
তিনি আরও জানান, গ্রেফতারকৃতরা জিজ্ঞাসাবাদে অকপটে স্বীকার করেছে- জব্দকৃত অস্ত্র দ্বারা তারা এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে লবণ চাষীদের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় ও ডাকাতি করে আসছে। সিডিএমএস পর্যালোচনায় ধৃত জলদস্যু মোশারফ হোসেনের নামে কক্সবাজারের কুতুবদিয়া এবং চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানায় সরকারী সম্পত্তি আত্মসাত, সস্ত্রাসী, ডাকাতি, চাঁদাবাজি, হত্যাচেষ্টা এবং মাদক সংক্রান্তে অর্ধডজন মামলা পাওয়া যায়।
তাদের বিরুদ্ধে উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদ সংক্রান্তে অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের নিমিত্তে কুতুবদিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
কুতুবদিয়া থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, র্যাব-৭, চট্টগ্রাম কর্তৃক হস্তান্তর করা তিন যুবকের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।












