২৩ অক্টোবর ২০২৬

চট্টগ্রামে কোরবানির পশুর ঘাটতি, ভরসা বাইরের জেলার ওপর

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে চট্টগ্রামে বাড়ছে কোরবানির পশুর সরবরাহ। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ইতোমধ্যে গরু, ছাগল ও মহিষ আসতে শুরু করেছে নগরীর বিভিন্ন পশুর হাটে। এবার চট্টগ্রামে কোরবানির পশুর চাহিদা ৮ লাখ ১৮ হাজার ৬৭১টি বলে জানিয়েছে প্রাণিসম্পদ অধিদফতর। এর বিপরীতে স্থানীয় খামারিদের কাছে মজুত রয়েছে মাত্র ৭ লাখ ৮৩ হাজার ১৫১টি পশু।

চট্টগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এবার জেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা ধরা হয়েছে ৮ লাখ ১৮ হাজার ৬৮১টি। এর বিপরীতে স্থানীয় খামারিদের কাছে মজুত রয়েছে মাত্র ৭ লাখ ৮৩ হাজার ১৫১টি পশু। অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় প্রায় ৩৫ হাজার পশুর ঘাটতি রয়েছে, যা গত কয়েক বছরের তুলনায় বড় ব্যবধান।

প্রাণিসম্পদ বিভাগের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০২৪ সালে উৎপাদন ছিল ৮ লাখ ৫২ হাজার ৩৫৯টি এবং ২০২৩ সালে ছিল ৮ লাখ ৪২ হাজার ১৬৫টি। সেই ধারাবাহিকতা ভেঙে চলতি বছর উৎপাদন ৭ লাখ ৮৩ হাজারে নেমে আসাকে ডেইরি খাতের জন্য বড় সংকেত হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

খামার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উৎপাদন আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় আসন্ন কোরবানির ঈদে পশুর দাম সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে যেতে পারে।

বিশেষ করে রাজশাহী বিভাগের নওগাঁ, বগুড়া ও সিরাজগঞ্জ থেকে প্রতিবছরের মতো এবারও বিপুলসংখ্যক পশু চট্টগ্রামের বাজারে আসবে। নগরীর পাহাড়তলীসহ বিভিন্ন পশুর হাট ঘিরে ইতোমধ্যে জমতে শুরু করেছে বেচাকেনার প্রস্তুতি।

খামারিরা বলছেন, গোখাদ্য ও পরিচর্যার খরচ বেড়ে যাওয়ায় এবার পশুর ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়ে কিছুটা শঙ্কা রয়েছে। তবে ঈদকে কেন্দ্র করে বাজারে ভালো চাহিদা থাকবে বলেও আশা করছেন তারা।

প্রাণিসম্পদ সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সুস্থ ও প্রাকৃতিক উপায়ে মোটাতাজাকৃত পশু বাজারে আনতে খামারিদের নিয়মিত পরামর্শ ও চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। এতে ক্রেতাদের আস্থা বাড়বে এবং খামারিরাও লাভবান হবেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

চট্টগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, ‘চট্টগ্রামে যে সামান্য ঘাটতি রয়েছে, তা দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা পশু দিয়ে পূরণ হবে। বিশেষ করে বগুড়া, দিনাজপুর, কুষ্টিয়াসহ বিভিন্ন এলাকার বেপারীরা প্রতিবছরের মতো এবারও পশু নিয়ে আসবেন।’

তিনি বলেন, পার্বত্য তিন জেলাতেও চাহিদার তুলনায় পশু উদ্বৃত্ত রয়েছে। সহযোগিতার জন্য উপজেলা অফিসে যেতে হবে। না গেলে কীভাবে সহযোগিতা করবে? আর বড় খামারিরা অনেক সময় সহযোগিতাই চান না। লোনের বিষয়টি ব্যাংকের ওপর নির্ভর করে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের কাছে রেফারেন্সের জন্য এলে আমরা সর্বোচ্চ সহযোগিতা করি। ওষুধের বিষয়ে আমাদের তেমন বাজেট থাকে না। যতটুকু থাকে, তা গরিব ও অসহায়দের দেওয়া হয়। কোনো উপজেলা অফিসে গিয়ে সহযোগিতা না পেলে লিখিত অভিযোগ দিলে আমরা ব্যবস্থা নেব।’

আরও পড়ুন