২৩ অক্টোবর ২০২৬

গাড়িতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্টিকার লাগিয়ে ইয়াবা পাচার, দুই নারীসহ আটক ৩

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্টিকার লাগানো একটি প্রাইভেট কার ব্যবহার করে ইয়াবা পাচারের সময় দুই নারীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। এ সময় বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা ৬ হাজার ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার এবং ব্যবহৃত প্রাইভেট কারটি জব্দ করা হয়েছে।

বুধবার (১৫ জুলাই) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের রামু উপজেলার রাবার বাগান এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তাররা হলেন— কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার শালুকিয়া গ্রামের সাব্বির হোসেন (৩৬), নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার সিমা ইসলাম (২২) এবং ঢাকার মিরপুর এলাকার উর্মি আক্তার ঊষা (১৯)।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কক্সবাজার কার্যালয়ের উপপরিচালক সোমেন মণ্ডল জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পর্যটকবেশে ইয়াবা পাচারের তথ্য পেয়ে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের রামু রাবার বাগান এলাকায় চেকপোস্ট বসানো হয়। পরে একটি সাদা রঙের টয়োটা প্রাইভেট কার থামিয়ে তল্লাশি চালানো হলে বিশেষভাবে স্কচটেপ ও টিস্যু পেপারে মোড়ানো তিনটি পোটলা উদ্ধার করা হয়।

তিনি জানান, প্রতিটি পোটলায় ১০টি করে পলিপ্যাকেট ছিল। প্রতিটি প্যাকেটে ২০০টি করে মোট ৬ হাজার ইয়াবা ট্যাবলেট পাওয়া যায়। অভিযানের সময় চারটি স্মার্টফোনও জব্দ করা হয়েছে।

ডিএনসির কর্মকর্তারা জানান, জব্দ করা গাড়িটির সামনের গ্লাসে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও মিরপুর ডিওএইচএস-এর স্টিকার লাগানো ছিল। এছাড়া গাড়ির ফিটনেস সনদ ও ট্যাক্স টোকেনও উদ্ধার করা হয়েছে। স্টিকারগুলো বৈধভাবে ব্যবহৃত হচ্ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

সোমেন মণ্ডল আরও জানান, গ্রেপ্তার তিনজনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে রামু থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

তিনি বলেন, পর্যটক সেজে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে কক্সবাজারে এসে মাদক পাচারের প্রবণতা বেড়েছে। মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার করেও ইয়াবা পরিবহনের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। এসব রোধে গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।

রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, গ্রেপ্তার তিন আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলার তদন্ত চলছে।

আরও পড়ুন